Sunday, June 26, 2022
Homeজামালপুরবিস্ফোরণে হতাহতদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে

বিস্ফোরণে হতাহতদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে

কাঁদছে বাংলাদেশ। সীতাকুণ্ড উপজেলার বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আগুনের ফুলকি আর কান্নার স্রোত প্রত্যেক মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আহতদের চিকিৎসা ও রক্ত জোগান দেওয়া এবং নিহতদের লাশের যথাযথভাবে সৎকারের ব্যবস্থা করা।

ইতোমধ্যেই দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। অর্থ, ওষুধ ও রক্ত সংগ্রহ করছেন। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি হতাহতদের উদ্ধারের কাজে এগিয়ে গেছেন শত শত মানুষ। অনেকেই বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছেন, অনেকেই রক্ত দেওয়ার জন্য গেছেন।

বিষয়গুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ মানুষ ঘটনাস্থলে কাজ করছেন, তাতে লোকের অভাব হয়তো নেই; কিন্তু চিকিৎসাসেবা ও আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশি।

ঘটনাস্থলে পরিচিত কেউ থাকলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে যদি এককোটি মানুষ মাত্র ১০ টাকা করেও সহযোগিতা করে, তাহলে ১০ কোটি টাকার সহযোগিতা হয়ে যায়।

শনিবার (৪ জুন) রাতে সংঘটিত এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর অনেক সময় ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। সময় বাড়ছে, সেইসঙ্গে বাড়ছে কান্নার ঢেউ, নিখোঁজদের স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য যদি মারা যান, সে পরিবারের কী অবস্থা হয় তা শুধু তারাই ভালো জানেন। আহতদের বাকি জীবন কাটাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে।

পরিবারের কাঁধে বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে হয়। একবার বা দু’বার সামান্য কিছু আর্থিক সহায়তা পেলেও বাকি জীবনে তাদের খোঁজ নেয় না কেউই। বছর ঘুরে হয়তো দুর্ঘটনার দিবসটি সামনে এলে মুখরোচক আলোচনা হয় সভা-সেমিনারে। টিভি-পত্রিকাগুলোতে স্মৃতিচারণ করা হয় পেছনের ওই মর্মান্তিক কাহিনি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

এমনকি কয়েক বছর পর দুর্ঘটনার কথা তেমন কারও মনেও থাকে না। হয়তো বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাও অতীতের অন্যান্য দুর্ঘটনার মতোই চাপা পড়ে যাবে। শুধু ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে হতাহতদের পরিবারকে।

অতীতে আমাদের দেশে বড় বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর পুরান ঢাকাসহ কয়েকটি কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ আমরা দেখেছি। আগুনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। সেসব ঘটনায় রাষ্ট্র তৎপর হলেও কোনো লাভ হয়নি। আমরা বড্ড বেহায়া জাতি। খুব সহজেই ভুলে যাই অতীতকে।

এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো অগ্রগতি দেখতে পায় না জাতি। নামেমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অধিকাংশ মালিকপক্ষের কিছুই হয় না। যদিও কেউ শাস্তির আওতায় আসে, আইনের ফাঁক গলিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে দেরি হয় না মোটেও।

দেশে আইনের অভাব নেই। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থারও যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে আইন প্রয়োগে। কিন্তু অভাব শুধু সুচিন্তা ও ইচ্ছাশক্তির। নির্ধারিত এলাকার বাইরে যত্রতত্র যে কোনো কারখানা বা বিস্ফোরক দ্রব্যের গোডাউন গড়ে উঠছে।

ফলে মানবিক বিপর্যয় ও পরিবেশের ভারসাম্য ধ্বংস হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনায় প্রতি বছর প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত মানুষ। কিন্তু আমাদের কোনো বোধোদয় হচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে।

সরিষাবাড়ী, জামালপুর

myjahangir@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments