Friday, December 2, 2022
Homeজাতীয়মজুদ কম থাকায় কমানো হয়েছে খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা

মজুদ কম থাকায় কমানো হয়েছে খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা

আ.জা. ডেক্স:

চালের মজুত কম ও বিদেশি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় টিআর, কাবিখাসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। বছরের শুরুতে ৩১ লাখ ৩৭ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সংশোধিত বাজেটে খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত ১৭ লাখ ৪৯ হাজার টন বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারিভাবে ২৪ লাখ ৪২ হাজার টন চাল এবং ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গম বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তার মধ্যে রয়েছে ত্রাণমূলক সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১১ লাখ ৬৭ হাজার টন এবং আর্থিক খাতে ১৯ লাখ ৭০ হাজার টন। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টন করা হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা থেকে কমছে ৬ লাখ ৮২ হাজার টন। তার মধ্যে আর্থিক খাতে কমছে ১৬ লাখ ৬৯ হাজার টন এবং ত্রাণমূলক সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কমছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার টন। ওই হিসাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কমেছে ৩ লাখ ৮১ হাজার টন। বাকি ৩ লাখ ১ হাজার টন আর্থিক খাতে কমছে।

সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস মহামারিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ বাড়লেও ওই অনুযায়ী চাল সংগ্রহ হয়নি। গত আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ১০ ভাগও পূরণ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন পর মজুত গড়তে সরকার আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছে। ওই পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। অতিরিক্ত আরো ৩ লাখ টন চাল আমদানির জন্য এলওআই (লেটার অব ইনটেন) প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া ২ লাখ টন আমদানি প্রক্রিয়াধীন আছে। ওসব চুক্তির মধ্যে ২ লাখ ৬৩ হাজার টন চাল ও আড়াই লাখ টন গম দেশে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় কয়েকটি খাতে খাদ্যশস্য বিতরণ কমানো হয়। তার মধ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে যেখানে ১০ লাখ ৬০ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, সংশোধিত বাজেটে তা ৭ লাখ ৬০ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচিতে ২ লাখ টন খাদ্য বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা থাকলে সংশোধিত বাজেটে সেখানে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। আর ভিজিএফ ত্রাণ কর্মসূচিতে ২ লাখ ১০ হাজার টন খাদ্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলে শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়। তাছাড়া জিআর কর্মসূচিতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সোয়া লাখ টন। বর্তমান তা কমিয়ে ৫২ হাজার টনে আনা হয়েছে। এভাবে অন্যান্য কর্মসূচিতেও বিতরণ কমিয়ে আনা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ৩২ লাখ ১০ হাজার টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তার মধ্যে বিদেশি খাদ্যশস্য সহায়তা হিসাবে ২ লাখ ২৫ হাজার টন আসার কথা। এর মধ্যে গমের পরিমাণ হচ্ছে ৬৯ হাজার ৭০ টন। তবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সহায়তার কোনো চাল এবং গম পাওয়া যায়নি।

সূত্র আরো জানায়, করোনার কারণে নিম্ন ও গরিব মানুষের মধ্যে নানাভাবে ত্রাণ সহায়তা যাচ্ছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত ইপি কর্মসূচিতে ২ লাখ ৬১ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়। ওএমএস কর্মসূচিতে ৩ লাখ ২৮ হাজার টন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ৫ লাখ ৯৪ হাজার টন, ভিজিএফ ত্রাণ কর্মসূচিতে ১ লাখ ৩ হাজার টন, ভিজিডি কর্মসূচিতে ২ লাখ ৮১ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে। অন্য কর্মসূচি মিলে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার টন বিতরণ করা হয়।

এদিকে এ প্রসঙ্গে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম জানান, মজুত কম থাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। কাবিখা, টিআর, ভিজিএফসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওসব কর্মসূচির খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে দেয়ার দায়িত্ব। কিন্তু এখন চালের মজুত কম থাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্যমাত্রার পুরোটা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে সরকারিভাবে খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। তবে ওই মন্ত্রণালয় খাদ্যের বিনিময় নগদ অর্থও বিতরণ করছে। ফলে যে পরিমাণ চাল কম দেয়া হচ্ছে, অর্থ বিতরণের পরিমাণ বাড়িয়ে তা সমন্বয় করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments