Saturday, February 4, 2023
Homeজামালপুর৭ডিসেম্বর ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

৭ডিসেম্বর ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

ওসমান হারুনী: জামালপুরের ইসলামপুরে ৭ডিসেম্বর পাক-হানাদার বাহিনী মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিজয় র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই উপলক্ষে ৭ডিসেম্বর সকালে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হাসান রুমানের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে একটি বিজয় র‌্যালী বের শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাবেক ইসলামপুর উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিকুল ইসলাম মানিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন ডিহিদার স্বাধীনসহ স্হানীয় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, একাত্তরের এই দিনে বাংলার অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন জালাল কোম্পানির কমান্ডার প্রয়াত শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা নুরুজ্জামান,বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান ও ইউনুস আলীসহ অনেকে জানান, ১৯৭১সালের ৭ডিসেম্বর হাজার মুক্তিকামী ছাত্র জনতা আনন্দ উল্লাশের মধ্যে দিয়ে থানা চত্বরে জালাল কোম্পানির কমান্ডার প্রয়াত শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন স্বাধীনতার প্রথম বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। আজ এই দিনটি ইসলামপুর বাসীর জন্য অত্যান্ত গৌরবের দিন।
উপজেলার উত্তর দরিয়াবাদ ফকিরপাড়ার সন্তান প্রয়াত জালাল কোম্পানি কমান্ডার বীর সন্তান শাহ্ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে জয় বাংলা মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মুজাহিদ সদস্য ও অন্যান্য লোকজনদের নিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে মহেন্দ্রগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে স্থাপিত প্রাথমিক রিক্রুট মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগদান করেন।
১১নম্বর সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন পেশার লোকজনদের নিয়ে জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়। সেক্টর কমান্ডার এর নির্দেশে কোম্পানির যোদ্ধাদের নিয়ে ইসলামপুর সিরাজাবাদ এলাকার বহ্ম্রপুত্র নদীর পাড়ে মাদারি ছন আখ ক্ষেত নামক স্থানে একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সেখানে থ্রিউরিক্যাল ও প্যাক্টিক্যাল প্রশিক্ষণ প্রদানসহ গেরিলা যুদ্ধ চালানো হয়। জালালের নাম অনুসারে জালাল বাহিনী নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রতিদিন জালাল বাহিনী নিয়ে পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের স্থাপনা আক্রমণ করেন। মুক্তিযোদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে জালাল বাহিনী ইসলামপুরের পাক হানাদার বাহিনী ক্যাম্প দখলে প্রস্তুতির উদ্দেশে ৬ডিসেম্বর দুপুর পলবান্ধা ইউনিয়নের পশ্চিম বাহাদুরপুর পাইমারী স্কুল মাঠ সংলগ্ন ইসলামপুর সিরাজাবাদ সড়কে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা চার ভাগ হয়ে এক প্লাটুন থানা পরিষদের উত্তর পশ্চিম কোণে ঋষিপাড়া রেল ক্রসিং এলাকা, ২ নম্বর প্লাটুনকে সর্দার পাড়া অস্টমিটেক খেয়া ঘাট সংলগ্ন বহ্ম্রপুত্র নদের দক্ষিণ পাড় ইসলামপুর-সিরাজাবাদ সড়ক এলাকায়, ৩নম্বর প্লাটুনকে থানার পূর্ব পাশে পাকা মুড়ি মোড় বর্তমানে ইসলামপুর হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কে এবং ৪ নম্বর রিজার্ভ প্লাটুনকে পশ্চিম বাহাদুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন উত্তর পাশে অবস্থান নেয়।
ওইদিন দুপুর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত একটানা যুদ্ধ হয়। হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাগুলিতে টিকতে না পেরে অস্ত্র গোলাবারুদ এবং অন্যান্য জিনিস পত্র ফেলে আকর্ষিক রণে ভঙ্গ দিয়ে বিশেষ ট্রেনে জামালপুরের দিকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় ঝিনাই ব্রিজসহ তিনটি রেল ব্রিজ ধ্বংস করে জামালপুর পর্যন্ত আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
অতঃপর ৭ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে থানা প্রসাশন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ হাজার মুক্তিকামী ছাত্র জনতা আনন্দ উল্লাশের মধ্যে দিয়ে থানা চত্বরে জালাল কোম্পানির কমান্ডার প্রয়াত শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন স্বাধীনতার প্রথম বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই সাথে ইসলামপুরের মাটি শত্রুমুক্ত হয়। স্বাধীনতার প্রথম বিজয় পতাকা উত্তোলনকারী স্পেশাল জালাল কোম্পানি কমান্ডার শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ২০১৭সালের ২৭আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments