Friday, September 17, 2021
Home জাতীয় সাগরে জোয়ার থাকলে বন্যা দীর্ঘায়িত হতে পারে

সাগরে জোয়ার থাকলে বন্যা দীর্ঘায়িত হতে পারে

আ.জা. ডেক্স:

সমুদ্রে জোয়ার না থাকলে আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের সব জায়গা থেকে বন্যার পানি নেমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। আর যদি জোয়ার থাকে, তাহলে দেশের মধ্যাঞ্চলের পানি কমতে কিছুটা দেরি হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যা দীর্ঘায়িত হলেও সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। গতকাল শনিবার সচিবালয় থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, এক মাস হয়ে গেল বন্যার। গত ২৬ জুন থেকে বন্যা শুরু হয়, ১১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফায় পানি বাড়ে এবং ২১ জুলাই থেকে তৃতীয় দফায় পানি বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস তুলে ধরে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ১৬টি জেলায় আরও দুই দিন বন্যার পানি বাড়বে। ২৭ জুলাই পর্যন্ত পানি বাড়ার পর আস্তে আস্তে কমতে শুরু করবে। ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুমদ্রে জোয়ার থাকলে মধ্যাঞ্চলের পানি কমতে বিলম্বিত হতে পারে। জোয়ার না থাকলে হয়ত আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের সব জায়গা থেকে পানি নেমে যেতে পারে। মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরিয়তপুর, ঢাকা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়া, জমালাপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল এবং নওগাঁ জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও দুই দিন অবনতি হবে, তারপর পানি কমতে থাকবে বলেও জানান তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যা পূর্বাভাসকেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে, এটা কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি বাড়তে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীর পানি কমছে। ঢাকা জেলার আশপাশের নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়তে পারে। বন্যায় ত্রাণ সহায়তা তদারকি করতে ছয়টি কমিটি করার কথা জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম মনিটরিং করবে। আগামী ২১ দিন তারা এই দায়িত্ব পালন করবে। এরা মাঠ পর্যায়ের যে কোনো সমস্যা সমাধান করবেন এবং যে কোনো চাহিদা পূরণে আমাদের জানাবেন, আমরা সে অনুযায়ী বরাদ্দ দেব।

তিনি বলেন, বন্যার্তদের জন্য গত ২৮ জুন থেকে ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিন কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা, ৫২ হাজার ১০ টন চাল, এক লাখ ২১ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট, গো-খাদ্য কিনতে এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং শিশু খাদ্য কিনতে আরও ৭০ লাখ টাকা দিয়েছি। কয়েক জায়গায় ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙে গেছে, সেগুলো নির্মাণের জন্য ৩০০ বান্ডিল টিন এবং ৯০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। দেশে ৩১টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। ১৪৭টি উপজেলায় আট লাখ ৬৫ হাজার ৮০০টি পরিবারের ৩৯ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এক হাজার ৫১৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেখানে ৮৮ হাজার ৬২ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান এনামুর রহমান। কোথাও কোনো ত্রাণের সংকট নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি বন্যাকবলিত দেশবাসীকে জানাতে চাই- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে সব সময় আছেন। তিনি সব সময় আমাদের কার্যক্রম তদারকি করছেন, আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন, আমরা তার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কাছে যেমন পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে, তেমনি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও পর্যাপ্ত মজুত আছে। ৩৩৩ নম্বরের সঙ্গে সকল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ট্যাগ করে দেয়া হয়েছে। কোথাও যদি কেউ খাদ্যে কষ্ট পায় ৩৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করলে সেখানে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

বন্যায় ত্রাণ বিতরণ মনিটরিংয়ের জন্য ছয়টি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা আমাদের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার থেকে সারাদেশে উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে। আগামী ২১ দিন তারা এ দায়িত্ব পালন ও মনিটিরং করবে। মাঠ পর্যায় থেকে যে কোনো সমস্যা সমাধান করবে এবং চাহিদা অনুযায়ী জানাবে, আমরা বরাদ্দ দেব। গত ২৮ জুন থেকে ত্রাণ বিতরণ ও বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজও আটটি জেলায় নতুন করে বরাদ্দ দিয়েছি। এ পর্যন্ত ৩১টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে এবং বন্যা উপদ্রুত উপজেলার সংখ্যা ১৪৭টি। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা আট লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭। আর এ পর্যন্ত ৩৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮৮ হাজার ৬২ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। ত্রাণ সহায়তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত তিন কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১২ হাজার ১০ মেট্রিকটন চাল, এক লাখ ২১ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং গবাদি পশুর খাদ্য কেনার জন্য এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা ও শিশুখাদ্যের জন্য ৭০ লাখ টাকা দিয়েছি। আর ঘর বানানোর জন্য ৩০০ বান্ডল টিন ও ৯০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বন্যা শেষ হওয়ার পর সেটা জানাব। বন্যা শেষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনা করে ক্ষতিপূরণ কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়।

বন্যা দীর্ঘায়িত হলে তা মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি রয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২১ দিনের জন্য প্রস্তুতি আছে। আগস্ট মাস পুরোটা থাকলে যে ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি, সেটা আমরা অব্যাহত রাখতে পারব, সে পরিমাণ সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। কোথাও ত্রাণের কোনো সংকট নাই। আমাদের কাছে যেমন পর্যাপ্ত মজুত আছে, তেমনি জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়েও পর্যাপ্ত মজুত আছে। আজ (গতকাল শনিবার) ব্রিফিংয়ের আগে বন্যা কবলিত সব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিশ্চিত করেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ময়মনসিংহে লোডশেডিং দেড়শ’ মেগাওয়াট : নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে মতবিনিময়

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ : দীর্ঘদিন পর লকডাউন তুলে নেয়ার পর ময়মনসিংহের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হলেও প্রতিদিন অসংখ্য বার...

ডিজিটালাইজেশনের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সচেতনতার অভাব: মোস্তাফা জব্বার

ময়মনসিংহ ব্যুরো : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটালাইজেশনের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সচেতনতার অভাব।জনগণকে ডিজিটাল প্রযুক্তির...

সরিষাবাড়ীতে নিখাই গ্রামে গণপাঠাগার উদ্বোধন

আসমাউল আসিফ: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, গ্রামে গ্রামে পাঠাগার’ এই শ্লোগানে সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের স্মৃতি বিজড়িত নিখাই...

সংক্রমন বেড়ে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি

আসমাউল আসিফ: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি বলেছেন, গত বছরের মার্চ মাস থেকে করোনা সংক্রমনের কারনে পাঠদান বন্ধ ছিল,...

Recent Comments