Monday, December 5, 2022
Homeজাতীয়ভারত থেকে দেশে একের পর এক নিম্নমানের চালের চালান আসছে

ভারত থেকে দেশে একের পর এক নিম্নমানের চালের চালান আসছে

আ.জা. ডেক্স:

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ইতিপূর্বে আমদানি করা ১৯ হাজার টনেরও বেশি নিম্নমানের চালের বিষয়ে এখনো সুরাহা হয়নি। এর মধ্যে আবারো ভারত থেকে ৬ হাজার ৭০০ টন নিম্নমানের চাল আমদানির অভিযোগ উঠেছে। খাদ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আমদানি করা চালগুলোর রং ধূসর হয়ে গেছে। ওই চাল ৫-৬ মাস গুদামে থাকলে খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। যদিও ইতিমধ্যে জাহাজ থেকে ৬০০ টনের মতো চাল খালাস করে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো-সিএসডি, লোকাল স্টোরেজ ডিপো-এলএসডিতে পাঠানো হয়েছে। তবে নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়ার পর খাদ্য বিভাগের পরিবহণ ঠিকাদাররা চাল খালাস বন্ধ করে দিয়েছে। আর খাদ্য বিভাগ চালগুলো ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানা যায়। খাদ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ভারত থেকে চলতি বছরের আগস্টে এমভি ড্রাগন নামে একটি জাহাজে করে ১৯ হাজার ২০০ টন চাল আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু খালাস করতে গিয়ে ওসব চাল নিম্নমানের দেখা যায়। পরিবহণ ঠিকাদারদের বাধার মুখে ওসব চাল খালাস বন্ধ রাখতে খাদ্য বিভাগ বাধ্য হয়। চালভর্তি ওই জাহাজটি প্রায় সাড়ে ৪ মাস ধরে বন্দরের বহির্নোঙরে রয়েছে। ওই চাল ফেরত পাঠাতে চিঠি চালাচালি চলছে। এমন অবস্থায় নতুন করে আবারো নিম্নমানের চাল আমদানি চালান দেশে এসেছে।

সূত্র জানায়, অতিসম্প্রতি ভারত থেকে ৭ হাজার ৬০০ টন আতপ চাল নিয়ে বিএমসি আলফা নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। জিটুজির আওতায় সরকারিভাবে আমদানিকৃত চালের চালানটি ভারতের নেকফ ইন্ডিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভেড়ার পর খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা চাল খালাসের নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে। খাদ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমদানি করা চালের নমুনা সংগ্রহ করে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু পরীক্ষা করে চালের গুণগত মান ভালো ও খাওয়ার উপযোগী বলে প্রতিবেদন দেয়ার পর ১৫ ডিসেম্বর থেকে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইতিমধ্যে জাহাজ থেকে ৫৬৫ টন চাল খালাসও করা হয়। খালাস করা ওসব চালের মধ্যে দেওয়ান হাট সিএসডিতে ৭৫ টন, হালিশহর সিএসডিতে ১৫ টন, সিলেট সিএসডিতে ৯০ টন, কুমিল্লার চকবাজার গুদামে ৬০ টন, চাঁদপুরের মতলবে ৪৫ টন, বরইছড়িতে ১৫ টন, জয়দেবপুরে ৪৫ টন, নারায়ণগঞ্জে ৩০ টন এবং তেজগাঁও সিএসডিতে ১৯০ টন সরবরাহ দেয়া হয়। কিন্তু জেটিতেই চালানের ওপরের চালগুলো অপেক্ষাকৃত ভালো হলেও নিচের স্তরে থাকা চালগুলো নিম্নমানের দেখতে পায় খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা ও পরিবহণ ঠিকাদাররা। ফলে তারা খালাস বন্ধ করে দেন। তারা বেশ কিছু চালের বস্তা পর্যবেক্ষণ করে দেখে ওসব চাল সরকারের বিধি মোতাবেক নয়। ওই সময় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা চাল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে জাহাজ থেকে খালাস বন্ধ করে দেয়। আর সরবরাহকারীর পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

সূত্র আরো জানায়, খাদ্য পরিবহন ঠিকাদাররা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ভারত থেকে আসা ৭ হাজার টন চালের পরিবহণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ ওসব নিম্নমানের চাল। যা পরিবহণ করে এলএসডি বা সিএসডিতে নিলে কর্মকর্তারা গ্রহণ করবে না। পরে দায়ভার পরিবহণ ঠিকাদারদেরই নিতে হবে। তার চেয়ে চাল পরিবহণ না করাই ভালো।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের জানান, চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের বিধি মোতাবেক চাল সরবরাহ না করায় খালাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চালের মানের ক্ষেত্রে খাদ্য বিভাগের অবস্থান জিরো টলারেন্স। চালগুলো পচা বা বেশি খারাপ বা খুদ নয়। তবে চালের রং ও আর্দ্রতা সরকারি বিধি মোতাবেক নয়। বিষয়টি উচ্চ মহলে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। আর চাল বহনকারী বিএমসি আলফা নামের জাহাজটিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ নম্বর বার্থিং থেকে বহির্নোঙরে চলে যেতে বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments