Wednesday, February 21, 2024
Homeজামালপুরমাদারগঞ্জ কিশোর কিশোরী ক্লাব ৩০ জনের মধ্যে উপস্থিত ৩জন

মাদারগঞ্জ কিশোর কিশোরী ক্লাব ৩০ জনের মধ্যে উপস্থিত ৩জন

মোহাম্মদ আলী : মির্জা কাশেম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি মাদারগঞ্জ উপজেলার কিশোর কিশোরী ক্লাবগুলোর একটি । এক্লাবে ৩০জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেল ৩জন শিক্ষার্থীকে! অথচ সব সুবিধা নেওয়া হয় ৩০ জনের নামে! এছাড়া ক্লাসগুলোতে নেই খেলাধুলার জন্য দেওয়া কেরামবোর্ড দাবা। হারমোনিয়াম তবলাসহ বাদ্যযন্ত্রগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর ধরে।
শুক্রবার, সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এ চিত্র চোখে পড়েছে। জানা যায়, ২০১৯ থেকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মাদারগঞ্জ উপজেলার অধীনে ৮টি কিশোর কিশোরী ক্লাব চলে আসছে। বর্তমানে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে এসব ক্লাবে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলা অনিয় ও সেচ্ছাচারীতার অভিযোগ উঠেছে ।
এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার বেশ কয়েকটি ক্লাবে অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
গত ২৭ অক্টোবর শুক্রবার, মির্জা কাশেম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সেদিন মাত্র ৩ থেকে ৫জন ছাত্র ছাত্রী এসেছে ক্লাবে। এদিন নলডোবা কিশোর কিশোরী ক্লাবেও খোঁজ নিয়ে জানাগেছে সেখানে উপস্থিত ছিল তুলনামূলক ভাবে কম। পরের সপ্তাহের শনিবার ৪ঠা নভেম্বর জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিশোর কিশোরী ক্লাবে ১৫/১৬ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এদিন আরেক ক্লাব তারতা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে ক্লাব বন্ধ পাওয়া যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্লাবগুলোর মনিটরিং করা যাদের দায়িত্ব তারা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করে না। যার কারণে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। এবং ক্লাব স্থাপনে সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্যের সফল বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তদারকির দায়িত্বে নিয়োগকৃত জেন্ডার প্রমোটর রিয়াজুলকে মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও রহিমাকে খুব একটা দেখায় যায় না। এছাড়া এক্লাবের জেলা পর্যায়ে একজন ফিল্ড অফিসার থাকলেও তাকে কখনো ফিল্ডে দেখা যায় না। তিনি জামালপুরে বসেই বেতন নেন।
এব্যাপারে মির্জা কাশেম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিশোর কিশোরী ক্লাবের একজন শিক্ষক পলাশ দুঃখ করে বলেন, কিশোর কিশোরী ক্লাবে যাদের পরিশ্রম বেশি তাদের বেতন কম। যাদের পরিশ্রম কম তাদের বেতন বেশি। তিনি আরও বলেন, আমাদের ক্লাবের ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকরা গান বাজনা পছন্দ করে না। তাই, তাদের ছেলে মেয়েদের ক্লাবে আসতে দেয় না। এমতাবস্থায় আমরা শত চেষ্টা করেও ক্লাবের উপস্থিতি ঠিক রাখতে পারছি না। বিষয়টি মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তারতা পাড়া ক্লাব বন্ধ থাকার ব্যাপারে ওই ক্লাবের আবৃত্তি শিক্ষিকা রুবিনা বলেন, ওইদিন আমার বিশেষ প্রয়োজন থাকায় ক্লাবটি আমি একটু আগে বন্ধ করেছিলাম।
ফিল্ড সুপারভাইজার শাকিলা বলেন, পুরো জেলার জন্য আমরা ২জন মাত্র ফিল্ড অফিসার। আমাকে ৩৮টি ক্লাবের খোঁজ খবর রাখতে হয়। তাই, সব সময় ফিল্ডে গিয়ে কাজ করা সম্ভব না। তবে, আমি অনলাইনে ক্লাবগুলোর খোঁজ খবর নিই।
মাদারগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শায়লা নাজনীন বলেন, ক্লাব সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ব্যক্তিরা যদি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করত তাহলে এমনটা হতো না। তবে, আগামীতে বিষয়গুলো গুরুত্বতার সাথে দেখবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Most Popular

Recent Comments