Monday, May 10, 2021
Home জাতীয় রাস্তায় বাগবিতন্ডা: নজরে আনার আপনি কে, আইনজীবীকে হাইকোর্ট

রাস্তায় বাগবিতন্ডা: নজরে আনার আপনি কে, আইনজীবীকে হাইকোর্ট

আ.জা. ডেক্স:

লকডাউনের মধ্যে রাজধানীতে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও নারী চিকিৎসকের বাগবিতন্ডার ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনলে আদালত আইনজীবীকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনি কে? যদি আসতে হয়, উনি (ডাক্তার) আসবেন। তখন দেখা যাবে। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চিকিৎসক-পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতন্ডার ঘটনায় ডাক্তারকে হেনস্থা করা হয়েছে এমন ঘটনা নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে আজ (গতকাল সোমবার) তিনটি আলাদা পত্রিকা আদালতে উপস্থাপন করেছিলাম। আমি জনস্বার্থে এই ঘটনা আপনাদের (আদালতের) কাছে উপস্থাপন করছি। পরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ বলেন, যেহেতু বিষয়টি ডাক্তার নিজেই চ্যালেঞ্জ করেছেন। আদালতে আসতে চাইলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে আসতে হবে। অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ আদালতকে বলেন, গত রোববার একজন চিকিৎসককে পুলিশ হয়রানি করেছে। আমি জনস্বার্থে এই ঘটনাটি আপনাদের কাছে উপস্থাপন করছি। একজন নারী চিকিৎসককে রাস্তায় হেনস্তা করা হয়েছে- এ বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা চাচ্ছি। তখন আদালত বলেন, পুলিশ-চিকিৎসক ও ম্যাজিস্ট্রেট রাস্তায় বাগবিতন্ডা করেছেন। তাকেই আদালতে আসতে হবে। তখন বিষয়টি দেখা যাবে। গত রোববার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সরকারি বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে বাগবিতন্ডায় জড়ান এক নারী চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। তিনপক্ষের বাগবিতন্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ অনেককে নানা পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুপুরে এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের চেকে পড়েন। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদ আদালত পরিচালনা করছিলেন। নিউ মার্কেট থানার একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন। চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে তার আইডি কার্ড দেখতে চান। সঙ্গে আইডি কার্ড আনেননি বলে জানান চিকিৎসক জেনি। এরপর তার কাছে মুভমেন্ট পাস দেখতে চাওয়া হয়। এ সময় জেনি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। জিজ্ঞাসা করেন, ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস লাগে? তিনি গাড়িতে বিএসএমএমইউ স্টিকার ও হাসপাতাল থেকে পাওয়া তার লিখিত পাস দেখান। এরপরও পুলিশ তার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় জেনি আরও উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে বলেন, আমি ডাক্তার। করোনার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছি। আপনারা কয়জন মরছেন। আমরা ১৩০ জন মরেছি। সেসময় ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আপনি ধমক দিচ্ছেন কেন? আমরা প্রশাসনের লোক। ১০০ বার আপনার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চাইতে পারি। এরপর চিকিৎসক বলেন, আমি বীর বিক্রমের মেয়ে। তখন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আমিও বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। আমরা কি ভাইসা আসছি নাকি? চিকিৎসক বলেন, আমি শওকত আলী বীর বিক্রমের মেয়ে। আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল বলেই তোমরা পুলিশ হয়েছ। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত নিউ মার্কেট থানা পুলিশের পরিদর্শক বলেন, আমিও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আপনার বাবা একা যুদ্ধ করেননি। চিকিৎসক জেনি গাড়িতে উঠতে উঠতে বলতে থাকেন, ডাক্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তখন পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, কোনো ডাক্তার হয়রানি হচ্ছে না। এরপর গাড়ি রাস্তার একপাশে নিয়ে তিনি (চিকিৎসক জেনি) কেন খারাপ ব্যবহার করেছেন, তা জানতে চান ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আপনি আমাকে তুই-তুকারি করতে পারেন না। জীবন আমরাও দিচ্ছি। আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছেন। আমরা কি ভাইসা আসছি? এরপর একজন মন্ত্রী ফোন করেছেন বলে মোবাইল ফোন ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে এগিয়ে দেন চিকিৎসক জেনি। কিছু সময় কথা বলার পর মোবাইল তার কাছে ফেরত দেন ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মো. মামুনুর রশিদ। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমি প্রশাসনের লোক। ইউনিফর্ম থাকার পরও সঙ্গে আইডি কার্ড আছে। তখন চিকিৎসক বলেন, আমি ডাক্তার। গায়ে অ্যাপ্রোন আছে। আপনি মেডিকেলে চান্স পাননি বলে পুলিশ হয়েছেন। এরপর চিকিৎসক জেনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনকে ফোন দিয়ে কথা বলতে বলেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয়বার কথা বলেননি। তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। চিকিৎসক জেনি দীর্ঘ সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে পুলিশকে স্যরি বলতে বলেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ স্যরি বলেছে কি না, তা জানা যায়নি। চিকিৎসক-ম্যাজিস্ট্রেটের বিতন্ডার ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এদিকে চলমান ‘লকডাউন’ পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আবশ্যিকভাবে আইডি কার্ড ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক হাজার গাছ লাগানো হবে

আ.জা ডেক্স.: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এখানে প্রায় ১ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ...

দেশে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত, উদ্বেগ

আ.জা. ডেক্স: ভারতের নতুন ধরনের করোনা ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) কোনোভাবেই যাতে বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে সেজন্য সীমান্ত ১৪ দিনের...

পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের জায়গাটি দর্শনীয় করা হবে: কাদের

আ.জা. ডেক্স: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের...

শিশুপার্ক বানানোর সময় নীরব, এখন সরব কেন: নানক

আ.জা. ডেক্স: স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্যই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক বিশাল...

Recent Comments