Monday, May 10, 2021
Home জাতীয় বেবিচকের পাওনা হাজার হাজার কোটি টাকা পরিশোধে গড়িমসি করছে বিমান

বেবিচকের পাওনা হাজার হাজার কোটি টাকা পরিশোধে গড়িমসি করছে বিমান

আ.জা. ডেক্স:

বাংলাদেশে আকাশপথে পরিচালিত দেশী-বিদেশী সব এয়ারলাইন্সকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) নিয়মিত পাওনা দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বার বার তাগিদ দেয়া হলেও বেবিচকের পাওনা দিচ্ছে না। বরং বছরের পর বছর ধরে ওই পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। আর বাকি রাখতে রাখতে বেবিচকের কাছে বিমানের দেনা জমেছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। পাওনা পরিশোধের জন্য বেবিচক নিয়মিত চিঠি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিমান তা কবে নাগাদ তা পরিশোধ করবে তার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। বিমানের কাছে এত বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা থাকায় উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেবিচক আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অথচ পাওনা টাকা আদায় করা সম্ভব হলে বেবিচক অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প ত্বরান্বিত করতে পারতো। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে পাওনা পরিশোধে তাগিদ দিয়ে বেবিচকের পক্ষ থেকে একের পর এক চিঠি দেয়া হয়েছে। বলতে গেলে পাওনা আদায়ে বিমানকে প্রতিমাসেই চিঠি দিচ্ছে বেবিচক। বিগত ২০১২ সাল থেকেই বেবিচকের পাওনা বকেয়া রয়েছে। সর্বশেষ চিঠিতে বিমানকে আগামী এক বছরের মধ্যে পাওনা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমানের কাছে সর্বমোট ৩ হাজার ৫৪৫ কোটি ৮৭ লাখ ১ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। গত নবেম্বর পর্যন্ত বিমানের বিল এ্যামাউন্ট বাবদ বকেয়া ৮৮৭ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। ভ্যাট ও আয়কর ২৬৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। তাছাড়া সারচার্জ বাবদ বকেয়া পড়েছে ২ হাজার ৩৯৫ কোটি ১০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৫৪৫ কোটি ৮৭ লাখ ১ হাজার টাকা। তার মধ্যে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের মোট বকেয়ার পরিমাণ ২ হাজার ৬৩২ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর বাবদ বকেয়া ৫২৩ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাবে ৩৮৮ কোটি ৭২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ওই পাওনার ওপর সুদও রয়েছে। সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক ছাড়াও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের মধ্যে যশোর বিমানবন্দরের পাওনা ১৯ লাখ ৮৭ হাজার, বরিশাল বিমানবন্দরের পাওনা ৫ লাখ ৬৮ হাজার, কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাওনা ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪১ হাজার, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের পাওনা ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের পাওনা ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বিমানের কাছে এত বিপুল পাওনা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বকেয়া আদায় করতে না পারায় সংস্থাটি অডিট আপত্তির মুখে পড়ে। পাশপাশি জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছেও জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পাশাপাশি সংস্থাটিকে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের এ্যারোনটিক্যাল ও নন-এ্যারোনটিক্যাল চার্জই কেবল সংস্থাটির আয়ের ভরসা। নতুন করে যাত্রী নিরাপত্তা ফি ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করলেও তা মোট ব্যয়ের তুলনায় নগণ্য। সূত্র আরো জানায়, বিমান ছাড়া অন্যান্য দেশী-বিদেশী এয়ারলাইন্সের কাছে বেবিচকের পাওনা রয়েছে। তবে বিমানের তুলনায় তার পরিমাণ খুব বেশি নয়। করোনা তাÐবের মাঝেও ওই এয়ারলাইন্সগুলো নিয়মিত পাওনা পরিশোধের করার চেষ্টা করছে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর মাঝে রিজেন্টের কাছে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটির কাছে সুদ-আসলে মিলিয়ে প্রায় আড়াইশত কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে রিজেন্ট বন্ধ থাকায় পাওনা পরিশোধে জটিলতা দেখা দিযেছে। আগামী মাসে রিজেন্ট আবারো ফ্লাইট চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়। এদিকে বিমান সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের বকেয়া পরিশোধে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে এখন প্রতি মাসের পাওনা মোটামুটি পরিশোধ করেই ব্যবসা করা হচ্ছে। অন্যান্য এয়ারলাইন্স নিয়মিত পাওনা পরিশোধ করলেও বিমান ব্যতিক্রম। বকেয়া পাওনা কবে নাগাদ পরিশোধ করতে পারবে, কিভাবে করবে তারও কোন ধারণা দিতে পারছে না বিমান। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানান, যে টাকা পাওনা রয়েছে বিমানসহ সব এয়ারলাইন্সের কাছে তা সময় মতো আদায় করা গেলে আরো কিছু জরুরি প্রকল্পের কাজ শুরু করা যেতো। যেমন- এই মুহূর্তে একটি হেলিপোর্ট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। শুধু বিমানের কাছে পাওনা টাকা আদায় করা গেলে নিজস্ব অর্থায়নেই তা সম্পন্ন করা সম্ভব। ফলে টাকার জন্য সরকারের দিকে চেয়ে থাকতে হতো না। বিমানের কাছে পাওনা রয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটিরও বেশি টাকা। অথচ এই মুহূর্তে ৫শ’ কোটি টাকা হলেই হেলিপোর্ট নির্মাণ কাজে হাত দেয়া যেতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক হাজার গাছ লাগানো হবে

আ.জা ডেক্স.: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এখানে প্রায় ১ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ...

দেশে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত, উদ্বেগ

আ.জা. ডেক্স: ভারতের নতুন ধরনের করোনা ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) কোনোভাবেই যাতে বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে সেজন্য সীমান্ত ১৪ দিনের...

পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের জায়গাটি দর্শনীয় করা হবে: কাদের

আ.জা. ডেক্স: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের...

শিশুপার্ক বানানোর সময় নীরব, এখন সরব কেন: নানক

আ.জা. ডেক্স: স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্যই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক বিশাল...

Recent Comments