Wednesday, June 29, 2022
Homeজাতীয়সুযোগ-সুবিধা না বাড়ায় এবং প্রণোদনা বঞ্চনায় স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে

সুযোগ-সুবিধা না বাড়ায় এবং প্রণোদনা বঞ্চনায় স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে

আ.জা. ডেক্স:

জীবন বাজি রেখে করোনা মোকাবেলা স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে ৮ হাজার ২২৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ১৫৬ জন চিকিৎসক। অথচ জীবন বাজি রেখে করোনা রোগীদের সেবা দেয়ার পরও ওসব স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। এমনকি প্রণোদনা থেকেও বঞ্চিত বেশির ভাগ স্বাস্থ্য পেশাজীবী। এমন অবস্থায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনার নতুন ঢেউ এলে তা মোকাবেলা করা মুশকিল হয়ে যাবে স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নানা অপ্রাপ্তির মধ্যেও কভিড-১৯ রোগীদের সরাসরি সেবা দিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। অনেক সময় নিজেদের উদ্যোগেই তারা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে নিয়েছে। নিজেরা সংক্রমিত হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তবু তারা থেমে থাকেনি। যদিও তারা কোনো সুবিধা বা প্রণোদনা পাওয়ার আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবার কাজ করেনি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার ঘোষণা আসার পরও তা না পাওয়া বা তালিকায় নাম না থাকার কারণে অনেক স্বাস্থ্যকর্মীই হতাশ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের আশঙ্কা, করোনার আরেকটি ঢেউ এলে তা সামাল দেয়ার মনোবল অনেকেরই হয়তো আর অবশিষ্ট থাকবে না।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ৭ এপ্রিল করোনা মহামারীতে চিকিৎসাসেবায় জড়িতদের উৎসাহ দিতে বিশেষ প্রণোদনার কথা ঘোষণা করেন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে যারা কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করছে তাদের পুরষ্কৃত করার কথা জানান। মূলত সরকার তাদের উৎসাহ দিতেই বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের সময় কেউ কভিড-১৯ সংক্রমিত হলে তার জন্য ৫-১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্য বীমার কথা এবং করোনা সংক্রমিত হয়ে মারা গেলে ৫ গুণ স্বাস্থ্য বীমা দেয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গত বছরের জুনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনার চিকিৎসা দেয়া চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রণোদনা দিতে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যদের নামের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়। সেজন্য বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিঠি পাঠিয়ে তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একাধিকবার যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করার কথা জানায়। তবে ওই তালিকা অনুযায়ী এখনো চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনা পায়নি। তারপর অর্থ মন্ত্রণালয় আবার জুলাইয়ে এককালীন বিশেষ সম্মানী দেয়ার কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগের করা এক পরিপত্রে বলা হয়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকার এককালীন বিশেষ সম্মানী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ সম্মানীর আওতায় শুধু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এককালীন দুই মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। সেটির জন্যও এখনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হয়নি। ফলে গুটিকয়েক স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া বেশির ভাগই ওই বিশেষ সম্মানী পায়নি।

এদিকে এ বিষয়ে বিএমএর মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চেšধুরী জানান, চিকিৎসকসহ অন্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা করোনা সংক্রমিতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেরা সংক্রমিত হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা যেমন নিজেরা আক্রান্ত হয়েছে, তেমনি তাদের পরিবারের অনেকেই সংক্রমিত হয়েছে। অনেকের পরিবারে অনেক সদস্য মারাও গিয়েছে। এতো ঝুঁকির মধ্যেও পেশাগত নৈতিকতা, দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর আহŸানের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করে গেছে এবং এখনো দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের পরও চিকিৎসকরা প্রণোদনার টাকা পায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতায় এমনটা হয়েছে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অদিধপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমাম জানান, প্রণোদনার বিষয়ে কাজ চলছে। এটা সত্য চিকিৎসক, নার্স অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্লান্ত। তাদের মধ্যে সংক্রমণের হারও অনেক। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিকিৎসকদের বিভিন্নভাবে, মিটিংয়ের মাধ্যমে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য দুই মাসের এককালীন প্রণোদনার বরাদ্দ হয়েছে। তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে যে তালিকা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments