Wednesday, June 26, 2024
Homeরাজনীতিনতুন শিক্ষা কারিকুলাম শিক্ষক-অভিভাবকরা প্রত্যাখ্যান করেছেন

নতুন শিক্ষা কারিকুলাম শিক্ষক-অভিভাবকরা প্রত্যাখ্যান করেছেন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর চরমোনাই বলেছেন, শিক্ষা কারিকুলামে ইসলামী শিক্ষা না থাকলে আমরা জান দিয়ে তা প্রতিরোধ করব। নতুন শিক্ষা কারিকুলামের মাধ্যমে দেশ ও সমাজ গঠন করা তো দূরের কথা, পরিবার ব্যবস্থা ধ্বংস হবে। এতে শান্তি আসবে না। এই শিক্ষা কারিকুলাম শিক্ষক ও অভিভাবকরা মানেন না, কারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) ‘বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক : বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাছির উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় শিক্ষক ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক আবদুস সবুর।

সেমিনার থেকে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম ২০২১ বাতিলের দাবিতে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে ২৫ জানুয়ারি জেলা/মহানগরে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল বলেন, মুসলমানদের মুসলিম কৃষ্টি-কালচার ও নিয়ম মানতে হবে। শিক্ষা কারিকুলাম ২০২১ এর মাধ্যমে মুসলমান সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা ভুলিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সিংহভাগ জনগণ নেই। ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে জনগণ সরকারকে লালকার্ড দেখিয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চরমোনাই কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানদের দেশে ইমান, ইসলাম, শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে দিতে চায়। এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ বসে থাকবে না।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইয়াকুব হোসেন বলেন, ২০১৯ পর্যন্ত শিক্ষানীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা আনার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমরা তা দেইনি।

পীর চরমোনাইকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আজকেই আন্দোলনের খসড়া কর্মসূচি দিন। আমি ৩৭টি শিক্ষা কমিশন পড়েছি। কিন্তু আলোর মুখ দেখেছে ২০১০-এ। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সমন্বয়ে শিক্ষা কমিশন ও শক্তিশালী কারিকুলাম কমিটি করে দিন।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, দেশে যত ষড়যন্ত্র হয় সব আসে রাজনীতি থেকে। এই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জন্য শুধু সরকার নয়, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকরা দায়ী।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও শিক্ষা সংস্কৃতি ধ্বংস হতে দিতে চাই না। আমাদের শিক্ষা থেকে স্বকীয়তা উঠিয়ে দিয়ে বিপরীতমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আসা হয়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, ইসলামী জনতার একটি বিপরীত শক্তি ক্ষমতায় আছে। এই সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীন থাকবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মুসলিম যে দুরবস্থায় আছে তা পাঠ্যপুস্তক দেখে বোঝা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানদের দেশে কারিকুলাম প্রস্তত করতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের মতামত নেওয়া দরকার ছিল। রাষ্ট্র যদি আমাদের মৌলিক অধিকার মেনে শিক্ষা কারিকুলাম প্রস্তত করত, তাহলে আজকের সেমিনারের প্রয়োজন হতো না।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম, লেখক গবেষক ও কলামিস্ট মুসা আল হাফিজ, শিক্ষক ও গবেষক ড. সরোয়ার হোসেন, ফিলোসফির শিক্ষক আসিফ মাহতাব, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধান সাংবাদিক নেতা মুন্সী আবদুল মান্নান, প্রিন্স ফাহাদ বিশ্ববিদ্যালয় সৌদি আরবের সহকারী অধ্যাপক ড. হাফেজ মাবরুক বিল্লাহ, মাহমুদুল হাসান রায়হান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মনজু, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল কাশেম, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল বশর আজিজী, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল সভাপতি শহিদুল ইসলাম কবির।

Most Popular

Recent Comments