Wednesday, June 29, 2022
Homeখেলাধুলাসমতায় ফিরলেন দক্ষিণ আফ্রিকা

সমতায় ফিরলেন দক্ষিণ আফ্রিকা

আ.জা. স্পোর্টস:

একই মাঠ, ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে আরেকটি ম্যাচ, দক্ষিণ আফ্রিকার পুঁজিও প্রায় একই। কিন্তু বদলে গেল ম্যাচের ফল। বদলে দিলেন আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা। জর্জ লিন্ডা, কাগিসো রাবাদা, তাবরাইজ শামসিরা ডানা ছেটে দিলেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের। আগের দিন ১৬০ রানের পুঁজি নিয়ে উড়ে যাওয়া দল এবার ১৬৬ রান নিয়ে পেল দারুণ জয়ের দেখা। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ১৬ রানে। নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে প্রোটিয়াদের প্রথম জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। গ্রেনাডায় রোববার বাভুমা ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দেন সামনে থেকেই। ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন তিনি ৩৩ বলে। তবে ১০ ওভারে ৯৫ রান তুলেও দক্ষিণ আফ্রিকা পথ হারায় পরে। ২০ ওভারে করতে পারে কেবল ১৬৬। প্রথম ম্যাচে ১৫ ওভারেই ১৬০ টপকে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার ব্যাটিং ধসের পর ২০ ওভার খেলে যেতে পারে ১৫০ পর্যন্ত। ক্যারিবিয়ানদের বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইন আপকে নিষ্ক্রিয় রাখার মূল কারিগর দুই বাঁহাতি স্পিনার জর্জ লিন্ডা ও তাবরাইজ শামসি। ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা লিন্ডা। টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার শামসি ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে নেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডের উইকেট। একটু খরুচে হলেও আগ্রাসী বোলিংয়ে বড় ভ‚মিকা রাখেন রাবাদাও। টপ অর্ডারে আন্দ্রে ফ্লেচার ও ক্রিস গেইলের উইকেটের পর শেষ দিকে তার শিকার ডোয়াইন ব্রাভো।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। রিজা হেনড্রিকস ও কুইন্টন ডি কক দলকে এনে দেন দারুণ শুরু। পাওয়ার প্লেতে উইকেট না হারিয়ে দুজন তোলেন ৬৯ রান। ৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ডি ককের বিদায়ে। দুটি করে চার-ছক্কায় ২৬ রান করে আউট হন তিনি অফ স্পিনার কেভিন সিনক্লেয়ারকে প্যাডল শট খেলতে গিয়ে। এরপর হেনড্রিকস ও বাভুমা এগিয়ে নেন দলকে। কিন্তু ফিফটির আশা জাগিয়েও পারেননি দুজন। ৩০ বলে ৪২ করে হেনড্রিকস ফেরেন সিনক্লেয়ারের বলেই। এরপর উইকেট পড়তে থাকে নিয়মিত, কমতে থাকে রানের গতি। একটা সময় দুইশ রানের আশায় থাকা দল আস্তে আস্তে পিছিয়ে পড়ে। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ করে আউট হয়ে যান বাভুমা।৮ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৭ ওভার শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ করতে পারে আর মোটে ৪৪ রান! ক্যারিবিয়ান বাঁহাতি পেসার ওবেড ম্যাককয় দারুণ বোলিংয়ে ৩ উইকেট নেন কেবল ২৫ রান দিয়ে। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এই রান খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল না। তবে প্রোটিয়া বোলাররা যথেষ্ট প্রমাণ করে ছাড়েন এই স্কোরকেই। ফ্লেচার ও এভিন লুইস যদিও শুরুটা আবারও করেছিলেন ঝড়ো। তবে এবার টিকতে পারেননি দুজন। লুইসকে ১৪৪ কিলোমিটার গতির বলে বোল্ড করে দেন আনরিক নরকিয়া। আগের ম্যাচের নায়ক এবার ফেরেন ১৬ বলে ২১ করে। পরের ওভারে রাবাদা দ্রুত ফেরান তিনে নামা গেইলকে। মিডল অর্ডারে চেপে ধরেন স্পিনাররা। ৭০ রানে ৫ উইকেট হারায় ক্যারিবিয়ানরা। দীর্ঘক্ষণ এক প্রান্ত আগলে রেখে ফ্লেচার শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৩৫ রান করে বিদায় নেন। শেষ ৩ ওভারে যখন প্রয়োজন ৫৬ রান, কিছুটা বিনোদন উপহার দেয় আটে নামা ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের ঝড়ো ব্যাটিং। রাবাদার এক ওভারে দুটি ছক্কা মারেন তিনি, শেষ ওভারে লুঙ্গি এনগিডিকে মারেন তিন ছক্কায়। ৫ ছক্কায় তার ১২ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে কবে ব্যবধান। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ একই মাঠে, মঙ্গলবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৬৬/৭ (হেনড্রিকস ৪২, ডি কক ২৬, বাভুমা ৪৬, মিলার ১১, ফন ডার ডাসেন ২, ক্লাসেন ১০, লিন্ডা ৩, রাবাদা ৭, নরকিয়া ০; সিনক্লেয়ার ৪-০-২৩-২, অ্যালেন ৪-০-৩৫-০, হোল্ডার ৩-০-২৬-১, রাসেল ২-০-১৮-১, ম্যাককয় ৪-০-২৫-৩, ব্রাভো ৩-০-২৯-০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৫০/৯ (লুইস ২১, ফ্লেচার ৩৫, গেইল ৮, পুরান ৯, পোলার্ড ১, রাসেল ৫, হোল্ডার ২০, অ্যালেন ৩৪, ব্রাভো ১০, ম্যাককয় ১, সিনক্লেয়ার ০; লিন্ডা ৪-০-১৯-২, এনগিডি ৪-০-৪৯-১, রাবাদা ৪-০-৩৭-৩, নরকিয়া ৪-০-২৭-১, শামসি ৪-০-১৬-১)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজের দুটি শেষে ১-১ সমতা।
ম্যান অব দা ম্যাচ: জর্জ লিন্ডা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments