Friday, December 9, 2022
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তাঁরা ১২ জন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তাঁরা ১২ জন

বরিস জনসনের পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়াই জমে উঠেছে। এ লড়াইয়ে সর্বশেষ যোগ দিয়েছেন দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভেদও। এ পর্যন্ত ১২ জন রাজনীতিক–আইনপ্রণেতা প্রধানমন্ত্রী হতে মাঠে নেমেছেন।

বরিস জনসনের পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়াই জমে উঠেছে। এ লড়াইয়ে সর্বশেষ যোগ দিয়েছেন দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভেদও। এ পর্যন্ত ১২ জন রাজনীতিক–আইনপ্রণেতা প্রধানমন্ত্রী হতে মাঠে নেমেছেন।

লিজ ট্রাস

তিনি বরিস জনসন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০১০ সালে সাউথ–ওয়েস্ট নরফক থেকে কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে প্রথমবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে যান ট্রাস। এর আগে তিনি ডেভিড ক্যামেরুন ও থেরেসা মে সরকারেরও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন ব্রেক্সিট আলোচনায়। কর কমানো, জাতীয় বিমা বৃদ্ধিসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি বরাবর সরব রয়েছেন।


ঋষি সুনাক

বরিস জনসন সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী ঋষি সুনাক। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জনসনের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে রিচমন্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ার থেকে তিনি প্রথমবার এমপি হন। পাঁচ বছরের কম সময়ে ২০২০ সালে দেশের অর্থমন্ত্রী হন তিনি। করোনাকালে অর্থনৈতিক চাপ সামলানোর জন্য প্রশংসা পেয়েছেন ঋষি সুনাক। ক্ষমতায় গেলে অর্থনীতির গতি ফেরাতে ও জনগণের করের বোঝা কমাতে চান তিনি। লকডাউনের নিয়ম ভঙ্গ করা ও ধনাঢ্য স্ত্রীর কর মওকুফ করার জন্য তাঁর সমালোচনা হয়েছিল।

সাজিদ জাভিদ

পাকিস্তানি অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া সাজিদ জাভিদ যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। বরিস জনসনের সমালোচনা করে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন তিনি। ২০১০ সালে ব্রমসগ্রোভ থেকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছিলেন। পরে বরিস জনসনকে সমর্থন করে দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ক্ষমতায় গেলে আয়কর ও করপোরেশন কর কমানো এবং জাতীয় বিমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন জাভিদ।


জেরেমি হান্ট

থেরেসা মের আমলে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন জেরেমি হান্ট। সাউথ–ওয়েস্ট সুরি আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে যান তিনি। ২০১০ সাল থেকে তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সামলেছেন। ২০১৯ সালেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন হান্ট। এবার নির্বাচিত হতে পারলে তিনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসায়ী ও করপোরেশনের জন্য করের বোঝা কমানোর কথা জানিয়েছেন।



প্রীতি প্যাটেল

বরিস জনসন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন প্রীতি। ২০১০ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সদস্য হিসেবে রয়েছেন তিনি। কনজারভেটিভ পার্টির মুখপাত্র ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ নারী। একসময় তামাক ও অ্যালকোহল শিল্পের লবিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। ব্রেক্সিট আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তিনি থেরেসা মের সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম জমা দেননি প্রীতি। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তাঁর নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির মুখে বরিস জনসনকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন প্রীতি।

টম টুগেন্ডহাট

২০১৫ সালে কেন্ট থেকে এমপি নির্বাচিত হন টুগেন্ডহাট। তিনি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সেনাসদস্য হিসেবে তিনি ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ক্ষমতায় গেলে জাতীয় বিমা ও জ্বালানি কর কমানো এবং বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।


নাদিম জাহাবি

যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী নাদিম জাহাবি। ঋষি সুনাকের পদত্যাগের পর তাঁকে এ দায়িত্ব দেন বরিস জনসন। এর আগে তিনি দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। শৈশবে তিনি ইরাক থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন। ২০১০ সালে এমপি হওয়ার আগে জরিপ সংস্থা ইউগভ প্রতিষ্ঠা করেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে তিনি টিকামন্ত্রী হিসেবেও কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।


কেমি বেডেনচ

যুক্তরাজ্যের আবাসনমন্ত্রী থাকার সময় কর কমানোর অঙ্গীকার করেছিলেন কেমি বেডেনচ। ক্ষমতায় থাকাকালে কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এই নারী ছোটবেলা কেটেছে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ায়। ব্যাংকার হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন কৃষ্ণাঙ্গ নারী কেমি বেডেনচ। পরে যুক্তরাজ্যের সাপ্তাহিক সাময়িকী স্পেকটেটর ম্যাগাজিনের পরিচালক হন তিনি। ২০১৭ সালে সাফর্ন ওয়ালডেন শহর থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রী পদমর্যাদার দায়িত্ব পান। এরপর হাউজিং মন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি।


সুয়েলা ব্রেভারম্যান

যুক্তরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল সুয়েলা ব্রেভারম্যান সবার নজরে আসেন ব্রেক্সিট সমর্থন করে। ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস আদালতের অধীন থেকে যুক্তরাজ্যকে বের করে নেওয়ার চেষ্টার জন্য তিনি আলোচিত হন। এ ছাড়া জ্বালানি খাতের শুল্ক কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে সরব অবস্থান ছিল তাঁর। থেরেসা মের সরকারে মন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়ার চুক্তি বাতিল করায় ওই সরকারের মন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। ২০২০ সালে জিওফ্রে কক্সের পরিবর্তে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব দেওয়া হয় সুয়েলা ব্রেভারম্যানকে। এরপর থেকে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১৫ সালে হ্যাম্পশায়ারের ফারেহাম থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি।

রেহমান চিশতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী পদে লড়ার ঘোষণা দেন এই এমপি। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। ২০১০ সাল থেকে গিলিনহাম ও রেইনহামের এমপি পদে আছেন তিনি। ২০১৯–২০ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন রেহমান চিশতি।


পেনি মরডেন্ট

বরিস জনসন সরকারের বাণিজ্য নীতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পেনি মরডেন্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াই করার ঘোষণা দেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন পেনি মরডেন্ট। ডেভিড ক্যামেরুন প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আর্মড ফোর্সড মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পেনি ২০১০ সাল থেকে পোর্টসমাউথ নর্থের এমপি হিসেবে পার্লামেন্টে দায়িত্ব পালন করছেন।


গ্রান্ট শ্যাপস

যুক্তরাজ্যের বর্তমান পরিবহনমন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস। আগামী বছরের মধ্যে আয়কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠা ও প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ২০০৫ সাল থেকে উইলেন হ্যাটফিল্ডের এমপি হিসেবে আছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments