Saturday, August 13, 2022
Homeদেশজুড়েজেলার খবর৭ দিনে তিস্তার পেটে আড়াই শতাধিক বসতবাড়ি

৭ দিনে তিস্তার পেটে আড়াই শতাধিক বসতবাড়ি

হঠাৎ করালগ্রাসী তিস্তা নদীর ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় চিলমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলাধীন হরিপুর ইউনিয়নের লকিয়ারপাড়া, পাড়াসাদুয়া, মাদারিপাড়া, চরমাদারিপাড়া ও কারেন্টবাজার এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ওই এলাকায় গত এক সপ্তাহে প্রায় আড়াই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কয়েকটি গ্রামসহ শত শত একর আবাদি জমি। তিস্তায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত থাকলেও নীরব ভূমিকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সোমবার সরেজমিন, ভাঙনকবলিত লকিয়ারপাড়া, পাড়াসাদুয়া, মাদারিপাড়া, চরমাদারিপাড়া ও কারেন্টবাজার এলাকায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে নদীতীরবর্তী মানুষের আর্তনাদে। তিস্তা নদীর তাণ্ডব লীলায় লকিয়ারপাড়া গ্রামের ৩০টি বাড়ি, পাড়াসাদুয়া গ্রামের ৫০টি বাড়ি, মাদারিপাড়া গ্রামের ৫০টি বাড়ি এবং চরমাদারিপাড়া ও কারেন্টবাজার এলাকার ১২০টি বাড়িসহ মোট প্রায় ২৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। হঠাৎ করে নদীগর্ভে বাড়ি ভিটে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদীতীরবর্তী অনেক মানুষ। কোনো রকমে তাদের বাড়িঘর ও গাছপালাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ সময় ওই এলাকায় বাঁশঝাড়, কবরস্থান, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছপালা, বাড়ি-ভিটেসহ আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, গত সাত দিন থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দেয় নদীভাঙনের তাণ্ডবলীলা। কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্তত ২৫০ জনের বাড়ি-ভিটেসহ আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তিস্তায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত থাকলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

৫নং পাড়াসাদুয়া ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোস্তফা আলী জানান, তার ওয়ার্ডসহ লকিয়ারপাড়া থেকে কারেন্টবাজার পর্যন্ত গত পাঁচ দিনে অন্তত ২৫০টি পরিবার ভিটেবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। আরও কত বাড়ি নদীতে যাবে তাই নিয়ে তিনি চিন্তিত।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কাশিমবাজার ও পাড়াসাদুয়া এলাকা পরিদর্শন করে ওপরে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে কাজ ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হবে। তবে কারেন্টবাজার এলাকায় ১ কিমি ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিওব্যাগের বরাদ্দ এসেছে। বালুভর্তি জিওব্যাগ গণনা শেষে নদীতে ফেলা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গণনা শেষে জিওব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments