বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধনসহ নানান কর্মসূচিতে যোগ দিতে আজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই কর্মসূচি ঘিরে টাঙ্গাইল শহরে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। তার আগমন ঘিরে টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, গতকাল সোমবার সকালে সরকারের কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে প্রস্তুত করা হচ্ছে টাঙ্গাইলের দুটি হ্যালিপ্যাড। শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম, পৌরউদ্যান, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক নতুন করে সাজানো হচ্ছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। সাড়ে ১০টায় জেলা স্টেডিয়ামে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সেখানে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ভাষণ শেষে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এদিকে, প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ। স্টেডিয়ামে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলবাসী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন। টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার গোড়াই থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করা হবে। আমরা খুব আনন্দিত। ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের প্রস্তুতি দেখতে এসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘‘কৃষক কার্ড’’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি দিনে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিধন্য টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়া জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি এবং নবান্নের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের এই কার্যক্রম টাঙ্গাইল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সর্বপ্রথম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ পূর্বপাড়া ব্লকের এক হাজার ৪৫৩ জন কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই তাদের তালিকা করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত এই কৃষকদের মধ্যে কিছু সংখ্যক কৃষকের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড তুলে দেবেন। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তারেক রহমান টাঙ্গাইলে নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন।
আজ টাঙ্গাইলে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’
