Thursday, August 11, 2022
Homeজাতীয়প্রাথমিকভাবে স্মার্ট আইডি কার্ড পাচ্ছেন ২৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা

প্রাথমিকভাবে স্মার্ট আইডি কার্ড পাচ্ছেন ২৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মল হক। প্রাথমিকভাবে ১৭ জেলার মোট ২৪ হাজার ৭৬১ জন মুক্তিযোদ্ধা স্মার্ট আইডি কার্ড এবং ৪৬ হাজার ৮০৩ জন ডিজিটাল সার্টিফিকেট পাচ্ছেন।

ডিজিটাল সার্টিফিকেটধারীর মধ্যে জীবিত ২৪ হাজার ৭৬১ জন এবং মৃত ২২ হাজার ৪২ জন।


বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।

অনুষ্ঠানে ১৭টি জেলার জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, এরইমধ্যে ১৭টি জেলার ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড প্রিন্টিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জেলাগুলো হলো- কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর, নড়াইল, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ঢাকা, শরিয়তপুর, মেহেরপুর ও নারায়ণগঞ্জ।


বাকি ৪৭টি জেলার ডিজিটাল সার্টিফিকেট এবং স্মার্ট আইডি কার্ডের প্রিন্টিং কাজ দেড় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।

জেলাভিত্তিক স্মার্ট আইডি কার্ড ও ডিজিটাল সার্টিফিকেটধারীর সংখ্যা

কিশোরগঞ্জে ১ হাজার ৭৫৫ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ৩ হাজার ৫২২ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, গোপালগঞ্জে ২ হাজার ৭৪৫ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ৫ হাজার ২৫০ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, গাজীপুরে ১ হাজার ৭৩৪ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ৩ হাজার ৫৫ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, মাদারীপুরে ১ হাজার ৪৬০ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ২ হাজার ৫৬৬ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, নড়াইলে ১ হাজার ২৪০ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ২ হাজার ৩২৪ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, মৌলভীবাজারে ৬৪৪ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ১ হাজার ৪৭১ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, হবিগঞ্জে ৯২৮ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ২ হাজার ৪৭ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, সুনামগঞ্জে ১ হাজার ৭১১ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ৩ হাজার ৯৬৭ ডিজিটাল সার্টিফিকেট বিতরণ করা হবে।

বাগেরহাটে ২ হাজার ৩২৪ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ৪ হাজার ৩৬২ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, সাতক্ষীরায় ১ হাজার ২৩১ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ২ হাজার ১৩১ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, যশোরে ১ হাজার ৪৮৪ স্মার্ট আইডি কার্ড ২ হাজার ৭০৬ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, ঝিনাইদহে ১ হাজার ১১৯ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ২ হাজার ৭৪ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, মাগুরায় ৯১৭ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ১ হাজার ৬১৬ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, ঢাকায় ২ হাজার ৫১৬ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ৪ হাজার ২৫৫ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, শরিয়তপুরে ১ হাজার ৩০৯ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ২ হাজার ৩১০ ডিজিটাল সার্টিফিকেট, মেহেরপুরে ৪৫২ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ৮৬৪ ডিজিটাল সার্টিফিকেট এবং নারায়ণগঞ্জে ১ হাজার ১৯২ স্মার্ট আইডি কার্ড ও ২ হাজার ২৮৩ ডিজিটাল সার্টিফিকেট বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া বলেন, বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। এ জাতির জাতিসত্তা রক্ষা, আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব পুনরুদ্ধারে এ দেশের আপামর জনসাধারণ ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অগনিত মানুষের চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট এবং স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণের এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহানগরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। জেলাভিত্তিক ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.molwa.gov.bd) প্রকাশিত সমন্বিত তালিকা যাচাই করে বিতরণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সমন্বিত তালিকায় নাম না থাকলে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে পাঠানো ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখতে হবে। সমন্বিত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সমন্বিত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম সমন্বিত তালিকায় থাকা সত্ত্বেও কোনো কারণে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড প্রিন্ট হয়নি তাদের এমআইএস নম্বরসহ নামের তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানোর পর পরবর্তীতে তাদের নামে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড পাঠানো হবে। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা এরইমধ্যে মারা গেছেন তাদের নামে পাঠানো ডিজিটাল আইডি কার্ড বিতরণ স্থগিত রেখে শুধুমাত্র ডিজিটাল সার্টিফিকেট বিতরণ করতে হবে। স্থগিত ডিজিটাল আইডি কার্ড মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ফেরত পাঠাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ডে তথ্যগত ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য কার্ড বিতরণের দুই মাসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করতে হবে। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সমন্বিত তালিকায় অর্থভুক্ত হয়নি সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখতে হবে। কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে শুনানিতে থাকলে তাদের কার্ড বিতরণ বন্ধ রাখতে হবে।

উপজেলা থেকে সুপারিশ ছাড়া কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম সমন্বিত তালিকায় উঠে থাকলে তাদের কার্ড বিতরণ বন্ধ রাখতে হবে উল্লেখ করে সচিব বলেন, এরইমধ্যে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বা সনদ বাতিল হয়ে থাকলে তাদের কার্ড বিতরণ বন্ধ রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments