Sunday, June 26, 2022
Homeখেলাধুলামুস্তাফিজ খুব দ্রুত উইকেট ফেলতে পারে: সাকারিয়া

মুস্তাফিজ খুব দ্রুত উইকেট ফেলতে পারে: সাকারিয়া

আ.জা. স্পোর্টস:

আবির্ভাবেই স্লোয়ার-কাটারের মায়াঞ্জনে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করে সাড়া ফেলেছেন ক্রিকেট বিশ্বে। ক্যারিয়ার শুরুর বছরেই মুস্তাফিজুর রহমানের নামের পাশে যোগ হয়ে গিয়েছিল ‘কাটার মাস্টার’ উপাধি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তপ্ত জমিনে ছয় বছর পার করার পর মুস্তাফিজের মধ্যে যৎ-কিঞ্চিৎ মাস্টার ভাবের উদয় হওয়াটা খুব দোষের কিছু নয়। অবশ্য যেচে নয়, কদিন আগে স্থগিত হওয়া আইপিএলে নিজের অভিজ্ঞতা, বোলিংয়ের কারিকুরি সতীর্থদের সামনে তুলে ধরতে হয়েছিল মুস্তাফিজকে। রাজস্থান রয়্যালসের পেসারদের কৌতূহল মেটাতে হয়েছিল বাংলাদেশের এ বাঁহাতি পেসারকে। ভারতের উদীয়মান বাঁহাতি পেসার চেতান সাকারিয়াকে বোলিং গ্রিপ, স্লোয়ার মারার কৌশল দেখিয়েছেন মুস্তাফিজ। বাদ ছিলেন না আরেক বাঁহাতি পেসার অভিজ্ঞ জয়দেব উনাদকাতও। হোটেল সোনারগাঁওয়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ২৫ বছর বয়সি এ পেসার রাজস্থানের সতীর্থদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় সম্পর্কে গতকাল বলেছেন, ‘এই তো সবাই শুনে আর কি, আমি কি করি।’ বিশেষ করে সাকারিয়ার শেখার আগ্রহ মুগ্ধ করেছে মুস্তাফিজকে। বলেছেন, ‘ওর (সাকারিয়া) তো শেখার আগ্রহ অনেক। আমি কীভাবে বোলিং করি, এটা শুনে ওরা। আমিও দেখি ওরা কীভাবে বোলিং করে, কোনটা কীভাবে করে।’ করোনায় স্থগিত হওয়া আইপিএল শেষে ২৩ বছর বয়সি সাকারিয়ার কথায়ও বিষয়টি উঠে এসেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে এ তরুণ বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ খুব দ্রুত উইকেট ফেলতে পারে। সে আপনাকে বলে দিবে কখন স্লোয়ার মারতে হবে। সে জানে কীভাবে ব্যাটসম্যানের ছন্দ নষ্ট করতে হয়।’ আইপিএলের আগে ভাইকে এবং গতকাল করোনায় বাবাকেও হারিয়েছেন সাকারিয়া। ১ কোটি রুপিতে রাজস্থানে সুযোগ পাওয়া মুস্তাফিজ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকেই খেলেছেন। ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনসহ সবার সহযোগিতা পেয়েছেন। তবে রাজস্থান দলে এক বাঙালির সঙ্গ মুস্তাফিজের সময়টা আনন্দঘন করে তুলেছিল। দলের সবার সঙ্গে ভাষাগত দূরত্ব নিয়ে খুব কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। রাজস্থানে দুই বাঙালির রসায়ন তাই বেশ জমেছিল। দলের একাডেমির কোচ সিদ্ধার্থ লাহিড়ির জন্ম কলকাতায়, পরিবারসহ থাকেন লন্ডনে। বাংলাভাষী সিদ্ধার্থের সঙ্গেই তাই মুস্তাফিজের বেশি কথা হতো। এ ছাড়া ক্রিকেটীয় তথ্য বিনিময়ে আড়ষ্টতা নেই তার। গতকাল বলছিলেন, ‘দলের সবাই খুব হেল্পফুল। আমাদের এক কোচ ছিল কলকাতার, থাকে ইংল্যান্ডে, সবাই সিড ডাকতো। ওঁর সঙ্গে আমার বেশি কথা হতো। মাঠে ক্রিকেটের কথাগুলো তো একই। ওখানে সমস্যা নেই।’ সস্ত্রীক কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোতে রোজা থাকা, নামাজ পড়া, বাড়িতে পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলেই সময় কাটছে মুস্তাফিজের। ঈদ হয়তো হোটেলেই কাটবে। ঈদের পর হোটেল রুমেই ফিটনেসের কাজ করবেন। তাই কিছু সরঞ্জামও রুমে নিয়ে রেখেছেন তিনি। সফল আইপিএল মিশনের পর মুস্তাফিজ এখন দেশের হয়ে মাঠে নামতে মুখিয়ে। অপেক্ষা এখন কোয়ারেন্টাইন শেষের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments