Saturday, July 31, 2021
Home জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হ্রাস: তালিকাবহির্ভূতদের নাম চেয়ে চিঠি

বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হ্রাস: তালিকাবহির্ভূতদের নাম চেয়ে চিঠি

আ.জা. ডেক্স:

সফটওয়্যারে তালিকা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি ভাতা দিচ্ছে সরকার। এতে দেখা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে করা নতুন এই অনলাইন ব্যবস্থায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২১ হাজারের মতো কমে গেছে। এই অবস্থায় আগে ভাতা পেয়েছেন এখন সফটওয়্যারের আওতায় আসেননি, (এন্ট্রি বহির্ভুত) এমন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা তলব করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ২৫ নভেম্বর সকল জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই তালিকা পাঠাতে হবে। চিঠিতে বলা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সম্বলিত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) ওয়েবলিংক mis.molwa.gov.bd এ এন্ট্রি করা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অক্টোবর-নভেম্বর মাসের সম্মানী ভাতা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের জন্য সম্মানী ভাতা বরাদ্দ দেয়া হয়। দুটি আলাদা বরাদ্দ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদে বরাদ্দ করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা এমআইএসে এন্ট্রি করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিপ্রেক্ষিতে যে বীর মুক্তিযোদ্ধার অনুকূলে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভাতা দেয়া হয়েছিল অথচ এমআইএসের তথ্য এন্ট্রি করা হয়নি এমন সম্মানী ভাতা ভোগীদের তথ্যাদি আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এমএস ওয়ার্ড এবং পিডিএফ আকারে মন্ত্রণালয়ের মেইলে পাঠানোর জন্য ডিসি ও ইউএনওদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে একটি ছকও তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এমআইএসে এন্ট্রি করা নয় এরূপ ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার নাম, পিতার নাম এবং ঠিকানা রয়েছে ছকে। ওই ভাতাভোগীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যে প্রমাণের ভিত্তিতে সম্মানী ভাতা প্রদত্ত তার বিবরণ (ক্রমিক নম্বর সহ), এমআইএস-এ এন্ট্রি না করার কারণ এবং মন্তব্য- এসব তথ্য পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায় থেকে তালিকা পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করা হবে। যারা অনিয়ম করে এতদিন ভাতা নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযাযী, জেলা প্রশাসনের তালিকার ভিত্তিতেই ১ লাখ ৯২ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা পাঠানো হতো। কিন্তু সফটওয়্যারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পর সংখ্যা হয় এক লাখ ৭১ হাজার। বর্তমানে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসিক ১২ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। এ ছাড়া দুই ঈদে ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবসের ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা পান বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আশ্রিতাদের মুখে মলিণ হাসি

মোহাম্মদ আলী: আজকের রমরপাড়ার আশ্রিতদের ছিল ভাসমান বসতি। শেষ আশ্রয় ছিল ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের সামনে। সেখান থেকে ঠাঁয় হয়েছে...

জামালপুরে শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা পেলেন পুলিশ সুপারের আর্থিক সহায়তা

এম.এ.রফিক: জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মোছাঃ শাহিদা খাতুনকে গতকাল বুধবার তার চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার...

জামালপুর পৌরসভায় মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামালপুর পৌরসভায় কাউন্সিলর ও পৌর কর্তৃপক্ষের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জামালপুর পৌরসভা মিলনায়তনে...

ইসলামপুরে লকডাউনে খোলা দোকান পাট, মাইকিং করে চলছে খেলার আয়োজন

ওসমান হারুনী: জামালপুরের ইসলামপুরে ‘কঠোর লকডাউনে’ খোলা রয়েছে দোকান-পাট, হাট-বাজার। বাজার ও সড়কে বাড়ছে মানুষের ভীড়। সেই সাথে বিভিন্ন্...

Recent Comments