Saturday, November 28, 2020
Home জাতীয় সাইবার অপরাধের শিকার নারীদের সেবা দিতে পুলিশের পৃথক ইউনিট

সাইবার অপরাধের শিকার নারীদের সেবা দিতে পুলিশের পৃথক ইউনিট

আ.জা. ডেক্স:

ভার্চুয়াল জগতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিকসহ নানাভাবে সাইবার অপরাধের শিকার নারীদের সহায়তার জন্য ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ সেবা চালু করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে এই সেবার উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। পুলিশ জানায়, সাইবার জগতে সংঘটিত নারীর প্রতি হয়রানিমূলক অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আইনি সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (Police cyber support for women) নামে ফেসবুক পেজ, ইমেইল আইডি ও হটলাইন নম্বর চালু করেছে পুলিশ সদর দফতর। যেসব নারী সাইবার বুলিং, আইডি হ্যাক, স্পর্শকাতর তথ্য-ছবি-ভিডিও প্রকাশ, সাইবার জগতে যৌন হয়রানি ইত্যাদির শিকার হচ্ছেন তারাই এখানে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সম্পূর্ণ নিরাপত্তার বজায় রেখে এবং ভুক্তভোগীর তথ্য গোপন রেখে প্রয়োজনীয় সেবা ও আইনি সহায়তা দেবে পুলিশ সদর দফতর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, সাইবার ক্রাইম একটি বাউন্ডারিলেস ক্রাইম। সাধারণত দেশে ১৬ থেকে ২৪ বছরের নারীরা এই অপরাধে সবচেয়ে বেশি ভিকটিম হয়। সাইবার জগতের ৬৮ শতাংশ নারী সাইবার অপরাধের শিকার হন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখতে আমাদের এই উদ্যোগ। আমাদের এই ইউনিট এর বিশেষত্ব হলো এখানে যারা সেবা দেবেন, তদন্ত করবেন, তারা সবাই পুলিশের নারী সদস্য। যেখানে ভিকটিমরা নির্দ্বিধায় তাদের সমস্যাগুলো বলতে পারবেন। বেনজির আহমেদ আরও বলেন, সাইবার জগতে অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলছে। এখন পর্যন্ত সাইবার অ্যাক্টে ৬ হাজার ৯৯ টি মামলা হয়েছে। এই অপরাধগুলো নিয়ে ডিএমপি, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই কাজ করছে। সাইবার জগতের ঝুঁকি বিষয়ে সচেতন হয়েই এটি ব্যবহার করা উচিত। তারপরও যদি কোনো অনাকাক্সিক্ষত সমস্যা তৈরি হলে সে বিষয়ে আমরা কাজ করব। এ ক্ষেত্রে ভিকটিমের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করেই তাকে সেবা দেব আমরা।

বাংলাদেশের সাইবার আইনের প্রসঙ্গ টেনে বেনজীর আহমেদ বলেন, সাইবার, আইসিটি টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট দিয়েও এদের দৌরাত্ম্য রোধ করা যাচ্ছে না। সে কারণেই নতুন এই সাইবার স্পেস সাইটটি পুলিশের পক্ষ থেকে খোলা হলো। যেখানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে নারী পুলিশ সদস্যরা। যারা হয়রানি বা অপরাধের শিকার নারীদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের বিষয়ে আইনি পরামর্শ দেবে। এই সেবা পেতে প্রয়োজনে জাতীয় সেবা নম্বরে (৯৯৯) যোগাযোগ করা যাবে। প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো কিংবা সহায়তা চাওয়া নারীকে সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে আসা হবে। এদেশের শিশুরাও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে প্রসঙ্গ টেনে পুলিশপ্রধান আরও বলেন, তাদের মন-মানসিকতায় নানা প্রভাব ফেলছে। এ কারণে সম্প্রতি শান্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশের শিশু শাহাদাত হোসেনের সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ শিশুদের সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন শিশুদের এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে। অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে আইজিপি সাইবার উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

শেরপুর পৌরসভা যাদুঘর উদ্বোধন

শেরপুর প্রতিনিধি: দের শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ও প্রচীণ শেরপুর পৌরসভার আয়োজনে ‘শেরপুর পৌরসভা যাদুঘর’ উদ্বোধন করা হয়েছে।২৫ নভেম্বর...

ভ্যাকসিন আনার ব্যাপারে সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে: কাদের

আ.জা. ডেক্স: আন্তর্জাতিক বাজারে ভ্যাকসিন আসা মাত্রই বাংলাদেশের জনগণ যাতে সহজেই পায় সে ব্যাপারে সরকার সব প্রস্তুতি গ্রহণ...

চলে গেলেন নাট্য ব্যক্তিত্ব আলী যাকের

আ.জা. ডেক্স: বাংলাদেশের নন্দিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টা ৪০...

স্থানীয় দালাল ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গারা ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট করতে মরিয়া

আ.জা. ডেক্স: স্থানীয় দালাল ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় মিয়ানমারের সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট করতে মরিয়া...

Recent Comments