Monday, September 27, 2021
Home জাতীয় ধর্ষণের শিকার নারী-শিশুর পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রকাশ

ধর্ষণের শিকার নারী-শিশুর পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রকাশ

আ. জা. ডেক্স:

যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার জীবিত বা মৃত নারী ও শিশুর পরিচয় (পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ছবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলের নামসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য) গণমাধ্যমে প্রচার-প্রকাশ না করতে নির্দেশ দিয়ে জারি করা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে লিখিত আদেশ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এর আগে গত ৮ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার লিখিত এ আদেশ প্রকাশ করা হয়। আদালতের আদেশে অনলাইন, সংবাদপত্র ও স¤প্রচার মাধ্যমে এসব প্রচার ও প্রকাশ বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য সচিব, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে জানাতে বলেছিলেন আদালত। গত ৮ মার্চের রিটের প্রেক্ষিতে দেয়া আদেশে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার জীবিত বা মৃত নারী ও শিশুর পরিচয় (পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ছবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলের নামসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য) গণমাধ্যমে প্রচার-প্রকাশ না করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে অনলাইন, সংবাদপত্র ও সম্প্রচার মাধ্যমে এসব প্রচার ও প্রকাশ বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত আইনের ১৪ ধারার বিধান বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা জানিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে পৃথক প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে এ বিষয়ে আগামী ৩ মে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশ বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি করেছেন আদালত। রুলে ধর্ষণ ও যৌন অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত আইনের ১৪ ধারার বিধান বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা বা ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব, অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ পায়, এমন কোনো সংবাদের লিঙ্ক বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে নাম এ বিষয়েও রুল জারি করা হয়েছে। এছাড়া মামলা তদন্ত বা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীর নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের জন্য মানহানিকর ও অপমানজনক এমন কোনো সংবাদ যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ না করা হয়, তা নিশ্চিতে চার বিবাদীকে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল জারি করা হয়েছে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব,

প্রেস কাউন্সিল ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিটের শুনানি নিয়ে ৮ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে ওইদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন নিজেই, তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমরান আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। ওইদিন মাহফুজুর রহমান মিলন বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার নারীর ছবি এবং পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার বিধান রয়েছে। তবে অনেকাংশে সে বিধানের বাস্তবায়ন লক্ষণীয় নয়। এমন বাস্তবতায় রিটটি করা হয়। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৪ ধারায় সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিত নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে বিধিনিষেধের উল্লেখ আছে। এ বিধান বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ওই রিট করেন, যার ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। এতে বিবাদী করা হয় আইন সচিব, তথ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের। জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন বলেন,

সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এক শিক্ষার্থীর ছবি দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এ ছবি প্রকাশের ঘটনা আমাদের ব্যথিত করে। তাই সংক্ষুব্ধ হয়ে রিট করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, আইনের ১৪ ধারা অনুসারে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। অথচ বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীর ছবি ও তাদের পরিচয় প্রায়ই প্রকাশ ও প্রচার করা হয়, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। আইনের ওই বিধান বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৪(১) ধারা বলছে, আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার হয়েছেন এমন নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা তৎসম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা বা অন্যবিধ তথ্য কোনো সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাবে, যাতে ওই নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায়। আর উপধারা (১)-এর বিধান লঙ্ঘন করলে ওই লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের প্রত্যেকে অনধিক দুই বছর কারাদন্ডের বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদন্ডের বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এর আগে একটি ইংরেজি দৈনিক ধর্ষণের শিকার এক শিশুর ছবি প্রকাশ করে। ওই ছবি প্রকাশে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন এক আইনজীবী। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আইনের সংস্পর্শে আসা কোনো শিশুর ছবি বা পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ট্রেনে ছিনতাই-খুনের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

আ.জা. ডেক্স: ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনে ছিনতাই ও দুই খুনের ঘটনায় রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে।...

জাতিসংঘে ভাষণ: করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয়টি প্রস্তাব

আ.জা. ডেক্স: করোনাভাইরাসকে অভিন্ন শত্রু উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের...

রাজনীতিবিদরা এখন দেশ চালাচ্ছেন না: ফখরুল

আ.জা. ডেক্স: রাজনীতিবিদরা এখন দেশ পরিচালনা করছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি...

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ বিশ্বের যুগান্তকারী ঘটনা: বিএসএমএমইউ উপাচার্য

আ.জা. ডেক্স: জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় দেওয়া ভাষণকে বিশ্বের বুকে এক যুগান্তকারী ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন...

Recent Comments