Thursday, April 22, 2021
Home জামালপুর বকশিগঞ্জ মাদারচরের গুচ্ছগ্রামের মানুষের ঘরে বাস করছে গরু ছাগল

বকশিগঞ্জ মাদারচরের গুচ্ছগ্রামের মানুষের ঘরে বাস করছে গরু ছাগল

মোহাম্মদ আলী:
তৈরী হয়েছিল মানুষের বসতি হিসেবে। বরাদ্দও হয়েছিল মানুষের নামে। কিন্তু মানুষের ঘরে থাকেন না মানুষ। তাদের ঘরগুলোতে ঠাঁয় হয়েছে গরু ছাগলের। অকেজু হয়েছে টিউবওয়েল টয়লেট। ভেঙ্গে পড়ছে ঘরে দরজা জানলা। বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মাদারের চর গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো। বৃহস্পতিবার, বকশিগঞ্জ মাদারেরচর গুচ্ছগ্রাম সরেজমিন গেলে এমন চিত্র নজরে পড়ে আজকের জামালপুরের। জানা যায়, ২০১৮/১৯ অর্থবছরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বকশিগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের মাদারের চরে মাদারের চর গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করেন উপজেলা প্রশাসন। দুই কক্ষ বিশিষ্ট ৯০টি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয় এই গুচ্ছ গ্রামে। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ হয় প্রায় লাখ টাকা। ৯০টি ঘর ৯০টি দুঃস্থ, ভূমিহীন পরিবারের মাঝে বরাদ্দ করার কথা থাকলেও তা যথাযথ হয়নি। গুচ্ছগ্রামের কিছু ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ হলেও সিংহভাগ ঘর পায় যাদের আগে থেকেই ঘর রয়েছে তারা। ফলে শুরু থেকেই স্বার্থকতা মিলেনি সরকারি এ কর্মযজ্ঞের। তাই, ১০ থেকে ১৫ পরিবার নিয়ে যাত্রা শুরু হয় মাদারের চর গুচ্ছগ্রামের। বিগত ৩ বছরেও বাড়েনি পবিারের সংখ্যা বরং কমেছে। ফলে মানুষের ঘরে মানুষ না থাকায় অযত্নের আর অবহেলায় বিরানভূমি পরিণত হয়েছে লোকালয়টি। অকেজু হয়ে পড়েছে টিউব টয়লেট, ভেঙ্গে পড়ছে ঘরের বেড়া ও দরজা জানলা। মানুষের সেই ঘরগুলোতে এখন ঠাঁয় হয়েছে গরু ছাগলের। যে ১০/১২ ঘরে মানুষ বসবাস করছেন তারাও আছেন অতিকষ্টে।

নেই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ। মাদারেরচর গুচ্ছ গ্রামে বসাবাসরত মতিউর রহমান মতি বলেন, শুরু থেকেই আমরা এখানে ১৫/১৬টি বসবাস করছি। প্রথম দিকে পানি খাবার মতো ১৬টি টিউবওয়েল থাকলে এখন রয়েছে ৪টি। এছাড়া বিদ্যুৎ নাথাকায় অন্ধকারের মাঝে অনিরাপত্তায় রাত কাটে আমাদের। গুচ্ছগ্রামে আশ্রিত হওয়ায় অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধাও আমরা খুব একটা পাই না। বর্তমানে এখানে বসবাসে অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেকে ঘর পেয়েও থাকে না এখানে। এলাকাবাসী জানান, গুচ্ছগ্রামে সুবিধাভোগী নির্বাচন ও তালিকা গঠণেই অনিয়ম হয়েছে। যাদের ঘর পাওয়ার কথা ছিল তারা পায়নি। আর যারা পেয়েছে তাদের বেশিরভাগেরই আগে থেকেই ঘর রয়েছে। এবং তাদের সামাজিক অবস্থান ভাল। তাই তারা ভাল ঘর ভাল পরিবেশ ছেড়ে এই বস্তিতে থাকতে রাজি নন। উল্লেখ্য যে, স্থানীয় জালাল মন্ডল নামের এক ব্যক্তির নামেই ৮টি ঘর রয়েছে। তারা কোনোটাতেই থাকেন না। তাদের ঘরে থাকে গরু ছাগল, লাকড়ি ও অন্যান্য মালামাল। এব্যাপারে মেরুরচর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জেহাদ এর মতামত জানতে মোবাইলে যোগাযোগ করা চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মুনমুন জাহান লিজা দুঃখ করে বলেন, খবরটি আমি শুনেছি। মানুষের ঘর বাড়িতে মানুষ না থাকলে এমনিতেই তা পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে। জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সম্পদের জনগণ যদি রক্ষণাবেক্ষণ না করেন তাহলে এমনটা হওয়ায় স্বাভাবিক। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি সুবিধাভোগী প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে হলে গুচ্ছগ্রামটি সংরক্ষণের। এব্যাপারে জেলা পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, বলেও জানিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

বোরো ধানের ফলনে সন্তুষ্ট চাষি : লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, বলছেন কৃষি অফিস

মোহাম্মদ আলী: বোরো মৌসুমে ধান কাটতে শুরু করেছেন জামালপুরের কৃষকরা। মৌসুম শেষে বিঘা প্রতি তারা যে ফলন পেয়েছেন তাতে...

রৌমারীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

রৌমারী সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বালু ব্যবসায়ী চক্র ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে ড্রেজারে বালু উত্তোলনে মরিয়া হয়েছে...

শেরপুরে নারী ইন্টার্ন মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্টকে মারধর করার প্রতিবাদে ১ঘন্টা রাস্তা অবরোধ, আটক-১

নাজমুল হোসাইন: শেরপুরে জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত এক নারী ইন্টার্ন মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্টকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় আরেক ইন্টার্ন মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্টকে...

সাড়ে ১০ লাখ পরিবার প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পাবে বিকাশে

আ.জা. ডেক্স: এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ১০ লাখ দুস্থ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্থিক অনুদান পৌঁছে...

Recent Comments