Saturday, February 4, 2023
Homeশেরপুরশেরপুরে রঙিন ফুলকপি চাষ করে শফিকুলের বাম্পার ফলন

শেরপুরে রঙিন ফুলকপি চাষ করে শফিকুলের বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম। তিনি সারাবছরই তার জমিতে নানান ধরনের সবজি চাষাবাদ করে থাকেন। তবে এবার তিনি স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে রঙিন ফুলকপি চাষ করে বাম্পার ফলন ফলিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। শফিকুল তার অল্প জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার প্রয়োগ করে চার রঙের ফুলকপি চাষ করে দ্বিগুণ লাভবান হয়েছেন। তার এমন সফলতা দেখে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরাও।

আর রঙিন ফুলকপির সৌন্দর্য দেখতে শফিকুলের ক্ষেতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষকসহ উৎসুক জনতা। কেউ নিচ্ছেন পরামর্শ আবার কেউ তুলছেন ছবি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষক শফিকুল কৃষি অফিসের পরামর্শে তার নিজস্ব ১৫ শতক জমিতে চার রঙের ফুলকপির বীজ বপন করেন। এতে তিনি কোন প্রকার রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈবসার ব্যবহার করছেন। এতে চারাসহ সব মিলে তার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। চারা রোপনের ৭০ থেকে ৭৫ দিন পর ক্ষেতে আসে রঙ্গিন ফুলকপি। 

শফিকুল জানান, বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। তিনি আশা করছেন, পুষ্টিগুণে ভরপর এই রঙ্গিন ফুলকপিগুলো ১লাখ ৩০হাজার টাকার মতো বিক্রি করতে পারবেন।  তিনি আরও বলেন, মজার ব্যাপার হলো রঙিন এসব ফুলকপি দেখতে প্রতিদিনই এলাকার কৃষকসহ সাধারণ মানুষ আমার জমিতে ভীড় করছেন। কেউ নিচ্ছেন চাষের পরামর্শ আবার কেউ কেউ তুলছেন ছবি। তাছাড়া বাজারে নেওয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যায় এসব রঙিন কপি।

একই গ্রামের কৃষক জামিল, ছাত্তার, করিম জানান, আমাদের এলাকায় শফিকুলের আগে অন্য কেহ রঙিন ফুলকপির চাষ করে নাই। আমিও ফুলকপিগুলো এর আগে দেখেছি। তবে এখানে খুব ভালো ফলন হয়েছে। এসব কপি আবাদে খরচ কম এবং বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি। আগামীতে আমরাও আমাদের জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার বলেন, কৃষক শফিকুল ইসলাম শাকসবজি চাষে খুবই আগ্রহী। তিনি প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপি চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন। তার দেখাদেখি স্থানীয় অনেক কৃষকই এখন রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।  ফুলকপি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবজি। বিশেষ করে ফুলকপিতে ভিটামিন সি, ই, কে, ফলিক এসিড, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে। এটি ক্যানসার প্রতিরোধেও কাজ করে।

জেলা কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতান আহম্মেদ বলেন, সাধারণ কপির চেয়ে রঙিন ফুলকপির চাহিদা বাজারে বেশি। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক খুব একটা বেশি না। কৃষকদের সকল পরামর্শ দিতে জেলা কৃষি বিভাগ সব সময় পাশে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments