Friday, December 9, 2022
Homeজাতীয়সাক্ষীর অভাবে খালাস পেয়ে যাচ্ছে মানবপাচার মামলার আসামিরা

সাক্ষীর অভাবে খালাস পেয়ে যাচ্ছে মানবপাচার মামলার আসামিরা

আ.জা. ডেক্স:

সাক্ষীর অভাবে আদালত থেকে সহজেই খালাস পেয়ে যাচ্ছে মানবপাচারকারী মামলার আসামিরা। মানবপাচারের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ বাদে দেশের ৭ বিভাগেই মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারপর ২০২০ সালের ৯ মার্চ ঢাকায় মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্রুনাল গঠন করা হয়। আর ওই ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর আদালত ২৫২টি মামলার রায় ঘোষণা করে। তার মধ্যে ২৪৯টি মামলার আসামিই খালাস পেয়েছে। মূলত মানবপাচারের অধিকাংশ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণেই আদালত আসামিদের খালাস দেয়। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতে সমন জারি করার পরও তারা আদালতে উপস্থিত হয় না। ফলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে থামানো যাচ্ছে না মানবপাচার। মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মানবপাচার বল প্রয়োগের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ। যা মানুষের মুক্ত চলাচলের অধিকার হরণ করে। এটি মূলত নারী ও শিশু পাচারকেই ইঙ্গিত করে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী মানবপাচার মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং ওই অপরাধের শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা, অধিকার বাস্তবায়ন ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আইন প্রণীত হয়। ওই আইনে মানবপাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে। বিগত ২০২০ সালের ৯ মার্চ ঢাকায় মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। তার আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচার আইনের মামলার বিচার হতো। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৫২টি মামলার রায় ঘোষণা করে আদালত। তার মধ্যে ২৪৯টি মামলার আসামিদের খালাস দেয়া হয়েছে। মূলত অধিকাংশ মামলায় সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আসামিদের খালাস দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ৩টি মামলায় ৫ আসামিকে সাজা দিয়েছে আদালত। তার মধ্যে একজনের যাবজ্জীবন, ২ জনের ১৪ বছর, ২ জনের ১০ বছর ও একজনের ৭ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকার মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে এক হাজার ২২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সূত্র জানায়, মানবপাচার মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সব ধরনের প্রক্রিয়া ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও রাষ্ট্রপক্ষসাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয়। সাক্ষী উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষের ব্যর্থতার কোনো কোনো মামলা বছরের পর বছর বিচারাধীন থাকছে। যার কোন আইন বা যুক্তিসঙ্গত বিধান নেই। পারিপার্শ্বিক অবস্থায় আদালত কর্তৃক ফৌজদারি কার্যবিধি ২৬৫-এর এইচ ধারা মতে আসামিদের খালাস প্রদান ন্যায়সঙ্গত। তাছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক সাক্ষী উপস্থানে ব্যর্থতার কারণে একটি ফৌজদারি মামলাকে দীর্ঘদিন বিচারাধীন না রেখে আসামিদের খালাস প্রদানের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার বিধান রয়েছে।

এদিকে এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটররা বলছেন, মানবপাচার আইনের মামলাগুলো আদালতে আসার পর সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতে সমন পাঠানো হয়। সাক্ষীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তারপরও অধিকাংশ সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসে না। সাক্ষীদের উচিত আদালতে এসে সাক্ষ্য দেয়া। কারণ সাক্ষীর মাধ্যমেই আদালত মামলা প্রমাণ করেন। কিন্তু মানবপাচার আইনের অধিকাংশ মামলায় সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয় না। আর তারা আদালতে না আসায় অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। রাষ্ট্রপক্ষের উচিত সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করানো। সাক্ষীর মাধ্যমেই ন্যায়-অন্যায় প্রমাণ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments