Saturday, September 26, 2020
Home শেরপুর শেরপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দূর্নীতির আখড়া!

শেরপুরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দূর্নীতির আখড়া!

শেরপুর প্রতিনিধি:

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীন শেরপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চলছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি। ফলে এ সরকারী সেবাদান কেন্দ্রটি এখন দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। এতদিন বিষয়টি সবার চক্ষুর আড়ালে থাকলেও বর্তমানে থলের বিড়াল বেড়িয়ে পড়েছে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করার জন্য কার্যত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আধুনিক অটিতে হচ্ছে সিজারের ব্যবস্থা থাকলেও কার্যত এটাকে অচল করে রাখা হয়েছে। কিন্তু এসব অনিয়মের সাথে একাধিক কর্মকর্তা জড়িত থাকায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। উল্টো যে কর্মকর্তা এ অনিয়মের প্রতিবাদ করেছেন, তার বিরুদ্ধেই শোকোজ করা হয়েছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, চলতি বছর ২৩ মার্চ সোমবার শেরপুর শহরের গোপালবাড়ী এলাকার সদর উপজেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ওষুধ ভান্ডার থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এসব ওষুধের মধ্যে ছিল মূল্যবান সেফট্রিয়াক্সন, মেট্রোনিডাজল, কটসন ইনঞ্জেকশন, স্যালাইন, গজ-ব্যান্ডেজসহ অজ্ঞান করার ও এন্টিবায়োটিক ওষুধ। প্রাথমিকভাবে জানাযায়, এই কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ক্লিনিক) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের অবহেলা ও গাফিলতিতে এসব ওষুধ নষ্ট হয়ে গেছিল। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ ওঠলেও এ নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করলেও অদ্যবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে শেরপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডা: পিযুষ চন্দ্র সুত্রধর এ বিভাগের নানা অনিয়মের সাথে জড়িত থাকায় এসব কাজের কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সূত্রমতে, তার চাকুরী জীবনের ২৩ বছরের মধ্যে ২০ বছরই কাটিয়েছেন শেরপুর জেলায়। উপ-পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ৫ বছর ধরে রয়েছেন এ জেলাতেই। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার নানা অনিয়মের জন্য পত্রপত্রিকায় খবর হলেও কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। উল্টো তার প্রমোশন হয়েছে। শেরপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অজ্ঞানের ডাক্তার আসলেও নানা কুটকৌশল করে বিদায় করে দেয়া হয়। আর মাতৃসদনে আসা দরিদ্র রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসব বেসরকারী হাসপাতালে সিজার করানোর সাথে জড়িত রয়েছেন উপ-পরিচালক ডা. পিযুষ চন্দ্র সূত্রধর নিজে, এমনটাই জানালেন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে শেরপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ঔষধ ক্রয় না করেই ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে বিল ওঠানোর জন্য দৌড়ঝাপ ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের মেডিক্যাল অফিসার (ক্লিনিক) মো: মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে দু’দফায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঔষধ ক্রয় করার জন্য সরকারী অর্থ বরাদ্দ আসে। নিয়ম অনুযায়ী ওই টাকার ঔষধ ক্রয় করে সাধারণ রোগীদের মধ্যে বিতরণ করার কথা ছিল। এ ঔষধ ক্রয় করতে হলে ক্রয় কমিটির সভা করে কোটেশন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সর্বনিম্ন দর দাতার কাছ থেকে ঔষধ ক্রয় করার নিয়ম ছিল। ওই ঔষধ বুঝে নেয়ার কথা শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: শারমিন রহমান অমির। তিনি ঔষধ বুঝে নিয়ে যাছাই বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানের মেডিক্যাল অফিসার (ক্লিনিক) মো: মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে বুঝিয়ে দেয়া কথা ছিল। কিন্তু এসব কিছুই করা হয়নি। ঔষধ ক্রয় না করেই ভূয়া বিল ভাউচার তৈরী করে কমিটির সদস্যদের অফিসে অফিসে ঘুরে ঘুরে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করছিলেন জনাব ডা: মোস্তাফিজুর রহমান। আর এ টাকা তুলে ভাগভাটোয়ারা করে আত্মসাত করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: শারমিন রহমান অমি ঔষধ বুঝে না নিয়ে ভূয়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করেনি। অভিযোগ রয়েছে, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উপপরিচালক ডা: পিযুষ চন্দ্র সূত্রধরও ভ‚য়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করার জন্য ডা: শারমিন রহমান অমিকে চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু জনাব ডা: অমি কোন ভ‚য়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করেননি। ওষুধ ক্রয় না করায়, বিল ওঠাতে ব্যর্থ হয় তারা। ফলে টাকা ফেরত যায় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে। এতে তার প্রতি ক্ষুব্ধ হন জনাব পিযুষ চন্দ্র সূত্রধর। প্রতিবছরই এভাবেই ভ‚য়া বিল ভাওচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে তা ভাগভাটোয়ারা করে নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে এসব ঘটনার জন্য দায়ী মেডিক্যাল অফিসার (ক্লিনিক) মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও উপ-পরিচালক ডাঃ পিযুষ চন্দ্র সূত্রধরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও অদ্যবধি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ অনিয়মের আশ্রয় প্রশ্রয় না দেয়ায় এখন উল্টো শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিবার অফিসার, শেরপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার এবং ক্রয় কমিটির সদস্য ডা: শারমিন রহমান অমির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা উপপরিচালক ডা: পিযুষ চন্দ্র সূত্রধর ডা: শারমিন রহমান অমিকে হয়রানীর করার লক্ষে তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি অন্য একটি ইস্যুতে শোকোজ করেছেন।

অথচ ডা: শারমিন রহমান অমি, শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তার কর্ম তৎপড়তায় প্রাণ ফিরে এসেছে পরিবার পকিল্পনা কার্যক্রমে। প্রথম হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। শুধু তাই নয়, তিনি নানাভাবে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবায় চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি সচেতন করতে নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনা সংকট কালীণ ও চলতি বন্যার সময় তার স্টাফদের সাথে নিয়ে নৌকা যোগে বাড়িবাড়ি গিয়ে জনসাধারণকে চিকিৎসা সেবা এবং বিনা মূল্যে ঔষধ প্রদান ও শুকনো খাবার বিতরণ করে সবার মন জয় করেছেন ডা: অমি। করোনা কালীন সময়েও তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে সেবা প্রদান ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রম করেছেন।

এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, মোদাচ্ছের হোসেন জানান, উল্লেখিত ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা, এটা আমার জানা নেই।

শেরপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডা: পিযুষ চন্দ্র সুত্রধর জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অশীকার করে বলেন, আমরা এ বিষয়ে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডিজি অফিসে লিখেছি। তদন্ত হয়েছে, তবে করোনার কারণে তা ঝিমিয়ে পড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নিজের খেলায় চমকে গেছেন ডি ভিলিয়ার্স নিজেই

আ.জা. স্পোর্টস: এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটে ঝড় ওঠা তো ক্রিকেটের সবচেয়ে নিয়মিত দৃশ্যগুলোর একটি। কিন্তু ৮ মাসের বিরতি...

ইতিহাসের পাতায় আফ্রিদি

আ.জা. স্পোর্টস: ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্ট টি-২০তে বল হাতে দুর্দান্ত এক স্পেল করলেন পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। মিডলসেক্সের...

মাত্র ১০ দিনে করোনা জয় করলেন ১০৬ বছরের বৃদ্ধা

আ.জা. আন্তর্জাতিক: মহামারি করোনাভাইরাসকে হারিয়ে মাত্র ১০ দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের ১০৬ বছরের বৃদ্ধা। রোববার সুস্থ...

নিজের সব সম্পদ দান করে দিলেন এই ধনকুবের

আ.জা. আন্তর্জাতিক: স্বপ্ন পূরণ করলেন এক ধনকুবের। নিজের অর্জিত সম্পদ দান করাই ছিল তার বহুদিনের স্বপ্ন। কয়েকশ' কোটি...

Recent Comments