Friday, August 6, 2021
Home জাতীয় রোজা সামনে রেখে সরকারি পর্যায়ে চিনির মজুদ অর্ধেকে নেমে এসেছে

রোজা সামনে রেখে সরকারি পর্যায়ে চিনির মজুদ অর্ধেকে নেমে এসেছে

আ.জা. ডেক্স:

সরকার রোজার চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রতিবছর এক লাখ টন থেকে এক লাখ ২০ হাজার টনের মতো চিনি মজুদ রাখে। কিন্তু এবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সরকারি ৬টি চিনিকল। আর বাকিগুলোর উৎপাদনও সন্তোষজনক নয়। ফলে এবার রোজা সামনে রেখে সরকারি পর্যায়ে চিনির মজুদ ৫০ হাজার টনে নেমে এসেছে। দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৮ লাখ টন। তার মধ্যে রমজান মাসেই ৩ লাখ টন চিনি লাগে। কিন্তু সরকারি মজুদ কমে যাওয়ায় এখন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রমজান সামনে রেখে নানা অৎুহাতে চিনির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে এখন চিনির বাজার। শিল্প মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রমজানে চিনির বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারি পর্যায়ে যে পরিমাণ চিনি মজুদ রয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। যদিও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) সংশ্লিষ্টরা রমজানের চাহিদা মোকাবেলায় সরকারিভাবে চিনির মজুদকে যথেষ্ট বলে দাবি করছে। অথচ সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পণ্য না থাকলে তখন বাধ্য হয়ে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকারি চিনিকলে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

সূত্র জানায়, চিনির দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে চিনির দাম গড়ে ১০ টাকা বেড়েছে। বেসরকারি চিনিকলে উৎপাদিত ফ্রেশ ও তীর ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি চিনি ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশে উৎপাদিত চিনির চাহিদা থাকলেও বাজারে তা কম পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় চিনির দামও বেশি। যদিও চিনির দাম বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাড়তি শুল্ক ও করোনা সংকটের কথা বলছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি কারখানায় উৎপাদিত চিনি এবার বাজারে নেই বললেই চলে। ফলে বেসরকারি চিনিকলের উৎপাদন ও আমদানির ওপর বাজার নির্ভরশীল। আর বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট না থাকলে চিনি কিছুটা কম দামে পাওয়া যেতো। তাছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে চিনির দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি টন চিনি আমদানিতে শুল্ক ৩ হাজার টাকা, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর ২ শতাংশ। তার সঙ্গে বিক্রি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ট্রেড ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। আর চীন থেকে চিনির বড় চালানগুলো আসে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে কনটেইনার ভাড়া বেড়েছে। ২০ ফুটের একটি কনটেইনারের ভাড়া আগে ছিল ৮০০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৮০ টাকা।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বিএসএফআইসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) আনোয়ার হোসেন জানান, বিএসএফআইসির কাছে এবার রোজার জন্য ৫০ হাজার টনের মতো চিনি আছে। রোজা সামনে রেখে তা থেকে ইতোমধ্যে বাজারে বিক্রিও শুরু হয়েছে। বেসরকারি খাতের কোনো অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে চিনির দাম বাড়িয়ে বিক্রির চেষ্টা করলে সরকারি চিনি বেশি পরিমাণে ছাড়া হবে। তাতে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

টিকা না নিয়ে বের হলে শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়নি: তথ্যমন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কোনো নাগরিক টিকা নেয়া ছাড়া বাইরে...

টিকা ছাড়া চলাফেরায় শাস্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আ.জা. ডেক্স: আগামী ১১ আগস্ট থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নেয়া ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের কোনো ব্যক্তি বাইরে চলাফেরার...

‘জিনের বাদশা’ সেজে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ৩ সদস্য আটক

আ.জা. ডেক্স: চট্টগ্রামের এক নারীর স্বামী বিদেশ থাকেন। তার দুরারোগ্য ব্যাধি ছিল। এই রোগ থেকে মুক্তির আশায় টেলিভিশনের...

আইটি পণ্য সরবরাহ বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখার নির্দেশ

আ.জা. ডেক্স: তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে জরুরি সেবা খাতের আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে চলমান বিধিনিষেধে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারসহ আইটি পণ্য সরবরাহে...

Recent Comments