Thursday, June 30, 2022
Homeজাতীয়সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতায় দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্ন হচ্ছে

সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতায় দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্ন হচ্ছে

আ.জা. ডেক্স:

সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতায় দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘœ হচ্ছে। আর বিদ্যুৎ সরবরাহের এই দুর্বলতা কাটতে আরো কয়েক বছর সময় লাগবে। যদিও সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতা কাটাতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) গত এক দশকে ৫৪টি গ্রকল্প গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে মাত্র ২৫টি বাস্তবায়িত হয়েছে। আর চলমান রয়েছে ২১টি প্রকল্পের কাজ। তাছাড়া সংস্থাটি আরো ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। সেগুলোর মেয়াদ আগামী ২০২৮ সাল নাগাদশেষ হবে। চলমান ও পরিকল্পনাধীন প্রকল্পগুলো শেষ হলে দেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দুর্বলতা দূর হবে। তবে সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতা কাটাতে নেয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের রাইট অব ওয়ে প্রাপ্তিসহ সামগ্রিক প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পিজিসিবি ওসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে অন্তর্বতীকালীন কার্যক্রম এবং স্থায়ীভাবে দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারা দেশে সব মিলিয়ে ১৯৮টি গ্রিড উপকেন্দ্র রয়েছে, যার কনভারশন ক্ষমতা ৫২ হাজার ৬৭৯ এমভিএ। পিজিসিবি ৩৩ কেভি উপকেন্দ্র পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ দিয়ে থাকে। যার সক্ষমতা ২৭ হাজার ৫১৬ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে পিজিসিবির সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ১২ হাজার ৯৭৬ কিলোমিটার। বিতরণ সংস্থা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছাতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা নিরসনে পিজিসিবি বর্তমানে ২১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হবে। বাস্তবায়ন শেষে বর্তমান সক্ষমতার সঙ্গে আরো নতুন ১১৭টি গ্রিড উপকেন্দ্র সংযুক্ত হবে এবং ৮ হাজার সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মিত হবে। তাছাড়া ২০২৮ সালকে টার্গেট করে আরো ৮টি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, দেশে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের বিষয়টি পিজিসিবির একক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোয় বেশকিছু বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করলেও পিজিসিবির কাছেই সঞ্চালন ব্যবস্থার সার্বিক কর্তৃত্ব। চলমান কভিড পরিস্থিতিতে ওসব প্রকল্পের অধিকাংশই স্থবির হয়ে পড়েছিল। কভিডকালে বিদেশী কর্মীদের প্রকল্প এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাসহ নানা কারণে ওই সংকট প্রলম্বিত হয়েছে। তবে শুধু কভিডের কারণে নয়, ওসব প্রকল্পে শুরু থেকেই ধীরগতিতে কাজ চলছে। প্রকল্পের সমীক্ষা যাচাই, পরামর্শক নিয়োগ, দরপত্র আহŸান ও ঠিকাদার নির্বাচনেই নির্ধারিত সময়ের সিংহভাগ চলে গেছে।

সূত্র আরো জানায়, ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনাকসা সীমান্ত থেকে রহমনপুর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ ২০২২ সালে শেষ হবে। আর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিভিন্ন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ ২০২৩ সালের আগস্টেশেষ হবে। তাছাড়া কক্সবাজারে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণ করা সঞ্চালন লাইনটি আগামী বছরের মার্চে শেষ হবে। আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ পটুয়াখালী থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য পটুয়াখালী-পায়রা সঞ্চালন লাইন চালু করার কথা রয়েছে। আর আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণাধীন সঞ্চালনের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত এক যুগে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট বেড়েছে। আর ওই সময়ে ১২২টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সক্ষমতা ও চাহিদার বিপরীতে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা যায়নি। বিদ্যমান সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রভাব বিদ্যুতের সরবরাহে পড়ছে। ফলে এখনো বিদ্যুৎ খাতে অনুন্নত সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কারণে প্রায় ৯ শতাংশ সিস্টেম লস হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হলেও সঞ্চালন ব্যবস্থা সেভাবে উন্নত করা যায়নি। এর বড় প্রতিবন্ধকতা বিদ্যুতের জেনারেশনে যেমন অর্থায়ন পাওয়া যায়, ট্রান্সমিশনে অর্থায়ন সেভাবে পাওয়া যায় না। তাছাড়া ট্রান্সমিশনে বড় জটিলতা হলো জমি অধিগ্রহণ। সেটা করতেই বহু সময় লেগে যায়। তাছাড়া সঞ্চালন খাতের কোম্পানির সংখ্যাও সীমিত। সঞ্চালন ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে হলে সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অব.) জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পিজিসিবির প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটার লাইন এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পুল পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণে যে সমস্যা হয় তা নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত থাকে না। কিন্তু এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সমস্যা দেখা দেয়। এর কারণ সেচ মৌসুম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উপকূলীয় এলাকার সমস্যা, গ্রামগঞ্জে ছড়ানো-ছিটানো লাইন, সিস্টেম দুর্বলতা, পুরনো প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়।

সার্বিক বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ওসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আশা করা যায় ২০২৪ সাল নাগাদ সঞ্চালন লাইনের সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে। ফলে বিতরণ ব্যবস্থার অনেকখানিই উন্নতি হবে। তবে ভালোর তো শেষ নেই। সেজন্য বিতরণ লাইন মেরামতসহ আরো ভালো সেবা দিতে নতুন নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments