Saturday, July 31, 2021
Home জাতীয় প্রকল্পের ধীরগতিতে সংসদীয় কমিটির অসন্তোষ

প্রকল্পের ধীরগতিতে সংসদীয় কমিটির অসন্তোষ

আ. জা. ডেক্স:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটি মনে করছে, প্রকল্প কাজে ধীরগতি এবং আর্থিক সুশাসন না থাকায় সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে। গতকাল রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩৮টি প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩৮টি প্রকল্পের মধ্য ২৫ শতাংশের নিচে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ১৩টি প্রকল্পের, ৫০ শতাংশের নিচে ৮টি ৫১-১০০ শতাংশের ১৬টি, আর একটি প্রকল্প শতভাগ কাজ করেছে। ৪২৮ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের দুই বছরে অগ্রগতি মাত্র কাজ হয়েছে ৬ শতাংশ। আর ব্যয় ১৯৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, যা মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রকল্পের জন্য একটি ফোর হুইলার, ৫টি ডাবল কেবিন পিক-আপ, একটি মাইক্রোবাস এবং ৪১৮টি মোটরসাইকেল কেনা হয়েছে। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আবদুস শহীদবলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় সঠিক না হলে সরকারের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। কোনও প্রকল্পে শম্বুক গতি হলে এবং আর্থিক সুশাসন না থাকলে লক্ষ্য অর্জন পূরণ হয় না।

মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের দুরাবস্থার কারণে আস্থা কমেছে। এরকম গাফিলতি হলে কীভাবে হবে?’ এলডিডিপি প্রকল্প নিয়ে সভাপতি বলেন, ‘২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা যে প্রকল্প, দুই বছরে তার কাজ হয়েছে হয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ। গাড়ি কেনা ছাড়া আর কোনও কাজই করেনি। প্রকল্পের টাকায় ৪৯১টি মোটরসাইকেল কেনা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, তারা মোটরসাইকেলগুলো উপজেলা কার্যালয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি কোনও উপজেলায় এই প্রকল্পের কোনও মোটরসাইকেল দেখিনি। এগুলো কোথায় তাহলে? আমরা আগামী এক মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের সার্বিক কাজ নিয়ে কমিটিতে প্রতিবেদন দিতে বলেছি।’ এই প্রকল্পের অধীনে করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের প্রণোদনা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে জানান আবদুস শহীদ। তিনি বলেন, ‘কমিটি জানতে চাইলে তারা বলেছে, অর্থ ছাড় হয়নি ইত্যাদি নানা অজুহাত। আমরা জানতে চেয়েছি, কেন প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। এখনও না দিলে কবে দেওয়া হবে?

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে গাড়ি কেনা বাদে প্রকল্পটির আর কোনও বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় এবং প্রকল্পের গাড়ি ও মোটরসাইকেল প্রকল্পের কাজের বাইরে ব্যবহার নিয়ে কমিটির পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এদিকে মৎস্য অধিদফতর থাকার পরেও মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির সভাপতি বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এত অধিফতর। তার ওপর আবার করপোরেশনের কাজ কী? তারা জানিয়েছে, ১০ কোটি টাকা লাভ করেছে। কিন্তু ওই করপোরেশনে ২৯৭ জন লোকবল। তাহলে লাভ কীভাবে হলো? লোকবলের বেতন-ভাতা কত? সরকারের কাজ কী ব্যবসা করা? সরকারতো সেটা করে না।’ বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প শুরু হয় ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি। ২০২২ সালে এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। এখনও পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ২ শতাংশ। ৩৪৫ কোটি ২ লাখ ৯৯ টাকার এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে, ৬ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের জুন মাসে। ২০২৩ সালের জুনে এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাজ হয়েছে ১০ শতাংশ। এক হাজার ৮৬৮ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩৮ কোটি ৬৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এদিকে অধিদফতর থাকার পরেও মন্ত্রণালয় ই-সেবা কার্যক্রম নিয়ে প্রকল্প কেন নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছে কমিটি। আবদুস শহীদ বলেন, ‘মন্ত্রণালয় নিজে প্রকল্প নিত পারে কিনা, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রকল্প নেওয়ার যে নীতিমালা সেখানে এটি পারমিট করে কিনা, তা জানাতে বলেছি।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৫টি প্রকল্পের কাজে আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি সমান থাকায় বিষয়টি তদারকি করে মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকার সময়ে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সমুদ্রসম্পদ আহরণের সম্ভাব্য ক্ষেত্র খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। করোনাভাইরাস মহামারিকালে খামারিদের সাহায্য প্রদানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়ন কীভাবে করা হয়েছে এবং হালদার উন্নয়ন নিয়ে কী কীপদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য কমিটি সদস্য চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, এ বি তাজুল ইসলাম, বজলুল হক হারুন, আহসান আদেলুর রহমান, ওয়াসিকা আয়শা খান এবং খাদিজাতুল আনোয়ার বৈঠকে অংশ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আশ্রিতাদের মুখে মলিণ হাসি

মোহাম্মদ আলী: আজকের রমরপাড়ার আশ্রিতদের ছিল ভাসমান বসতি। শেষ আশ্রয় ছিল ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের সামনে। সেখান থেকে ঠাঁয় হয়েছে...

জামালপুরে শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা পেলেন পুলিশ সুপারের আর্থিক সহায়তা

এম.এ.রফিক: জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মোছাঃ শাহিদা খাতুনকে গতকাল বুধবার তার চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার...

জামালপুর পৌরসভায় মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামালপুর পৌরসভায় কাউন্সিলর ও পৌর কর্তৃপক্ষের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জামালপুর পৌরসভা মিলনায়তনে...

ইসলামপুরে লকডাউনে খোলা দোকান পাট, মাইকিং করে চলছে খেলার আয়োজন

ওসমান হারুনী: জামালপুরের ইসলামপুরে ‘কঠোর লকডাউনে’ খোলা রয়েছে দোকান-পাট, হাট-বাজার। বাজার ও সড়কে বাড়ছে মানুষের ভীড়। সেই সাথে বিভিন্ন্...

Recent Comments