Friday, June 18, 2021
Home জাতীয় মৎস্য চাষ বৃদ্ধি প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ম্যানেজে দুদক-সাংবাদিকের নামে টাকা আদায়

মৎস্য চাষ বৃদ্ধি প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ম্যানেজে দুদক-সাংবাদিকের নামে টাকা আদায়

আ. জা. ডেক্স:

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে সরকার গৃহীত প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বিপুল টাকা। প্রকল্পে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেই অর্থ গুনতে হয়েছে। দুদক ও সাংবাদিক ম্যানেজের নামেও আদায় করা হয় টাকা। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের লুটপাটে অধিদফতরের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তার জড়িত। বিধান অনুযায়ী এমন একটি প্রকল্পের পরিচালক ৪র্থ গ্রেডের বিভাগীয় পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নন-ক্যাডার ৫ম গ্রেডের একজন প্রকৌশলী। ইতিপূর্বে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে মামলাও হয়েছে এবং তিনি ৭ বছর সাসপেন্ড ছিলেন। জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য চাষ বৃদ্ধি প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মৎস্য অদিফতর ও দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে। ইতিমধ্যে দুদকের ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর তারিখের ৪৬২৬০নং পত্রের প্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে তদন্ত হয়েছে। তবে অধিদফতরের তদন্তে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ অধিদফতরের তদন্তে প্রকল্প পরিচালকের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে ঘুষের টাকা গ্রহণের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ওই তদন্তে শুধুমাত্র একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অন্যপক্ষের কোনো বক্তব্যই নেয়া হয়নি। অবশ্য দুদকের তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে শিগগিরই দুদক তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানা যায়। মৎস্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প চালু রয়েছে। বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকেই প্রকল্পটি চালু করা হয়। কিন্তু প্রকল্পের কাজের আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের আওতা ও বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২৬শ’ হেক্টর জলাশয় সংস্কার করে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ১০ লাখ টন মাছ উৎপাদন। পার্বত্য ৩ জেলা ছাড়া দেশের সব জেলাতেই প্রকল্পটি চলমান। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ১৩শ হেক্টর জলাশয় সংস্কার হয়েছে। প্রকল্পটিতে সরকারের বরাদ্দ প্রায় ৪০৯ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে ২১৮ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের একটি কমিটির জলাশয় সংস্কারে মৎস্য চাষ বৃদ্ধি প্রকল্পে প্রকল্পভুক্তির জন্য সরকারি খাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক জমি প্রকল্পে হস্তান্তর ও গ্রহণের দায়িত্ব গ্রহণ করে। আর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ প্রদান হয়। কিন্তু প্রকল্পটি ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। তার মধ্যে রয়েছে কোনো প্রকল্প প্রকল্পভুক্তির ক্ষেত্রেই মোটা টাকা গুনতে হয়েছে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে এড়িয়ে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সরাসরি ঠিকাদারের হাতে প্রকল্পের বরাদ্দপত্র তুলে দিয়েছেন বলে জানা যায়। তারপর প্রকল্প পাশ ও বরাদ্দ প্রদানের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। তাছাড়া প্রকল্পের আওতাধীনে কালভার্টের বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, পানি সেচের বরাদ্দে ২০ শতাংশ, গাছ লাগানোর বরাদ্দে ৩০ শতাংশ, মাছ চাষের প্রদর্শনীর জন্য ৩০ শতাংশ হারে টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্প চলমান অবস্থায় প্রতিটি জেলার প্রকৌশলীদের মাধ্যমে আরো ১৫ শতাংশ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। আর প্রকল্পের সর্বশেষ চেক প্রদানের সময় প্রকৌশলী অডিট বাবদ ১ দশমিক ৫ শতাংশ, সাংবাদিক ও দুদক ম্যানেজের নামে দশমিক ৫ শতাংশ, কর্মকর্তার নিজের খরচ বাবদ দশমিক ২৫ শতাংশ করে টাকা আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া যায়।

সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পের আওতায়ভুক্ত জলাশয় সংস্কারে ক্ষেত্রে কতগুলো ভাগে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। তার মধ্যে জলাশয় সংস্কারে ১০ লাখ বর্গমিটার পর্যন্ত মাটি কাটার ক্ষেত্রে কোটেশন হবে এবং সেক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার মাটি টাকার খরচ ধরা হয়েছে ১২৪ টাকা। ২০ লাখ বর্গমিটার পর্যন্ত মাটি কাটতে মাস্টার রোলে লেবার এবং তার বেশি হলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজ দেয়া হবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাস্টার রোলে মাটি না কাটিয়ে যন্ত্রের সাহায্যে কম খরচে মাটি কেটে মাস্টার রোলের নামে বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। এমনকি কোনো কোনো প্রকল্পে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম কাজ করেও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ছিল ওপেন সিক্রেট।
এ প্রসঙ্গে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. আলীমুজ্জামান চৌধুরী প্রকল্পের দুর্নীতির কথা অস্বীকার করে বলেন, কিছু অনিয়ম হয়তো হয়েছে তবে কোনো দুর্নীতি হয়নি। আর আমার এশার পক্ষে তো সারাদেশের প্রকল্পগুলোর দিকে নজর রাখা সম্ভব নয়। আর মাটি কাটার শ্রমিক সঙ্কটে কোনো কেনো ক্ষেত্রে হয়তো যন্ত্রের মাধ্যমে মাটি কাটা হয়েছে। কিন্তু কিভাবে মাটি কাটা হলো তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাটি কাটা হয়েছে কিনা?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

জামালপুরে আরো ৭৭৫ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘পাকা ঘর’

হাফিজুর রহমান: জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন (২য় পর্যায়) ৭৭৫টি পরিবারকে ০২ শতাংশ জমিসহ ঘরের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি...

প্রয়াত সাংবাদিক আনোয়ারের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিলেন জামালপুরের ডিসি মোর্শেদা জামান

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরে প্রয়াত সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আনু’র পরিবারের কাছে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দিলেন জামালপুরের সুযোগ্য মানবিক জেলা...

জামালপুরে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলোর যোগসুত্র স্থাপন বিষয়ক সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের মূল ¯্রােতধারায় নিয়ে আসার অঙ্গীকার সামনে রেখে বুধবার জামালপুরে সমমনা সংগঠনগুলোর...

জাতীয় মহিলা সংস্থার জামালপুরের চেয়ারম্যান হলেন আঞ্জুমনোয়ারা হেনা

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামালপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঝাউগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঞ্জুমনোয়ারা বেগম হেনাকে চেয়ারম্যান মনোনীত করে...

Recent Comments