Tuesday, October 19, 2021
Home অর্থনীতি বন্দরে জট কমাতে আমদানীকৃত পণ্যবাহী কনটেইনার অফডকে সরানো উদ্যোগ

বন্দরে জট কমাতে আমদানীকৃত পণ্যবাহী কনটেইনার অফডকে সরানো উদ্যোগ

আ.জা. ডেক্স:

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিনিয়ত আমদানি পণ্য বোঝাই কনটেইনার জাহাজ থেকে নামানো হচ্ছে। কিন্তু কমে গেছে বন্দর চত্বর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার খালাসের হার। ফলে বন্দরে ভয়াবহ কনটেইনার জটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি হওয়া সব ধরনের পণ্যবাহী কনটেইনার চট্টগ্রামে অবস্থিত ১৯টি অফডকে (বেসরকারি আইসিডি) সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও ব্যবসায়ীরা আগে বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া ৩৮ ধরনের পণ্য বেসরকারি ডিপোতে নিয়ে খালাসের সুযোগ পেতো। বাকি পণ্য বন্দরের অভ্যন্তরে খালাসের ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু বন্দরে ভয়াবহ জটের শঙ্কা দেখা দেয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় অফডক ব্যবহারের সুপারিশ করে। আর ওই সুপারিশের ভিত্তিতেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)অফডকে কনটেইনার সংরক্ষণ, আনস্টাফিং ও ওসব অফডক থেকে খালাসের অনুমোদন দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আমদানিকৃত পণ্যবাহী কনটেইনার অফডকে স্থানান্তরে এনবিআরের পক্ষ থেকে ৪টি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- অফডকগুলোয় স্থানান্তরের সময় শতভাগ কনটেইনার আবশ্যিকভাবে স্ক্যানিং করাসহ রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তাছাড়া অফডকে স্থানান্তরিত সব বাণিজ্যিক পণ্য চালান বাধ্যতামূলকভাবে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আর ওই কাজটি চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে করা হবে। তবে এনবিআরের ওই আদেশটি আগামী ৩১ আগস্টের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। মূলত কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট খারাপ কোনো পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি করতে না হতে পারে সেজন্যই এনবিআরের পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অবশ্য তার আগে খালাস না নেয়ায় জমে থাকা কনটেইনারের ওপর আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের দন্ড ভাড়া আরোপের ব্যাপারে সতর্ক করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনার খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শিগগিরই বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠিতে পরিস্থিতি মোকাবেলায় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া সব ধরনের পণ্যবাহী কনটেইনারই ডিপোগুলোয় নিয়ে খালাসের ব্যাপারে এনবিআরের অনুমতির ব্যবস্থা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। ওই প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে আদেশ দিতে এনবিআরকে অনুরোধ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি হওয়া কনটেইনারের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই পোশাক শিল্পের কাঁচামাল। বন্দরের অভ্যন্তরে ৪৯ হাজার কনটেইনার রাখার জায়গা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কনটেইনার খালাস হয়। প্রতি ঘণ্টায় বন্দর চত্বরে কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে গতকাল পর্যন্ত ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আর ঈদের ছুটির আগের দিন পর্যন্ত ওই সংখ্যা ছিল ৩৮ হাজারেরও কম। ফলে বন্দরে কনটেইনারের স্তূপ বাড়ছে। তাতে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোসহ স্থবিরতার দিকেই এগোচ্ছিল বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম। ইতিমধ্যে এনবিআরের পক্ষ থেকে নতুন এ আদেশ দেয়া হলো।

এদিকে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের মতে, বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনার সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগের ফলে সাময়িক সুবিধা হলেও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ বেসরকারি ডিপোতে খালাসের পদক্ষেপের ফলে আমদানি থেকে রফতানি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটবে। তাছাড়া ওই প্রক্রিয়ায় খরচের পাশাপাশি সময়ও অনেক বেড়ে যাবে। একমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানায় পণ্য আনা-নেয়ার ব্যবস্থা চালু রাখলেই এ সমস্যার সমাধান হবে। সেজন্য উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন পরিচালক খায়রুল আলম সুজন জানান, অফডকে পণ্য সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে সেক্ষেত্রে রফতানিকারকদের যেন কোনো ধরনের অসুবিধা কিংবা দীর্ঘসূত্রতায় না পড়তে হয়, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি বন্দর থেকে এক বিল অব লেডিং কিংবা এক চালানের সব কনটেইনার একসঙ্গে অফডকে নিয়ে আসার ব্যাপারেও প্রাধান্য দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম জানান, এনবিআরের আদেশটির ফলে এখন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে সব ধরনের পণ্যচালান সংশ্লিষ্ট কনটেইনার অফডকগুলোয় নেয়া যাবে। সেখান থেকে খালাস করা যাবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতি রোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি থাকবে।
একই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান জানান, কনটেইনার খালাসের হার কমে বন্দরের কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ার আগেই অফডকে সব ধরনের পণ্যবাহী কনটেইনার সংরক্ষণ ও সেখান থেকে খালাসের ব্যবস্থা হয়েছে। বর্তমান যে পরিস্থিতি, তার সমাধানে এটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। এখন আমদানিকারকরা খালাস না নিলেও তা ডিপোতে স্থানান্তর করা যাবে। ফলে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দিকেই যাবে। বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর চত্বর থেকে পণ্য খালাসের হার স্বাভাবিক রাখতেই হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সময়মতো পণ্যের খালাস নেয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ থাকতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

পাকিস্তানসহ পাঁচ দেশকে আমন্ত্রণ জানালো ভারত

আ.জা. আন্তর্জাতিক: আফগানিস্তানে ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে ভারতের অস্বস্তি কাটছেই না। একদিকে তালেবানের ওপর পাকিস্তানের প্রভাব, অন্যদিকে আফগানিস্তানে দিল্লির...

কুয়েতে তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড

আ.জা. আন্তর্জাতিক: কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি জানিয়েছে, সোমবারের এ...

পতিতাবৃত্তি বন্ধ করতে চান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

আ.জা. আন্তর্জাতিক: আইন করে দেশে পতিতাবৃত্তি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। রোববার তার দল সোস্যালিস্ট...

২০০ নারী-পুরুষের পোশাকহীন ফটোশ্যুট

আ.জা. আন্তর্জাতিক: স্পেন্সার টিউনিক প্রথম মৃত সাগরে তার লেন্স স্থাপন করার ১০ বছর পর বিশ্বখ্যাত এই আলোকচিত্রী আরেকবার...

Recent Comments