Friday, December 9, 2022
Homeজামালপুরপুলিশের হস্তক্ষেপে বিয়ে হলো অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর

পুলিশের হস্তক্ষেপে বিয়ে হলো অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর

আ.জা. ডেক্স:

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য হয় মেয়েটি। একপর্যায়ে হয়ে পড়েন অন্তঃসত্ত¡া। এরপরই বেঁকে বসে প্রেমিক। তাকে বিয়ে করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। নানা জায়গায় ধর্না দিয়েও সুরাহা হচ্ছিলো না বিষয়টির। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে সংসার পেয়েছে মেয়েটি। গতকাল শুক্রবার পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মো. সোহেল রানা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মেয়েটির বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি। দীর্ঘ আট বছরের প্রেমের সম্পর্ক টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থানা এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। সম্পর্কের সূত্র ধরে পারিবারিকভাবেও জড়িয়ে পড়ে দুই পরিবার। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবেই মেয়েটির সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের খরচ যোগাতে জমিও বিক্রি করেন মেয়েটির বাবা। বিয়ের আশ্বাসে ছেলেটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য হয় মেয়েটি। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। মেয়েটির সঙ্গে বেশ কিছুদিন মেশার পর ছেলেটি বিয়ে নিয়ে গড়িমসি করতে থাকে। বিয়ের তারিখ পেছাতে থাকে। একদিন জানিয়ে দেয়, মেয়েটিকে সে বিয়ে করবে না। বিয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় দেনদরবার করে মেয়েটি ও তার পরিবার। এতে দুই পরিবারের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। ছেলের পরিবারও একপর্যায়ে ছেলেটির পক্ষে অবস্থান নেয়। ছেলেটির পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার বড় ভাই এলাকার প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। এদিকে, পেটে বাচ্চা নিয়ে মেয়েটি অসহায় হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মেয়েটির পরিবারও এই লড়াইয়ে তাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একা হয়ে পড়ে মেয়েটি।

আর কোনো উপায় না দেখে বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্সকে তার অসহায়ত্বের কথা জানায় মেয়েটি। পুলিশের সহযোগিতা চায় সে। তবে ছেলে বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। সে চায় তাকে বিয়ে করে সম্মানজনকভাবে ঘরে তুলে নেয়া হোক। এই বার্তা গ্রহণ করে পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থানার ওসি মো. চান মিয়ার কাছে পাঠিয়ে এ বিষয়ে তাকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনার প্রেক্ষিতে, ওসি ধনবাড়ি ছেলেটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্থানীয় অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে সম্পৃক্ত করেন। ওসি ধনবাড়ি মো. চান মিয়ার অসাধারণ উদ্যোগ ও আয়োজনে এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ছেলে ও মেয়ে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত ৮ জুন বিয়ে হয়।

মেয়েটি বাংলাদেশ পুলিশকে লিখেছে, সব আশা ভরসা যখন শেষ হয়ে গেছে, বাঁচার ইচ্ছে পর্যন্ত শেষ হয়ে গিয়েছিল, মানসিক ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম, সেই মুহূর্তে আপনারা আমাকে নতুনভাবে বাঁচার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সে আরও লিখেছে, একজন সাধারণ মেয়ের পাশে থেকে, আপনাদের একান্ত প্রচেষ্টায় আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য আল্লাহর দরবারে হাজার শুকরিয়া জানাই। আপনাদের মানবিক কাজের জন্য আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। আপনাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। তবে, নামাজ পড়ে দোয়া করবো সারাজীবন।

বিয়ের পর একাধিকবার মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। কথা হয়েছে তার স্বামীর সঙ্গেও। মেয়েটি জানিয়েছে, খুব ভালো আছে। সর্বশেষ ৭ জুলাই মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেছে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স। সে জানিয়েছে, তারা উভয়েই ভালো আছে। সুখী দম্পতি হিসেবে সংসার জীবনযাপন করছে। প্রচলিত পুলিশিংয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মানসিক নৈকট্য তৈরি ও সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানে নানা প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সর্বোচ্চ কল্যাণ ও সুরক্ষা বিবেচনায় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিষয়াদির নাম পরিচয় প্রকাশ না করার পলিসি অনুসরণ করে থাকে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments