Friday, February 3, 2023
Homeশেরপুরশেরপুরে চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

শেরপুরে চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলাদেশ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রান্তিলগ্নে “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই শ্লোগান নিয়ে জন্ম হয় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‌্যাব বাংলাদেশের মানুষের কাছে আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। বিভিন্ন ধরনের চাঞ্চল্যকর অপরাধের স্বরূপ উৎঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কারণেই এই প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছে আস্থা ও নিরাপত্তার অন্য নাম হিসেবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। র‌্যাব তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, মানব-পাচার, হত্যাসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে; যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ কর্তৃক ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
ভিকটিম মোঃ রেজ্জাক (৩৫) একজন অটোরিক্সা চালক। ভিকটিম জনৈক রেজোয়ান মিয়া @ মানিক এর অটোরিক্সা ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গত ০৭/০৩/২০১৬ ইং তারিখ সকাল অনুমান ০৮:০০ ঘটিকায় অটোরিক্সা নিয়ে বাহিরে যান। সারাদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ভিকটিম রাতের বেলায় বাড়ীতে ফিরে না আসায় তার স্ত্রী ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে তার ফোনটি বন্ধ পায়। তখন ভিকটিমের স্ত্রী (বাদী) জেলখানার মোড়ে গিয়ে অন্যান্য অটোচালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করিলে বাদীর ভাগিনা অটোচালক সোহাগ মিয়া জানায় যে, গত ০৭/০৩/২০১৬ ইং তারিখ রাত অনুমান ০৮:৪৫ ঘটিকার সময় মিল্টন, সাগরদ্বয় ভিকটিমের অটোরিক্সায় উঠিয়া জেলখানার মোড় হতে আখের মাহমুদ বাজারের দিকে যেতে দেখেন। বাদী বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুজির করার পর তার স্বামীকে না পেয়ে নিকটস্থ থানায় মৌখিকভাবে ঘটনাটি জানায়। অতঃপর বাদী ও পুলিশসহ খোঁজাখুজির একপর্যায়ে দমদমা কালিগঞ্জ সাকিনস্থ করিম মাস্টার এর বসতবাড়ীর পেছনে কবরস্থানে ভিকটিমের অটোরিক্সাটি রক্তমাখা অবস্থায় দেখতে পায়। বাদী এবং পুলিশসহ আসামী মিল্টন এর বাড়ীতে গিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে বাড়ীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে আসামীর বসতঘরের চৌকির নীচ হতে তার পরিহিত শার্ট, প্যান্ট ও জুতা রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বাদীর সন্দেহ আরো ঘনীভূত হতে থাকলে থানা পুলিশসহ ভিকটিমকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করতে থাকে। এমতাবস্থায় স্থানীয় লোকজনের সংবাদ প্রাপ্তির পর ভিকটিমের স্ত্রী গত ০৮/০৩/২০১৬ ইং তারিখ সকাল ০৭:১৫ ঘটিকার সময় মোবারকপুর সাকিনস্থ জনৈক আলহাজ মোহাম্মদ আলী এর ইটের ভাটার ভিতরে ইট দ্বারা অর্ধ ঢাকা অবস্থায় ভিকটিমের কপালে কাটা দাগ, গলা কাটা ও ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ব্যতীত চারটি আঙ্গুলের মাঝখানে কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ সনাক্ত করে। উক্ত লাশটি বীভৎস অবস্থায় দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ এসে ভিকটিমের সুরতহাল প্রস্তুতপূর্বক ময়না তদন্তের জন্য লাশ নিয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে এজাহার দাখিল করিলে অফিসার ইনচার্জ শেরপুর সদর থানায় মামলা নং-০৮/১০২, তারিখঃ ০৮/০৩/২০১৬ ইং, ধারা-৩০২/৩৭৯/২০১/৩৪ দঃ বিঃ রুজু করেন। তদন্তকারী অফিসার মামলার তদন্ত শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের পেনাল কোড আইন এর ৩০২/৩৭৯/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। মামলার ঘটনার পর থেকেই আসামী সাগর (২৬), পিতা-মোঃ শাজাহান আলী, সাং-দমদমা কালীগঞ্জ, থানা-শেরপুর সদর, জেলা-শেরপুর আত্মগোপনে চলে যায়। দীর্ঘ ০৬ বছর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সাগর (২৬) দেশের বিভিন্ন স্থানে মোঃ শাহীনুর নামে ইসলামী ব্যাংক, রাজেন্দ্রপুরে সিকিউরিটি গার্ড পরিচয়ে চাকরী করেন এবং সিএনজি চালক ইত্যাদি পেশায় জীবনযাপন করত। পরবর্তীতে বিজ্ঞ বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ, আদালত শেরপুর মহোদয় গত ০৬/০৪/২০২২ ইং তারিখে আসামী সাগর (২৬)’কে ১৮৬০ সালের পেনাল কোড আইন এর ৩০২/৩৭৯/২০১/৩৪ ধারার অপরাধে দোষী সাবস্থ করে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে ও ১০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড এবং অনাদয়ে আরো তিন মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে আসামীর অবস্থান নিশ্চিত করে জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এম. এম. সবুজ রানা এর নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল ইং ২৪/০১/২০২৩ তারিখ অনুমান ২০:৪০ ঘটিকায় গাজীপুর জেলার সদর থানাধীন রাজেন্দ্রপুর এলাকা হতে আসামীকে আটক করে। ধৃত আসামীকে শেরপুর সদর থানায় মামলা নং-০৮/১০২, তারিখঃ ০৮/০৩/২০১৬ ইং, ধারা-৩০২/৩৭৯/২০১/৩৪ দঃ বিঃ মূলে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments