Friday, September 30, 2022
Homeজামালপুর৪ বছরেও কাজ শেষ হয়নি, দুর্ভোগে ১০ লাখ মানুষ

৪ বছরেও কাজ শেষ হয়নি, দুর্ভোগে ১০ লাখ মানুষ

নন্দীর বাজার-বকশীগঞ্জ-রৌমারী আঞ্চলিক সড়কের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। এদিকে অব্যাহত খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। বেহাল সড়কটিতে ছোট-বড় হাজারো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তিন জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ।

২০১৮ সালের শেরপুরের নন্দীরবাজার মোড় থেকে বকশীগঞ্জ হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ৩৭৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্প একনেক সভায় পাস হয়। দরপত্র আহ্বানের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন, তূর্ণা এন্টারপ্রাইজ, ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন, ইনস্পেক্টা ইঞ্জিনিয়ারিং ও এমএম বিল্ডার্স কাজ পায়। এর মধ্যে নন্দীর বাজার থেকে ১৫ কিলোমিটার ও বকশীগঞ্জ থেকে কামালপুর হয়ে আরও ১৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স। এমএম বিল্ডার্সের পাওয়া ৩০ কিলোমিটার সড়কের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। একই সালের আগস্টে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়। দরপত্রে শর্তানুযায়ী দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলে দীর্ঘ চার বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স।


প্রকল্পের সময় বাড়ানো হলেও শেষ হয়নি শেরপুর-জামালপুর-রৌমারী সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ। ৫৯ কিলোমিটার প্রকল্পটির ২৯ কিলোমিটার সড়কের কাজের অগ্রগতি হলেও এখনও বেহাল নন্দীর বাজার থেকে ঝগড়ারচর ও বকশীগঞ্জ থেকে ধানুয়া কামালপুর হয়ে রৌমারী সড়ক। কাজের দায়িত্বে থাকা এমএম বিল্ডার্স গত চার বছরে ৩০ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ৪০ ভাগ কাজ শেষ করতে পেরেছে। জামালপুর সড়ক বিভাগ থেকে একাধিকবার কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হলেও গুরুত্ব দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। বাধ্য হয়ে এমএম বিল্ডার্সের চুক্তি বাতিল করে দুই মাস আগে আবার দরপত্র আহ্বান করে সড়ক বিভাগ। পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে এমএম বিল্ডার্সের পাওয়া ৩০ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন ও মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং। তমা কনস্ট্রাকশন ও মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং চলতি মাস থেকেই কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। এদিকে দেড় বছরের কাজ চার বছরেও শেষ না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

অপরদিকে দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় ভাঙাচোরা বেহাল সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী, রাজিবপুর উপজেলা, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও শেরপুর জেলার ঝগড়ারচর, কামারেরচরসহ সড়কে চলাচলকারী লাখো মানুষ।


এ ব্যাপারে কামালপুর এলাকার বাসিন্দা সরকারি কেইউ কলেজের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান, মনিরা বেগম, ঝাউডাঙ্গা এলাকার শিক্ষার্থী হিরা মনি, কবিতা ও দীপা জানান, রাস্তা ভালো না থাকায় সময়মত যানবাহন পাওয়া যায় না। এতে আমরা সঠিক সময়ে কলেজে যেতে পারি না। অনেক সময় অটোরিকশা-ভ্যান উল্টে গিয়ে আমাদের জামা কাপড় নষ্ট হয়।

রৌমারী থেকে ঢাকাগামী সিয়াম পরিবহনের চালক বাবুল মিয়া বলেন, আমার মনে হয় দেশের কোথাও এতো খারাপ সড়ক আর নেই। রৌমারী থেকে বকশীগঞ্জ মাত্র ৪০ কিলোমিটার রাস্তা। ৪০ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। এছাড়া সড়কের গর্তে অনেক সময় আটকে যায় গাড়ি। এতে গাড়ির ক্ষতি হয় ও যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়।



জামালপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে.বিএম সাদ্দাম হোসেন বলেন, দুই ভাগে ৩০ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় এমএম বিল্ডার্স। সময় মতো কাজ শেষ না করায় তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন ও মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ পেয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে কিছু জটিলতা ছিল। এখন সব ঠিকঠাক আছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments