Sunday, August 7, 2022
Homeদেশজুড়েজেলার খবরপাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেল ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেল ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা

আ.জা. ডেক্স:

সব ধর্মের মানুষের কাছে পবিত্র হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। মানুষের বিশ্বাস যেকোনো নিয়ত করে এ মসজিদে দান করলে মনের ইচ্ছে পূরণ হয়। এ মসজিদের দানবাক্সে দানের পরিমাণ বাড়ছে বিস্ময়করভাবে। মসজিদের বড় বড় আটটি লোহার সিন্দুকে নগদ টাকা, স্বর্ণসহ মূল্যবান জিনিস জমা পড়ে। সবশেষ গতকাল শনিবার পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে নগদ ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৯ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। দিনভর গণনা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জের এনডিসি সৌরভ হাসান। গণনার সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত মসজিদটি ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। চমৎকার এর ইমারত আর নির্মাণশৈলী মন কাড়ে যে কারও। দৃষ্টিনন্দন এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র মুসলমানদের কাছেই নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছেও পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। দেশের মানুষের কাছে অবাক বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে ধর্মীয় এ প্রতিষ্ঠানটির দানবাক্সে দানের টাকার পরিমাণ নিয়ে। মসজিদের বড় বড় লোহার সিন্দুকগুলো খোলা হয় তিন থেকে চার মাস পর পর। তাতে পাওয়া যায় কাড়ি কাড়ি টাকা, বিদেশি মুদ্রা আর স্বর্ণালঙ্কার। দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ এ মসজিদের মানত করতে আসেন। দান করেন নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার ছাড়াও, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র।

গতকাল শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়। ১২টি বস্তায় টাকা ভর্তি করে মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী, ৫০ জন কর্মচারী, আনসার বাহিনী ও রুপালি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দিনভর টাকা গুণে বিকেলে পুলিশ প্রহরায় পাঠানো হয় ব্যাংকে। এবার চার মাস ২৬ দিন পর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৯ টাকা। এর আগে সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন সর্বোচ্চ দুই কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ পাওয়া যায়। দানের টাকায় মসজিদ কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসার খরচ চালানোর পর অতিরিক্ত টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এর আয় থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় অনুদান দেয়া হয়। এ ছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসায় মসজিদের তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। মসজিদে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। পদাধিকার বলে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক। ২০০২ সালে মসজিদ ক্যাম্পাসে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৩ একর ৮৮ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সটি ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে পরিচালনা করছে ওয়াক্কফ প্রশাসন। জনশ্রæতি আছে, আড়াইশ বছর আগেঈশাখাঁর শাসনামলে খর¯্রােতা নরসুন্দা নদীর মাঝখানে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তি মাদুর পেতে ভেসে এসে মসজিদের কাছে আশ্রয় নেন। পরে ওই পাগলের মৃত্যুর পর তার সমাধির পাশে মসজিদটি গড়ে উঠে। পাগলের নামানুসারে এটির নাম হয় পাগলা মসজিদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments