Sunday, September 19, 2021
Home জাতীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে সরকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে সরকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ

আ.জা. ডেক্স:

দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে রামপালে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে দুটির পরিবর্তে একটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ফলে অধিগ্রহণ করা জমির একটি বড়ই অংশ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। এখন ওই খোলা খোলা জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ-ভারত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) লিমিটেডকে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোম্পানিটি তাদের বোর্ডে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ফেলে রাখা জমির পুরোটা ব্যবহার করলে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সম্ভব। যদিও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে এতোদিন সুনির্দিষ্ট করে কোন সিদ্ধান্ত না নেয়ায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কাজের অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিপিডিবি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তার মধ্যে এখন ৪৩০ একর জমি উন্নয়ন করে প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ চলছে। ওই জমির মধ্যে ৩৫৫ একর জমিতে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তাছাড়া সেখানে টাউনশিপ, বনায়ন, স্থানীয় কলোনি এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জায়গাও রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম ইউনিটের জন্য ৯১৫ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৬০০ থেকে ৭০০ একরের বেশি জমির প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলে অধিগ্রহণ করা এক হাজার ১০০ একর জমি অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সাড়ে ৩ একর জমি প্রয়োজন ওই হিসাবে ফেলা রাখা জমিতে ৩০০ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

সূত্র জানায়, অতিসম্প্রতি ঢাকায় ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ খাতের স্টিয়ারিং কমিটির আলোচনায় বংলাদেশ বিষয়টি আবারো উত্থাপন করে। ওই প্রেক্ষিতে কোম্পানিটিকে এ বিষয়ে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে কতোটুকু জমি ফাঁকা থাকছে, সেখানে কি পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব এসব বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) যৌথভাবে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট আগামী বছর শেষে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, ভারত এবং বাংলাদেশের যৌথ প্রকল্পগুলোর বিষয়ে এককভাবে কোনো দেশ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। করোনা শুরুর আগে গত বছরের শুরুতে ভারত-বাংলাদেশ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হলেও গত এক বছরের কাছাকাছি সময় আর কোন বৈঠক হয়নি। তাতে করে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যেসব আলোচনা ছিল তা এতোদিন ঝুলে ছিল। এখন উভয় দেশ ওসব ক্ষেত্রে আবার সহায়তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ইস্যু।

এ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন জানান, রামপালের অতিরিক্ত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও এতোদিন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এবার ভারত-বাংলাদেশ বৈঠকে বিআইএফপিসিএলকে এ বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোম্পানিটি তাদের বোর্ডে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ময়মনসিংহে লোডশেডিং দেড়শ’ মেগাওয়াট : নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে মতবিনিময়

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ : দীর্ঘদিন পর লকডাউন তুলে নেয়ার পর ময়মনসিংহের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হলেও প্রতিদিন অসংখ্য বার...

ডিজিটালাইজেশনের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সচেতনতার অভাব: মোস্তাফা জব্বার

ময়মনসিংহ ব্যুরো : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটালাইজেশনের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সচেতনতার অভাব।জনগণকে ডিজিটাল প্রযুক্তির...

সরিষাবাড়ীতে নিখাই গ্রামে গণপাঠাগার উদ্বোধন

আসমাউল আসিফ: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, গ্রামে গ্রামে পাঠাগার’ এই শ্লোগানে সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের স্মৃতি বিজড়িত নিখাই...

সংক্রমন বেড়ে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি

আসমাউল আসিফ: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি বলেছেন, গত বছরের মার্চ মাস থেকে করোনা সংক্রমনের কারনে পাঠদান বন্ধ ছিল,...

Recent Comments