Monday, July 19, 2021
Home জাতীয় ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাস জমিতে আবাসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাস জমিতে আবাসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আ.জা. ডেক্স:

ভিটেমাটিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাস জমিতে আবাসনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দরিদ্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ‘বীর নিবাস’ তৈরি করতে গতকাল মঙ্গলবার একনেকে ‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের এই ‘বীর নিবাস’ উপহার দেওয়া হবে। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. মামুন আল-রশীদ বলেন, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভিটামাটি নেই এরকম মুক্তিযোদ্ধা তেমন একটা নেই। যদি ভিটামাটিহীন কোনো মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট ডিসি বা ইউএনও ওই মুক্তিযোদ্ধার জন্য যেন সরকারি খাস জমির ব্যবস্থা করে বীর নিবাস তৈরি করে দেন। এসময় তিনি এই প্রকল্পটির আরও কয়েকটি অনুশাসনের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওরা যাতে প্রয়োজনে প্রকল্পের টাকা দ্রুত ছাড় করতে পারেন তার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রকল্পটিতে আগামী অর্থবছর থেকে অর্থায়ন শুরু করার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে যাতে অর্থায়ন চাপে না পড়ে তার জন্য চলতি অর্থবছর থেকেই অর্থছাড় ও কাজ শুরু করতে হবে, যাতে চার অর্থবছর মিলেই টাকাটা ছাড় দেওয়া যায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অর্থ সরবরাহ বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুনের পরিবর্তে অক্টোবর পর্যন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা কমিশনের এই সদস্য। মোট ৪ হাজার ১২২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির মাধ্যমে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ হাজার বীর নিবাস করে দেয়া হবে। এই প্রকল্পেও রাখা হয়েছে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ খাত। বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য খরচ করা হবে ৪৮ লাখ টাকা।

সম্মেলনে প্রকল্পটি যাচাইকারী ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মামুন আল রশীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়- বীর নিবাস নির্মাণ প্রকল্পে ১৬ জন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের ব্যবস্থা রাখা আছে। সেখানে ৪৮ লাখ টাকার একটা বরাদ্দ দেয়া আছে। এটার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এ বিষয়ে মামুন আল রশীদ বলেন, সাধারণত এখন আমরা বিদেশ সফরের জন্য কোনো টাকা ধরি না। এটাতে আমি নিজেই সম্পূর্ণ জেনে রেখেছি এ কারণে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের স্পিরিট, মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিট ফিল করার জন্য বলা হয়েছে। পৃথিবীতে শুধু বাংলাদেশ না, আরও অনেক দেশ আছে যারা দীর্ঘ দিন যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। তারা কীভাবে সেসব স্পিরিট ফিল করে, তাদের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এগুলো কিছুটা দেখার দরকার আছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভিয়েতনাম দীর্ঘসময় যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, বিশ্ব যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কী করেছে, এগুলো সম্পর্কে আমাদের কিছুটা আইডিয়া হবে। আর যে প্রকল্প ৪ হাজার ১২২ কোটি টাকার, সেখানে ৪৮ লাখ টাকা এটা আসলে কোনো টাকাই না। সে দিক থেকে আমি উৎসাহিত করেছি এবং ওটাতে আমি কোনো রকমের কাটছাঁট করি নাই। সূত্র জানায়, প্রকল্পটির উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আর এটি বাস্তবায়ন করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (মহানগর সংশ্লিষ্ট) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের পুরো অর্থই সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করা হবে। দেশের সবগুলো বিভাগের ৬৪টি জেলার সব উপজেলা ও মহানগরে বাস্তবায়িত হবে প্রকল্পটি। প্রকল্পটির বিষয়ে মোট ৬টি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সেই নির্দেশনাগুলো তুলে ধরে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য বলেন, আমাদের কাছে যখন প্রকল্প প্রস্তাব এসেছিল, সেখানে প্রস্তাব ছিল ১৪ হাজার বীর নিবাস করা হবে। সেটা থেকে পরবর্তীতে দ্বিগুণেরও বেশি করে ৩০ হাজার বীর নিবাস করা হয়। মামুন আল রশীদ আরও বলেন, ডিপিপিতে একটা প্রস্তাব ছিল সাব ডেলিগেশন করার জন্য। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, সাব-ডেলিগেশন করা থাকবে, যাতে ইউএনও ও জেলা প্রশাসকরা এটার টাকা ছাড় করতে পারেন, খরচ করতে পারেন। আরেকটা বিষয় প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকেই জানতে চেয়েছেন যে, আমরা জুন পর্যন্ত প্রস্তাব করেছিলাম প্রকল্পটির মেয়াদ। এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফিল করেছেন, যদি কোনো কারণে দু-চার জায়গায় সময় লাগে সেকারণে আগে থেকেই তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন। মানে প্রকল্পের ৩ মাস সময় বাড়িয়েছেন তিনি। চলতি বছরেই প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ হচ্ছে এ বছরের তিন মাস যদি সময় হাতে পাই, তাহলে এই যে অর্থটা ৪ হাজার ১২২ কোটি টাকা, তখন এটার বণ্টন চার অর্থবছরে হবে। মানে তিন অর্থবছরে হলে যে পরিমাণ টাকা লাগবে তার চেয়ে কম লাগবে। এ কারণে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশনা দিয়েছেন যে, এই অর্থবছর থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। বাড়তি আরেকটা জিনিস তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেটা হচ্ছে এ প্রকল্পের কারণে আমাদের গ্রাম পর্যায়ে, মানে সবগুলো জেলা-উপজেলা সিটি করপোরেশনে এসব প্রকল্প নির্মাণ হবে, সে কারণে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেড়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, একনেক বৈঠকে মোট ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট মোট ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৬১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে পাঁচ হাজার ১৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৪২ কোটি এবং প্রকল্প সহায়তা খাত থেকে ৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার যোগান দেওয়া হবে। বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- রাজশাহী কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। পিরোজপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। কন্সট্রাকশন অফ নিউ ১৩২/৩৩ কেভি এন্ড ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন আন্ডার ডিপিডিসি ২য় সংশোধিত প্রকল্প। এতে ব্যয় বেড়েছে ৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সবার জন্য ভ্যাকসিনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা প্রতিরোধকল্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করে পবিত্র ঈদুল আযহায় দেশের...

জামালপুরে করোনা প্রতিরোধে গো-হাটা ইজারাদারদের নিয়ে আলোচনা সভা

এম.এ রফিক: জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার উপজেলা পরিষদে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গো-হাটা ইজারাদারদের সাথে...

মেলান্দহের ফুলকোচায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার অন্তর্গত ৮নং ফুলকোচা ইউনিয়নের মুন্সি পাড়ায় বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায় লক্ষাধিক...

ইসলামপুরে ৫৯হাজার ৫৬৬টি পরিবারে ভিজিএফ বিতরণ

ওসমান হারুনী: জামালপুরের ইসলামপুরে পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে বন্যা/অন্যান্য দুর্যোগ/দু:স্থ/ীঅতিদরিদ্র ভিক্ষুক পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ইসলামপুর উপজেলার ১২টি...

Recent Comments