Thursday, August 5, 2021
Home জাতীয় নিজস্ব অর্থায়নে হবে পায়রার রাবনাবাদ চ্যানেলের ড্রেজিং: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব অর্থায়নে হবে পায়রার রাবনাবাদ চ্যানেলের ড্রেজিং: অর্থমন্ত্রী

আ. জা. ডেক্স:

নিজস্ব অর্থায়নে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইন্টেনেন্স ড্রেজিংয়ের কাজ হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো। আগে এটা ছিল জয়েন্টভেঞ্চারে হবে বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে হবে, এখন আর সেটা হচ্ছে না। গতকাল বুধবার দুপুরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ (গতকাল বুধবার) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইন্টেনেন্স ড্রেজিং’ কার্যক্রম পিপিপি পদ্ধতির পরিবর্তে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএডিসি কর্তৃক ভারতের ন্যাশনাল সিড করপোরেশন (এনএসসি) থেকে জেআরও-৫২৪ জাতের ৮০০ মেট্রিক টন মানঘোষিত পাটের বীজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে অতিরিক্ত সচিব জানান। রিজার্ভ থেকে পায়রা বন্দরে যে অর্থ দেয়া হয়েছে সেখান থেকে প্রাইভেট খাত লোন নিতে পারবে কি-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন,

আজকে (গতকাল বুধবার) আমরা ক্রয় কমিটিতে পায়রা বন্দরের কোনো কিছু অনুমোদন দিইনি। তবে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে একটি প্রস্তাব এসেছিল সেখানে সেটা আমরা নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছি। আগামী মিটিংয়ে যখন প্রকিউরমেন্টের জন্য পায়রা বন্দরের বিষয় আসবে তখন জানা যাবে। আজ শুধু আমরা নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছি যে, সরকারি অর্থায়নে করা হবে। আগে আমরা বিদেশি অর্থায়নে জয়েন্টভেঞ্চারে করবো বলছিলাম কিন্তু বিদেশিরা থাকলে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে অনেক। সেজন্য আমরা সরকারি অর্থায়নে নিজেরাই চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, আগে কথা ছিল- বিদেশ থেকে টাকা দিলে করা হবে। সেখানে আমাদের প্রজেক্টের খরচ বেড়ে যায়। সেজন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যেহেতু আমাদের কাছে অর্থ আছে সেজন্য আমরা নিজেদের টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো। আমাদের ৪৪ বিলিয়ন রিজার্ভ থেকে কিছু অর্থ এতে এখানে ব্যয় করবো। আপনারা অপেক্ষা করুন- আগামী মিটিং যখন আসবে তখন আপনাদের বিস্তারিত বলা হবে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- রিজার্ভ থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ফান্ড পাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতও এ ধরনের ফান্ড পাবে কি-না অথবা সুযোগ দেয়া হবে কি-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সো ফার কিছু হয়নি, যা হয়েছে সেটা আপনারা জানেন- আমি নিজেও বলেছি এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, আমরা সে পর্যন্তই আছি। বেসরকারি খাতকে দেয়া যাবে কি-না সেটা আপনারা জানতে পারবেন। আমাদের চাহিদা কত আসছে সেটার ওপর নির্ভর করবে। তবে একটা নীতিমালা তো হবেই। পলিসির ওপর নির্ভর করেই আমরা এটা করবো।

যেহেতু নতুন একটি এলাকা আমরা উন্মুক্ত করলাম সেহেতু এটার ওপর কাজ করা বাকি আছে। সরকারি খাতে পাবে এটা ঠিক আছে এখানে কোনো প্রশ্ন নেই। নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নীতিমালা হলে আপনারা জানতে পারতেন। আমরা কি অর্থ দিয়ে দিয়েছি? যদি অর্থ দেইও তাহলে সরকারের ডান হাত থেকে বাম হাতে যাচ্ছে। সরকার তো একটাই। এখন সরকারি প্রকল্পে যে অর্থ আমরা ব্যয় করি, বিদেশ থেকে টাকা না এনে নিজের টাকায় যদি করতে পারি এটা মঙ্গলজনক নয় কি? এখানে প্রশ্নের কিছু নেই। আওয়ামী লীগ সরকার আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এশিয়ার পঞ্চম টাইগারে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের স্বাধীনতা দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সবাই অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমরা আশা করছি- আগামী দিন ও স্বাধীনতা দিবসগুলো আরও আলোকিত হবে। বাংলাদেশের মানুষ সারা বিশ্বের মানচিত্রে তাদের পরিচয় আরও বলিষ্ঠভাবে স্থান পাবে। আমরা সেই গর্বে গর্বিত। চলতি বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় সকল খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে, আগামী বাজেটেও এই সুযোগ দেয়া হবে কি-না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, গত বছর বাজেটে যে সমস্ত জায়গাগুলো ছিল, তা থাকবে কি-না সেটা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। বলা কোনদিন সম্ভবও হবে না। আগামী বাজেট যেদিন সংসদে উপস্থাপন করা হবে সেদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অনেক বেশি। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন আমার জানার আগ্রহ ছিল পৃথিবীর সব দেশের অবস্থান সম্পর্কে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান কত সেটা জানতে পারি একটু পরে। কারণ তখন বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮০ নম্বরে। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন দেশ নিয়ে পর্যালোচনা করেন এবং তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। তারা উপরের দিকের ৫০টি দেশকে বিবেচনায় নেন। যেহেতু আমরা শীর্ষ ৫০ দেশের মধ্যে ছিলাম না। সেজন্য আমরা কখনও জনসম্মুখে আসতে পারিনি। সেখানে আমরা এখন ৪১ নম্বরে আছি। আর আপনারা জানেন এর মাঝে আমরা গ্রেজুয়েশন করেছি। এর ফলে এখন কেউ আমাদের হতদরিদ্র দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে না। আগে যারা আমাদের নিয়ে নানান নেগেটিভ মন্তব্য করত, এখন আর কেউ করে না। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১০ বছর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আগ পর্যন্ত আমরা অসাধারণ গতিশীলতায় এগিয়েছি। ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ সাল, এরপর ৩০ বছর পর্যন্ত চারটি এশিয়ান টাইগার ধরা হয়। তারা ৬, ৭, ৮ এ অনুপাতে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আর আমরা কিন্তু একই ধারাবাহিকতায় ৬, ৭, ৮ এ চলে গেছি। এতে মনে করেন আমরা যদি আর ৫ বছর থাকি, তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমরা পঞ্চম এশিয়া টাইগার হিসেবে আসতে পারব। করোনায় সবাই ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে, আমাদেরও ক্ষতি হয়েছে। তবে আশা করছি- সারা বিশ্ব আমাদের নিয়ে যে মন্তব্য করে, এশিয়ার টাইগার আমরা হবোই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

টিকা না নিয়ে বের হলে শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়নি: তথ্যমন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কোনো নাগরিক টিকা নেয়া ছাড়া বাইরে...

টিকা ছাড়া চলাফেরায় শাস্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স: আগামী ১১ আগস্ট থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নেয়া ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের কোনো ব্যক্তি বাইরে চলাফেরার...

‘জিনের বাদশা’ সেজে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ৩ সদস্য আটক

আ.জা. ডেক্স: চট্টগ্রামের এক নারীর স্বামী বিদেশ থাকেন। তার দুরারোগ্য ব্যাধি ছিল। এই রোগ থেকে মুক্তির আশায় টেলিভিশনের...

আইটি পণ্য সরবরাহ বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখার নির্দেশ

আ.জা. ডেক্স: তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে জরুরি সেবা খাতের আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে চলমান বিধিনিষেধে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারসহ আইটি পণ্য সরবরাহে...

Recent Comments