রৌমারীতে সার নেই কৃষকের হাতে, ক্ষোভে লুট ও শাটার ভাঙ্গচুর

রৌমারী সংবাদদাতা
আমন মৌসুম শুরু থেকেই সারের আসায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা সার না পাওয়া, দেরিতে বিতরণ, কৃষি উপসহকারীদের অনিয়ম এবং বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে গুদাম থেকে সার লুট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে।
জানা যায়, আমন মৌসুমের শুরু থেকে সার না পাওয়া কৃষকগন সারের জন্য কৃষি অফিস, কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা ও খুচড়া বিক্রেতা দোকানদারদের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।
এদিকে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সার দেয়ার কথা শুনে কৃষকগণ গুদামের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকে। উপসহকারী ও ডিলারদের কারসাজিতে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে ডিলারের গুদাম ভাঙ্গচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় তারা।
এদিকে ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার রৌমারী মহিলা কলেজ গেটের সামনে ভোর থেকে সার নিতে আসা অপেক্ষা করেন কৃষকরা। বিতরণে দেরি হওয়ায় একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভাঙচুর করে কৃষকেরা ভেতরে ঢোকেন এবং শতাধিক সারের বস্তা নিয়ে যায়।
একই দিনে দুপুরের দিকে তুরা রোডে কাস্টম অফিস সংলগ্ন মেসার্স অনুপম ট্রেডার্সের সামনে প্রায় ৭/৮ শত কৃষক সেখানে ভীর জমায়। প্রখর রোদে অপেক্ষায় থেকে, সার দিতে গড়িমশি করলে তারা উত্তেজিত হয়ে গুদাম ঘরের শাটার ভেঙ্গে ফেলে।
এলাকাবাসী সামছুল আলম, শাহাদত হোসেন, লাভলি আকতার, সুরমান আলীসহ অনেকেই বলেন, গত ৩ দিন থেকে সার বিতরণ হচ্ছে। রৌমারী, বড়াইকান্দি, দাঁতভাঙ্গা হাজির হাট, চরশৌলমারীতে সার বিতরণের সময় কৃষকের উত্তেজনা দেখা গেছে।
কৃষক আসমত আলী, রহম আলীসহ অনেকেই জানান, সময়মত জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে ধান ভালো হবে না। সার ডিলারের গুদামে রেখে ডিলার ও কৃষি উপসহকারীগনের মাঝে অনিয়মের ছাপ থাকায় আজ কৃষকের সার পেতে সমস্যা হচ্ছে। সরকারের কাছে দাবী সময়মত সার দেয়া।
ডিলার মতিয়ারের দাবি, আমার ধারনা গুদাম থেকে প্রায় শতাধীক ইউরিয়া সারের বস্তা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বিতরণের পর হিসাব করে জানতে পারা যাবে কতটি বস্তা নিয়েছে।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি ভুয়া এবং মিতা সার ডিলারের ঘরে এমন ঘটনা ঘটেনি। একই দিনে তুরা রোডে অনুপম ট্রেডার্সে সার বিতরণ করা হয়েছিল। কিছু কৃষকের সমস্যার কারণে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনসহ নিয়ন্ত্রনে এনে সার বিতরণ করা হয়।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবল হাসান বলেন, সার নিতে আসা কৃষকগণ ধর্যের বাইরে যাওয়ায় একটু উত্তেজিত হয়েছিল। আমরা সবাই গিয়ে নিয়ন্ত্রনে এনে সার বিতরণ করা হয়েছে। তবে শুনেছি, মিতা ট্রেডার্সের সার বিতরণের আগে কৃষকেরা ঘর ভাংচুর করে সার নিয়ে গিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত পুর্বক দেখা হবে।