Friday, June 18, 2021
Home জাতীয় সক্রিয় ভুয়া এনআইডি তৈরি চক্র নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে পুলিশ

সক্রিয় ভুয়া এনআইডি তৈরি চক্র নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে পুলিশ

আ.জা. ডেক্স:

সারাদেশে সক্রিয় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জাল করে ভুয়া এনআইডি প্রস্তুকারী অপরাধী চক্রের সদস্যরা। প্রতিটি ভুয়া ও জাল এনআইডি তৈরি করতে অপরাধী চক্রের সিন্ডিকেট সদস্যরা ১ লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই চক্র কয়েকটি ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তদন্তে এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে আসার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১ হাজার ৫৭টি এনআইডি লক (অকার্যকর) করেছে। আর এনআইডি জাল করার অভিযোগে ৫৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ৪২ কর্মীকে বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে ইসি। ভুয়া এনআইডি তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের ডাটা এন্ট্রি অপারেটরসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করে ভুয়া এনআইডি প্রস্তুকারী চক্রের বিষয়ে ডিবির তদন্তে অনেক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে এনআইডি জালকারী অপরাধী চক্রের সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নেমেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জাল এনআইডি ব্যবহার করে ইতিমধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অন্তত ১৪ কোটি টাকার ঋণ হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ মিলেছে। এভাবে ঠিক কী পরিমাণ ঋণ নেয়া হয়েছে তা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। তাছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখল ও বিক্রিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডেও এনআইডি জাল করার সিন্ডিকেট সদস্যরা জড়িত। তদন্তে অসাধু ও অপরাধী চক্রের আর্থিক লেনদেনের চিত্রও উঠে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিটি এনআইডি তৈরির জন্য এক থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছে সিন্ডিকেট। তার মধ্যে ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেয়েছে। বাকি টাকা সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়।

সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী গত ১০ বছরে অন্তত ১০ লাখ মানুষ দ্বৈত ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করে। শুধুমাত্র ২০১৯ সালে ২ লাখ ৭ হাজার ৬৩৫ জন দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। তার মধ্যে খারাপ উদ্দেশ্যে দ্বৈত ভোটার হওয়া এক হাজার ৫৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আঙুলের ছাপ, ফেস রিডিং, চোখের মণির (আইরিশ) প্রতিচ্ছবি নেয়াসহ ৭টি ধাপ পার হওয়ার পরই একজন ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে থাকে। আইন অনুযায়ী একজনের একাধিক এনআইডি পাওয়ার সুযোগ নেই। নিবন্ধিত সব ভোটারের আঙুলের ছাপ ও ব্যক্তিগত তথ্য ইসির সার্ভারে (জাতীয় তথ্যভান্ডারে) সংরক্ষিত রয়েছে। কেউ দ্বিতীয়বার ভোটার হতে চাইলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এতো সব নিরাপত্তা ফাঁক গলে অবৈধ উপায়ে সহজেই এনআইডি কার্ড মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। মূলত আইন-কানুন বিধি-বিধানের এতো সব নিয়ম থাকলেও কিছু অসাধু কর্মীর কারণে জাতীয় তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা প্রশ্নের সম্মুখীন। ওসব অসাধু কর্মীরা অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে একজনকে দুবার এনআইডি গ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এভাবে অনেক রোহিঙ্গার হাতেও এনআইডি পৌঁছে গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতের সঙ্গে জড়িত ছিল আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (ইসি) এর সহকারী পরিচালক, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও মেসেঞ্জার পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও কর্মীরা। তারা প্রায় সবাই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ইসিতে কাজ করতো। তবে কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া শুধু আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা এমন জালিয়াতি করতে পারে কিনা তাও তদন্ত করে দেখছে ডিবি পুলিশ।

সূত্র আরো জানায়, জাল এনআইডি তৈরি করার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে ইসির ডাটা এন্ট্রি অপারেটরসহ ৯ জন গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ও মামলার তদন্তে অপরাধী চক্রের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ, জমির জাল দলিলসহ নানা ধরনের অপরাধ করার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্তে কয়েকটি অসাধু সিন্ডিকেটের সদস্যরা জাল এনআইডি তৈরি ও ব্যবহার করে অপরাধ করে বেড়ানোর তথ্যও বেরিয়ে এসেছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডের ডি-ব্লক এলাকা থেকে দুই ইসি কর্মীসহ এনআইডি জালিয়াতি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে দ্বৈত, জাল ও নকল ১২টি এনআইডি উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বাইরের দুটি জেলা থেকে আরো ৪ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। গেস্খফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তারা যে সংস্থার লোকই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। ৩টি তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন। বর্তমানে ডিজিটাল স্বাক্ষরের পাশাপাশি ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং আইরিশ স্ক্যান যুক্ত করা হয়েছে। অতীতের অনিয়মের থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে নির্বাচন কমিশন কঠোর হস্তে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম দূর করছে। ফলে এখন চাইলেও অনিয়ম করা সম্ভব হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

জামালপুরে আরো ৭৭৫ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘পাকা ঘর’

হাফিজুর রহমান: জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন (২য় পর্যায়) ৭৭৫টি পরিবারকে ০২ শতাংশ জমিসহ ঘরের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি...

প্রয়াত সাংবাদিক আনোয়ারের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিলেন জামালপুরের ডিসি মোর্শেদা জামান

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরে প্রয়াত সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আনু’র পরিবারের কাছে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দিলেন জামালপুরের সুযোগ্য মানবিক জেলা...

জামালপুরে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলোর যোগসুত্র স্থাপন বিষয়ক সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের মূল ¯্রােতধারায় নিয়ে আসার অঙ্গীকার সামনে রেখে বুধবার জামালপুরে সমমনা সংগঠনগুলোর...

জাতীয় মহিলা সংস্থার জামালপুরের চেয়ারম্যান হলেন আঞ্জুমনোয়ারা হেনা

নিজস্ব সংবাদদাতা: জামালপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঝাউগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঞ্জুমনোয়ারা বেগম হেনাকে চেয়ারম্যান মনোনীত করে...

Recent Comments