Monday, June 14, 2021
Home ফিচার মনীষীদের চোখে ও সাহিত্যেঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

মনীষীদের চোখে ও সাহিত্যেঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বাঙালি জাতির ইতিহাসে হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কেননা একমাত্র তিনিই তেইশ বছরের সফল সংগ্রাম শেষে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে সংগঠিত করেন এবং ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করে বাঙালিকে দিয়েছেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঠিকানা। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন “বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত। শোষক ও শোষিতের। আমি শোষিতের দলে”। তিনি ৭ মার্চের ভাষণে স্পষ্ট উচ্চারনে বলেছিলেন “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, বাংলার মানুষের মুক্তি চাই”। তারও আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কেবল বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দানের স্বার্থে। বাঙালির সুদীর্ঘ ইতিহাসের বঞ্চণা, অবজ্ঞা, শোষন ও নিপীড়ন ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙতে স্পার্টাকাসের মত আশীর্বাদ হয়ে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল ইতিহাসের অনিবার্যতা। প্রখ্যাত মনীষী এস ওয়াজেদ আলী ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত “ভবিষ্যতের বাঙালি” গ্রন্থে যে মহামানবের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার প্রতীক্ষায় বাঙালি হাজার বছর পাড়ি দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায়, বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীন বাংলাদেশের আকাঙ্খার পূর্ণতা পেয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইপিআর এর ওয়ারলেসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেনঃ
“This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved”.

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলনকে চমৎকার দূরদর্শীতা, প্রজ্ঞা ও সুকৌশলে পরিচালনা করেছিলেন যে হেনরি কিসিঞ্জার পযর্ন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতি একটা গভীর শ্রদ্ধাপূর্ণ মন্তব্য করতে বাধ্য হয়ে বলেছিলেন যে “Skeikh Mujibur Rahman has embarked on a non-violent co-operation campaign which makes it hard to justify repression” বাঙালির পরাধীনতার শিকল ভেঙে স্বাধীনতার স্বপ্নের স্বার্থক বাস্তবায়নের জন্যই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ বজ্রকণ্ঠে বলেছিলেন “আমরা যখন মরতে শিখেছি, কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো—এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্”। সবশেষে তর্জনী উচিয়ে ঘোষণা করলেন ঐতিহাসিক অমিয়বাণী “The struggle, this time is the struggle for emancipation, the struggle, this time is the struggle for freedom”.
বঙ্গবন্ধুর সেই “declaration of emancipation and freedom” ছিল বাঙালির রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ, যা কে বলা যায় বাঙালির “Magna Carta”. সেই বিবেচনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চ ভাষণ কে আখ্যায়িত করা যায় “The Corner stone of Bengali Liberty”.
বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চ ভাষণের তাৎপর্য বিবেচনায় নিয়ে “The greatest Egyptian journalist Hasneim Heikal wrote that Sheikh Mujibur Rahman does not belong to Bangladesh alone. He is the harbinger of freedom for all oppressed Mankind’s. His Bengali nationalism is the new emergence of Bengali civilization and culture. Mujib is the hero of the Bengalis, in the past and in the times that are coming”. Describing Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman as a dream implementation leader, in her speech, former Prime Minister of India, Indira Gandhi, said that Sheikh Mujibur Rahman had Promise freedom to his people and had given it to them. বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি চারণ করে ভারতের মনিপুর ও ঝাড়খন্ড রাজ্যের প্রাক্তন গভর্নর Mr Ved Marwah wrote “I have met many charismatic personalities during my service career, including Jawaharlal Nehru, Indira Gandhi. Rajiv Gandhi and many world leaders, but I must say that among them he (Bangabandhu) was the most charismatic personality I had ever met.” বঙ্গবন্ধুর প্রতি সারা বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও মনীষীগণ যেমন শ্রদ্ধা ও সম্মান নিবেদন করেছেন তেমনি প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিকরাও তাঁকে নিয়ে রচনা করেছেন মহৎ সৃষ্টিকর্ম।

অন্নদাশঙ্কর রায় প্রথম কবি, যিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছিলে অবিস্মরণীয় বানীঃ
“ যতকাল রবে পদ্মা মেঘনা-গৌরী যমুনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান
দিকে দিকে আজ অশ্রূগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয় হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।

পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সারা দেশে যখন ত্রাসের,ভয়ের, আতংকের রাজত্ব, তখন সাহসী কবি কামাল চৌধুরী (সাবেক মূখ্য সচিব ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ) বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যার নিন্দা জানিয়ে রচনা করেন ‘জাতীয়তাময় জন্মমৃত্যু’ কবিতা খানি:
রক্ত দেখে পালিয়ে গেলে
বক্ষপুরে ভয়
ভাবলে না কার রক্ত এটা
স্মৃতি গন্ধময়
দেখলে না কার জন্মমৃত্যু
জাতীয়তাময় ।

সক্রোটিস বলেছিলেন “Know thyself” অর্থাৎ ‘নিজেকে জানো’। নিজের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে সৈয়দ শামসুল হক তাঁর “আমার পরিচয়” কবিতায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছেনঃ
এসেছি বাঙালি রাষ্ট্র ভাষার লাল রাজপথ থেকে
এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে
শত্রুর সাথে লড়াই করেছি, স্বপ্নের সাথে বাস
অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন, শস্য করেছি চাষ;
একই হাসিমুখে বাজায়েছি বাঁশী, গলায় পরেছি ফাঁস
আপোষ করিনি কখনোই আমি, এই হ’লো ইতিহাস
এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ, আমি কি তেমন সন্তান
যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান।

বিদেশী সংবাদ মাধ্যম ও পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রকাশিত হয়েছে বহু নিবন্ধ ও কলাম। যেমন “Newsweek Magazine had Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman on its cover page at April 5, 1971, and described Bangabandhu as a poet of politics while talking about the great man, the article wrote “Tall for a Bengali (he stands 5 feet 11inches) with a touch of graying hair, a bushy moustache and alter black eyes. Sheikh Mujib can attract a crowd of million people to his rallies and hold them spellbound with great rolling waves of emotional rhetoric. He is a poet of politics. So his style may be just what was needed to unite all the classes and Ideologies of the region.“

পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে লেখা ‘বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক কবিতায় চিত্রিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মনোরম দৃশ্যকল্পঃ
তোমার হুকুমে রেল জাহাজের চাকা যে চলেনি আর
হাইকোর্টের বন্ধ দরজা খুলিবে সাধ্য কার
তোমার হুকুমে তুচ্ছ করিয়া শাসন-ত্রাসন ভয়
আমরা বাঙালি মৃত্যুর পথে চলেছি আনিতে জয়।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় ব্যথিত হয়ে ওপার বাংলার বিখ্যাত সাহিত্যিক ও কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ‘শিশুরক্ত’ কবিতায় ক্ষমা চেয়ে কেঁদেছেন সভ্যতার নামেঃ
রাসেল অবোধ শিশু, তোর জন্য
আমিও কেঁদেছি
তুইতো গল্পের বই, খেলনা নিয়ে
সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন বয়সেতে ছিলি!
তবুও পৃথিবী আজ এমন পিশাচি হলো
শিশুর রক্ত পানে তার গ্লানি নেই
সর্বনাশী, আমার ধিক্কার নে!
যত নামহীন শিশু যেখানেই ঝরে যায়
আমি ক্ষমা চাই, আমি সভ্যতার নামে ক্ষমা চাই।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান বঙ্গবন্ধুর জয়গান গেয়েছেন “ধন্য সেই পুরুষ’’ কবিতায়ঃ
“ধন্য সেই পুরূষ, যার নামের উপর পতাকার মতো
দুলতে থাকে স্বাধীনতা
ধন্য সেই পুরুষ, যার নামের ওপর ঝরে
মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি

বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক, Cyril Dunn marked Bangabandhu as a unique leader of the world and wrote that ”In the thousand year’s history of Bengal Sheikh Mujib is the only leader who has, in terms of blood, race, language, culture and birth, been a full blooded Bengali. His physical structure was immense. His voice was redolent of thunder. His charisma worked magic on people. The courage and charm that flowed from him made him a unique superman in these times”.

বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে, TIME magazine, August 1971 published an article and mentioned that a man of vitality and vehemence, sheikh Mujib became the political Gandhi of Bengalis, symbolizing their hopes and voicing grievances, No other leader of subcontinent drew the million strong throngs that Sheikh Mujib has attracted in Dacca. Nor, for that matter, has any subcontinent politician since Gandhi’s day spent so much time behind bars for his political beliefs.

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের মধ্য রাতে ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়িতে পড়া বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ দেখে কবি রফিক আজাদ বলে উঠেন –
“এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে
বত্রিশ নম্বর থেকে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে
স্বদেশের মানচিত্র জুড়ে পড়ে আছে বিশাল শরীর”

১৯৭১সালের ৭মার্চ থেকে ২৬মার্চ (প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা) এই ১৮ দিনে সাত কোটি বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাসাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে । তাই ২ এপ্রিল ১৯৭১ লন্ডনের ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা রির্পোট করে নিম্নরূপঃ
“After 7th March Pakistan Government had no control over East Bengal and people of Bengal were totally administered by Sheikh Mujibor Rahman. So the article compares 32 no house of Dhanmondi (Residence of Bangabandhu) as 10 Downing Street of Dacca”.
Indian former Prime Minister Dr. Manmohon Singh tributes respect to Bangabandhu by saying that Bangabandhu Sheikh Mujibor Rahman led his people in their struggle for liberation through his inspired and courageous leadership. I pay homage to a great visionary leader and statesman who laid a firm foundation for an independent, strong and proud Bangladesh.

বাঙালির জীবনের প্রতিটি আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রশংসা ঝরেছে কবি আখতারুজ্জামান আজাদের “বাঙালি একটি ফিনিক্স পাখি” শিরোনামের কবিতায়ঃ
আমরা বায়ান্নতে মরেছি দলে দলে
আমরা একাত্তরে মরেছি ঝাঁকে ঝাঁকে
আমরা পঁচাত্তরে মরেছি স্বপরিবারে
পরাজিত শক্তি যখন হেঁটে বেড়ায়, বিজয়ীর দেশে
যখন ফুলেরা কাঁদে, হায়নারা হাসে
যখন মানুষ ঘুমায়, পশুরা জাগে
তখন আমার ঠিকানায় আসে, সেই পুরনো পত্র
তখন আমার কানে ভাস, সেই পুরনো ছত্র
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম

Bangabandhu was a genuine people’s leader. It was his love for Bengali people and empathy for Bengalis’ suffering that made him strive for achieving freedom. Answering a question from a journalist Bangabandhu replies that my greatest strength is the love for my people and my greatest weakness is that I love them too much. At the same way why Bengali people love him so madly Answer of this question was given by famous British journalist Sir Mark Tully who had the opportunity to meet Bangabandhu and attended several public meetings, wrote Bangabandhu had a wonderful voice that could mesmerize the crowd. But main reason of great attraction of Bengali people for Sheikh Mujib was that he had fight and gone imprisonment for 13 years in his golden youth for establishing right of Bengali.

বায়ান্নার ভাষা আন্দোলন, ৫৪’এর নির্বাচন, ৫৬’এর যুক্ত ফ্রন্ট সরকার গঠন, ৫৮’এর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬২’এর শিক্ষা কমিশন আন্দোলন ৬৬’এর ছয়দফা, ৬৭’এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯’এর গণ অভ্যুথান, ৭০’এর নির্বাচন সকল ক্ষেত্রে সফল নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালির নিরংকুশ ভালবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান ও চির কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নির্মলেন্দু গুণ “আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’’ কবিতায় উচ্চারণ করেছেনঃ
সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ, ফুল খুব ভালোবাসি,
রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেই সব গোলাপের একটি গোলাপ গতকাল
আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।
শহীদ মিনার থেকে খসেপড়া একটি রক্তাক্ত ইট গতকাল
আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।

বঙ্গবন্ধুর পৈশাচিক হত্যাকান্ডের পর বর্হিবিশ্বে ও এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় Former British Prime Minister Harold Wilson wrote to a Bengali journalist upon hearing the news of the assassination of Bangabandhu that this is surely a supreme national tragedy for you, for me, it is a personal tragedy of immense dimensions.
সেই রাত্রির কল্পকাহিনী’তে কবি নির্মলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুর হত্যার জন্য নিজেকে অপরাধী ভেবে লিখেছেনঃ
তোমার বুক প্রসারিত হলো অভ্যুত্থানের গুলির অপচয়
বন্ধ করতে, কেননা তুমি তো জানো, এক-একটি গুলির মূল্য
একজন কৃষকের এক বেলার অন্নের চেয়ে বেশী।
কেননা তুমি তো জানো,এক-একটি গুলির মূল্য একজন
শ্রমিকের এক বেলার সিনেমা দেখার আনন্দের চেয়ে বেশী।
মূল্যহীন শুধু তোমার জীবন, শুধু তোমার জীবন, পিতা।
পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের পর হতবিহ্বল শোকগ্রস্ত সর্বহারা বাঙালির আর্তনাদ ফুটে উঠেছে কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘রাজদন্ড’ কবিতায়-
১৯৭৫ এ আমি হারিয়েছি আমার প্রতীক, শৌর্যবীর্যধারা, অন্ধকারে।
তারপর থেকে ভিতরে ভিতরে একা, গৃহহারা। স্বপ্নহীন ক্ষোভে
বসে থেকে থেকে ঘুমে ঘুমে,আত্মগোপনে ক্লান্ত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয় বন্ধু জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতা ফিদেল কাষ্ট্রো জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুকে দেখে বলেছিলেন, ”I have not seen the Himalways, but I have seen, Sheikh Mujib in personality and in courage, this man is the Himalayans. I have thus had the experience of witnessing the Himalayas.”
হিমালয় তুল্য মহামানব বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অপর নাম বলে চিত্রিত করে,নির্মলেন্দু গুণ ‘স্বাধীনতা শব্দটি কি করে আমাদের হলো’ কবিতাটি ছন্দিত করেছেন এভাবে:
“শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে
রবীণ্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।
তখন পলকে দারুন ঝলকে তরীতে উঠিল জল
হৃদয়ে লাগিলো দোলা ,জনসমুদ্রে জাগিলো জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা। কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তার অমর কবিতাখানি;
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম
সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের”।

বঙ্গবন্ধু কেবল আমাদের স্বাধীন স্বারভৌম বাংলাদেশই উপহার দিয়ে যান নাই, নির্বাচন করে দিয়েছেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনিন্দ্য সুন্দর কবিতা হতে আমাদের জাতীয় সংগীত, জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের কবিতা থেকে আমাদের রণ সংগীত।এমনকি ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্ব্যর্থহীনকন্ঠে ঘোষণা করেন-আজ থেকে বাঙালি জাতির আবাসভুমির নাম বাংলাদেশ।

লেখক: খন্দকার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ (১৫৪১৩)
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, জামালপুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

৬ দফার ভেতরেই নিহিত ছিল স্বাধীনতার এক দফা: প্রধানমন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স: ঐতিহাসিক ৬ দফার ভেতরেই স্বাধীনতার এক দফা নিহিত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির...

স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেয়া হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষাবোর্ড

আ.জা. ডেক্স: চলমান করোনাভাইরাসের মহামারী পরিস্থিতিতে সব কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে...

১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

আ.জা. ডেক্স: চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পূরক বাজেট সংসদে...

করোনায় আরও ৩০ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৭০

আ.জা. ডেক্স: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৯...

Recent Comments