Monday, March 4, 2024
Homeশেরপুরশেরপুরে ধর্ষণ মামলায় পিতাপুত্র ও মহিলাসহ তিনজনের কারাদন্ড

শেরপুরে ধর্ষণ মামলায় পিতাপুত্র ও মহিলাসহ তিনজনের কারাদন্ড

বুলবুল আহম্মেদ : শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার গেরাপচা গ্রামের বাসিন্দা জনৈক আমান উল্ল্যার নাবালিকা কন্যা (১২) কে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে ১ নভেম্বর বুধবার দুপুরে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ জেলা জজ কামরুন নাহার রুমী এক জনাকীর্ণ আদালতে বাবু মিয়া (২০) কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭ ধারার অপরাধ সন্দেহজনক প্রমান হওয়ায় ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ১মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড একই আইনে ৯(১) ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন একই সাথে বাবুর পিতা মোঃ মোফাজ্জল হক (৫৫) ও মোছাঃ লুৎফা বেগম (৫০) কে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং সেই সাথে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দিয়েছেন। এছাড়াও দন্ডকৃত অর্থ অনাদায়ে আরো ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নালিতাবাড়ী উপজেলার বনপাড়া গ্রামের মোঃ মোফাজ্জল হকের ছেলে মোঃ বাবু মিয়া, মৃত সেকান্দর আলীর ছেলে মোঃ মোফাজ্জল হক ও একই উপজেলার মৃত বাবুল মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ লুৎফা বেগম। আদালত ও মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার গেরাপঁচা গ্রামের বাসিন্দা আমানউল্ল্যাহর স্ত্রী শহর বানুর সাথে মো. মোফাজুল হকের স্ত্রী বোন সম্পর্ক এবং আত্মীয়তা তৈরি করেন। এমন আত্মীয়তার সুবাদে মোঃ বাবু মিয়া আমান উল্ল্যাহকে খালু এবং তা স্ত্রীকে খালা ডাকেন এবং সেই সুযোগে ওই বাড়িতে যাতাযাতের এক পর্যায়ে আমান উল্ল্যাহর নাবালিকা মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় বাবুর পিতা। পরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মোফাজ্জল হক ক্ষুদ্ধ হয় এবং সুযোগ খুঁজতে থাকেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৫ মে আমান উল্ল্যাহ ও তার স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে নাবালিকা ভিকটিমকে তাদের ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে ওই দন্ডপ্রাপ্তরা চানাচুরে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে তাকে খাইয়ে অজ্ঞান করে সিএনজি যোগে অপহরণ করে প্রথমে নালিতাবাড়ী পরে ঢাকার এক অজ্ঞাত স্থানে বাসায় নিয়ে ভিকটিমকে আটকে রাখে। এদিকে ওই নাবালিকা ভিকটিম জ্ঞান ফিরে দেখেন একটি ঘরে খাটে শুয়ে আছেন। পরবর্তীতে মোঃ বাবু মিয়া তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিক বার ধর্ষণ করে। এদিকে আমানউল্ল্যাহ তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে তাদের মেয়েকে না পেয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর নালিতাবাড়ী থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুহুরুল হক বিগত ২৯/৫/২০১৯ অপহৃতা ভিকটিমকে উদ্ধার করেন এবং ৩০/৫/২০১৯ তারিখে আদালতে তার ২২ ধারা জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে অদন্তকারী অফিসার মো. বাবু মিয়া তার বাবা মোঃ মোফাজ্জল হক এবং অপরহরণের সহায়তাকারী মোছাঃ লুৎফা বেগমের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক দীর্ঘ স্বাক্ষী সাবুদ শেষে ছেলে মোঃ বাবু মিয়া, পিতা মোঃ মোফাজ্জল হক ও মোছাঃ লুৎফা বেগমকে দোষী সাব্যস্থ করে গতকাল বুধবার দুপুরে ওই রায় ঘোষণা করেন। মামলা চলাকালিন সময়ে রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানাল আদালতের পিপি এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু ও আসামী পক্ষে ফাহিম হাসানাইন।

Most Popular

Recent Comments