Wednesday, September 22, 2021
Home জাতীয় সিস্টেম লসের নামে অবাধে পানি চুরিতে বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

সিস্টেম লসের নামে অবাধে পানি চুরিতে বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

আ.জা. ডেক্স:

চট্টগ্রাম ওয়াসায় দীর্ঘদিন ধরেই সিস্টেম লসের নামে অবাধে পানি চুরির মচ্ছব চলছে। কোনোভাবেই তা বন্ধ হচ্ছে না। ফলে ওয়াসা প্রতি মাসেই বিপুল পরিমাণের রাজস্ব হারাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার গ্রাহক থেকে মিটারবিহীন গড় বিল আদায় করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি ওসব গ্রাহকদের মিটার প্রদান করায় সিস্টেম লস কিছুটা কম হচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ লাইনে লিকেজ ও অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পানি চুরির কারণে সিস্টেম লস কমছে না। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ সংযোগ প্রক্রিয়ায় ওয়াসার রাজস্ব বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত। তাছাড়া নগরীতে ব্যক্তি পর্যায়ে নলকূপগুলো লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে ওয়াসার রাজস্ব আয় অনেক বাড়তো। চট্টগ্রাম ওয়াসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চট্টগ্রাম ওয়াসায় নতুন পানি শোধনাগার চালুর ফলে পানি সরবরাহ অনেক বেড়েছে। ওয়াসার হিসাবে নগরীতে দৈনিক ৪২ কোটি লিটার পানির চাহিদা নির্ধারণ করা হলেও চাহিদা আরো বেশি। তবে চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে দৈনিক ৩৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এখনো নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় রেশনিংয়ের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় নিয়মিত পানি পাচ্ছে না। বিশেষ করে উঁচু এলাকায় পানি সঙ্কট বিরাজ করছে। তবে পানি সঙ্কট নিরসনে কর্ণফুলী পানি শোধনাগার (দ্বিতীয় পর্যায়) নামে নতুন আরেক প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সেটিতে এখন ট্রায়াল চলছে। তা থেকে নগরীতে দৈনিক আরো ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির সিস্টেম লস ৩০ শতাংশের ওপরে থাকলেও বর্তমানে তা কিছুটা সিস্টেম লস কমে ২৭ থেকে ২৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। আর ওয়াসার পানি সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি চুরিও বাড়ছে। বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৭২ হাজার পানির সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে নতুন করে সংযোগ দেয়া হচ্ছে। মিটার রিডাররা গ্রাহক পর্যায়ে রিডিং সংগ্রহ করে বিল তৈরি করে থাকে। মিটার রিডারের স্থায়ী ৬০টি পদের মধ্যে ৪৩ জন কর্মরত রয়েছে। অথচ সংস্থাটির রাজস্ব আয় বাড়াতে মিটার রিডার পদে জনবল বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ স্বল্প জনবল দিয়ে সকল গ্রাহকের মিটার থেকে রিডিং সংগ্রহ করে বিল তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনুমান নির্ভর বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের স্তূপ জমেছে। প্রতিদিনই অনেক গ্রাহক ভুয়া বিল নিয়ে ওয়াসায় ভিড় করছে। পাশাপাশি ওয়াসার রাজস্ব শাখার জনবলের যোগসাজশে রিডিং কমানোর জন্য মিটার টেম্পারিং করার অভিযোগও রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে ওয়াসায় প্রতি মাসে প্রায় ১৪ কোটি টাকা পানির বিলিং হয়ে থাকে। পানির বিলের অর্থই ওয়াসার আয়ের প্রধান উৎস। নগরীতে ব্যক্তি পর্যায়ে নলকূপ বসাতে গেলে ওয়াসা থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু নগরীতে পানি সঙ্কটের কারণে ব্যক্তিপর্যায়ে লাইসেন্সবিহীন হাজারো নলকূপ রয়েছে। আর ওয়াসার লাইসেন্সপ্রাপ্ত নলকূপ রয়েছে সাড়ে ৪ হাজার। ফলে নলকূপগুলোকে লাইসেন্সের আওয়তায় আনা গেলে রাজস্ব আয় অনেক বাড়ানো সম্ভব হতো। তবে সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। তাছাড়া ব্যাপক হারে নলকূপের কারণে নগরীতে পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম জানান, সিস্টেম লসের কারণ চিহ্নিতকরণ ও বকেয়া আদায়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি কাজ করছে। ইতিমধ্যে কিছু করণীয় ঠিক করা হয়েছে। আর খেলাপি গ্রাহকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য নোটিশ দেয়া হচ্ছে। সাড়া না মিললে মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে সিস্টেম লস কমে এখন প্রায় ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে এ ব্যাপারে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ জানান, এখনো পুরনো পাইপ লাইনে পানি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। তাতে পানি লিকেজ ও অবৈধ সংযোগের কারণে সিস্টেম লস হচ্ছে। সিস্টেম লস প্রতি মাসে উঠানামা করছে। নতুন পাইপ লাইন হয়ে গেলে সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আর মিটার রিডারের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ময়মনসিংহে লোডশেডিং দেড়শ’ মেগাওয়াট : নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে মতবিনিময়

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ : দীর্ঘদিন পর লকডাউন তুলে নেয়ার পর ময়মনসিংহের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হলেও প্রতিদিন অসংখ্য বার...

ডিজিটালাইজেশনের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সচেতনতার অভাব: মোস্তাফা জব্বার

ময়মনসিংহ ব্যুরো : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটালাইজেশনের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সচেতনতার অভাব।জনগণকে ডিজিটাল প্রযুক্তির...

সরিষাবাড়ীতে নিখাই গ্রামে গণপাঠাগার উদ্বোধন

আসমাউল আসিফ: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, গ্রামে গ্রামে পাঠাগার’ এই শ্লোগানে সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের স্মৃতি বিজড়িত নিখাই...

সংক্রমন বেড়ে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি

আসমাউল আসিফ: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি বলেছেন, গত বছরের মার্চ মাস থেকে করোনা সংক্রমনের কারনে পাঠদান বন্ধ ছিল,...

Recent Comments