Saturday, September 26, 2020
Home অর্থনীতি বেড়েছে সরকারি ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা

বেড়েছে সরকারি ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা

আ.জা. ডেক্স:

সরকারি ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি কমে যাচ্ছে মুনাফাও। এক বছরের ব্যবধানে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৬১টি লোকসানি শাখা বেড়েছে। একই সাথে ওই ব্যাংকগুলোর পরিচালনাগত মুনাফাও কমছে। মূলত করোনা পরিস্থিতির কারণে এই মুনাফা কমে যাচ্ছে। বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে সরকারি ৬টি বাণিজ্যিক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বিডিবিএল) ব্যাংকের মোট লোকসানি শাখা ৩৩১টিতে স্থিতি ছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে ওই সংখ্যা বেড়ে ৩৯২টিতে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে সোনালীর ১১০টি, অগ্রণীর ৯৫টি, জনতার ৬৮টি, রূপালীর ৬০টি বেসিকের ৩০টি ও বিডিবিএলের ২৯টি লোকসানি শাখা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সমাপ্ত অর্থবছরে রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা বেশি বেড়েছে। এক বছরে ব্যাংকটির লোকসানি শাখা ৩৯টি বেড়েছে। তাছাড়া বিডিবিএলের ৯টি এবং সোনালী, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের ৫টি করে লোকসানি বেড়েছে। তবে সরকারি ৬টি ব্যাংকের মধ্যে একমাত্র জনতা ব্যাংকের লোকসানি শাখা কমেছে। এক বছরে ব্যাংকটি দু’টি লোকসানি শাখা কমাতে পেরেছে।

সূত্র জানায়, সরকরি ব্যাংকগুলোর লোকসানি শাখা বাড়লেও চলমান করোনা পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর লোকসানি শাখার স্থিতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে। ওই বিভাগের সাথে করা বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় ৬ ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা ৩২০টি রাখার কথা বলা হয়েছে। গত অর্থবছরে ব্যাংক ৬টির লোকসানি শাখা স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫০টি। গত অর্থবছরে সোনালী ও জনতা ব্যাংকের লোকসানি শাখা স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯০টি ও ৫৬টি। চলতি অর্থবছরেও তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তাছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের লোকসানি শাখার স্থিতি লক্ষ্যমাত্রা ৬০টি থেকে বাড়িয়ে ৮০টি, রূপালীর ১৫টি থেকে বাড়িয়ে ৫০টি, বেসিকের ১৫টি থেকে বাড়িয়ে ২৪টি ও বিডিবিএলের লোকসানি স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ১৪টি থেকে বাড়িয়ে ২০টি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, সরকারি ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালন মুনাফাও কমে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ৫টি বাণিজ্যিক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বিডিবিএল) ব্যাংককে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে হবে। আর বেসিক ব্যাংকের লোকসান ৩৮০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সব মিলিয়ে ৬ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা কমিয়ে ধরা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সোনালী ব্যাংককে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা (গত অর্থবছরে ছিল ১,৯০০ কোটি টাকা), জনতা ব্যাংককে ৮০০ কোটি টাকা (গত অর্থবছরে ছিল ১,০০০ কোটি টাকা), অগ্রণী ব্যাংককে ৭০০ কোটি টাকা (গত অর্থবছরে ছিল ৮০০ কোটি টাকা), রূপালী ব্যাংককে ৩০০ কোটি টাকা (গত অর্থবছরে ছিল ৪৫০ কোটি টাকা) এবং বিডিবিএল-কে ৬০ কোটি টাকা (গত অর্থবছরে ছিল ১১০ কোটি টাকা) পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে হবে। তাছাড়া লোকসানি বেসিক ব্যাংককে গত অর্থবছরে মাত্র ১ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকটি তাও অর্জনে ব্যর্থ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নিজের খেলায় চমকে গেছেন ডি ভিলিয়ার্স নিজেই

আ.জা. স্পোর্টস: এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটে ঝড় ওঠা তো ক্রিকেটের সবচেয়ে নিয়মিত দৃশ্যগুলোর একটি। কিন্তু ৮ মাসের বিরতি...

ইতিহাসের পাতায় আফ্রিদি

আ.জা. স্পোর্টস: ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্ট টি-২০তে বল হাতে দুর্দান্ত এক স্পেল করলেন পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। মিডলসেক্সের...

মাত্র ১০ দিনে করোনা জয় করলেন ১০৬ বছরের বৃদ্ধা

আ.জা. আন্তর্জাতিক: মহামারি করোনাভাইরাসকে হারিয়ে মাত্র ১০ দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের ১০৬ বছরের বৃদ্ধা। রোববার সুস্থ...

নিজের সব সম্পদ দান করে দিলেন এই ধনকুবের

আ.জা. আন্তর্জাতিক: স্বপ্ন পূরণ করলেন এক ধনকুবের। নিজের অর্জিত সম্পদ দান করাই ছিল তার বহুদিনের স্বপ্ন। কয়েকশ' কোটি...

Recent Comments