এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কেন্দ্র সচিবদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার সই করা নির্দেশনা গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সচিবদের কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনাগুলো হলো- অনিয়মিত/মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারিতে/থানা লকারের ট্রাংকে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের বিবরণী তালিকা ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইকালে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। প্রশ্নপত্রের দুই সেট করে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী সেট পরীক্ষার তারিখ অনুসারে সেটভিত্তিক আলাদা করে সিকিউরিটি খামে প্যাকেট করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইয়ের দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তারিখভিত্তিক প্রশ্নপ্রত্রের প্যাকেট সাজিয়ে সিকিউরিটি খামের গাম লাগিয়ে এবং কার্টুন টেপে যথাযথভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে। সিকিউরিটি খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড অবশ্যই লিখতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে অবহেলা বলে গণ্য হবে। ট্রেজারি থেকে পরীক্ষার দিনগুলোতে ট্রেজারি অফিসারের কাছ থেকে ওই দিনের প্রশ্নপত্রের সিকিউরিটি খাম সৃজনশীল দুই সেট ও বহুনির্বাচনী এক সেট গ্রহণ করতে হবে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে থানা/ট্রেজারি থেকে ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রহরাসহ প্রশ্নপত্রের প্যাকেট কেন্দ্রে আনতে হবে। মোবাইল ফোনে সেট কোডের এসএমএস পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার, পুলিশ অফিসারকে প্রদর্শনের পর সেট কোড নিশ্চিত হয়ে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে এবং অন্য সেটের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকজাত করতে হবে। অব্যবহৃত সেটের প্রশ্নপত্রের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সেট কোডের পরিবর্তে অন্য কোনো সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছবি তোলা যায় না এমন মোবাইল ফোন কেন্দ্র সচিব ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুজন করে দায়িত্ব পালন করবেন। পাঁচ ফুট/ছয় ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট লম্বা বেঞ্চে একজনের আসন ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এর ব্যতিক্রম করা যাবে না। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষে অবশ্যই প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময়ের পর কোনো পরীক্ষার্থী এলে কেন্দ্র সচিব বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতায় রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে বোর্ডে রেজিস্টার খাতাটি জমা দিতে হবে। পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করতে হবে, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশ পথের দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে। কেন্দ্র সচিবরা তার কেন্দ্রের আওতাভুক্ত বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রবেশপত্র প্রতিটি বিদ্যালয় প্রধানের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন। পরীক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা যাবে না। শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যতীত অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্র সচিবের কক্ষে প্যাকেট খোলাসহ সব কাজের সঙ্গে ট্যাগ অফিসারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। ট্যাগ অফিসারের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্র সচিব কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থা করবেন। পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট তারিখ ও বিষয় লাল কালি দ্বারা অনুপস্থিত লিখে দিতে হবে। নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষার সময়সূচি মোতাবেক পরীক্ষা নিতে হবে। উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখার স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালাকৃত অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহন কাজে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। পুরাতন ও নতুন সিলেবাস অনুসারে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নতুন ও পুরাতন সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না। উত্তরপত্রের প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অতিরিক্ত কিছু লেখা থাকলে তার জন্য কেন্দ্র সচিব দায়ী থাকবেন। প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেট আলাদা হবে। পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই প্রবেশপত্র গ্রহণের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যালয়ের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে এবং সময়সূচিতে যেদিন পরীক্ষা নেই সেদিন নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা যাবে। পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সেজন্য কেন্দ্র সচিব দায়ী থাকবেন। পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের টয়লেটসমূহ তল্লাশি করাতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা ফেলে দিতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং প্রত্যবেক্ষক ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে অন্য কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।
এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু করতে কেন্দ্র সচিবদের জরুরি নির্দেশনা
