জাতিকে বর্তমান দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে দায়ভার এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এ সেমিনারের আয়োজন করে। নাহিদ ইসলাম বলেন, গতকাল (রোববার) ১০ জন শিশু মারা গেছে হাম দুর্যোগের কারণে। সারাদেশে হাহাকার, আইসিইউ পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। এবং তেল সংকটের কথা আপনারা সবাই জানেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য গত ১৬ বছর যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা আমরা বলেছি, লড়াই করেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত দেড় বছরে যেই জিনিস নিয়ে আমরা আলাপ করেছি, এখন আমাদেরকে ঠিক সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। সেই বিষয় নিয়ে আলাপ করতে হচ্ছে, সেই বিষয় নিয়ে আবার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। জাতিকে এ দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। ফলে বিএনপিকে দায়ভার এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর পরিণতি খুব সহজ হবে না। তিনি বলেন, গণঅভ্যত্থানের অন্যতম দাবি ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ হবে। একটা নতুন বন্দোবস্ত হবে, যেখানে স্বৈরাচার বারবার ফিরে আসবে না। এজন্যই সংস্কার এবং রাষ্ট্র মেরামতের দাবি যে ফ্যাসিবাদকে বিলোপ করা সম্ভব হবে বলে আমরা একমত হয়েছিলাম। ফলে আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের বিলোপ, আমরা চেয়েছিলাম নতুন সংবিধান, বিএনপি চেয়েছিল নির্বাচন। ফলে একটা সমঝতায় আসা হলো ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সে সংসদ হলো সংস্কার। আমরা নতুন সংবিধান গণপরিষদের দাবি থেকে আমরা সংস্কার পরিষদের জায়গায় ঐকমত্য হলাম। বিএনপিও নির্বাচনের জায়গা থেকে কিছুটা সরে এসে অনেকগুলো সংস্কারে ঐকমত্যে হলো বাধ্য হলো। সেই জায়গা থেকেই গণভোট হলো। কিন্তু গণভোট পরবর্তী সময় আপনারা সবকিছুই দেখছেন যে কীভাবে গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে। বিএনপি এখন একটা কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, তারা বলছে জুলাই সনদ তারা অক্ষর অক্ষরে পালন করবে, কিন্তু জুলাই আদেশটা অবৈধ। যে জুলাই আদেশের ভিত্তিতে গণভোট তৈরি হয়েছিল, গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল তারা সেটার বিরোধিতা করছে। কারণ তারা জুলাই সনদকে তারা তাদের নিজেদের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে এবং এ সংকট তৈরি করেছিল বলেই তখন গণভোটের প্রস্তাব এসেছিল এবং গণভোটের মাধ্যমে এটাও বলা হয়েছিল যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ করা হবে। কারণ এই যে মৌলিক সংস্কারগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, সংসদীয় সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে সরকার দেশে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম করতে চাচ্ছে। তারা জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। সেমিনারে সারোয়ার তুষার সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দলের মাত্র ৭৮ জন সংসদ সদস্য থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কার ইস্যুতে তারা সোচ্চার। অথচ দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা নীরব। আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে একের পর এক অসত্য তথ্য দিচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীরা দেখিয়েছেন তিনি অন্তত ১০-১৫টি বিষয়ে জাতিকে ভুল তথ্য দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারের এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবচেয়ে ব্যর্থ। তিনি নিজের মন্ত্রণালয়ের খবর না রেখে ক্রীড়া থেকে স্বাস্থ্য সব বিষয়ে উত্তর দিচ্ছেন। অথচ গত দুই মাসে দলীয় কোন্দলে ৩০ জনের বেশি বিএনপি নেতা-কর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি নিজেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনে করলেও প্রতি পদে ভুল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তার এই ‘মাস্টারি’ করার স্পর্ধা পুরো জাতির জন্য অপমানজনক। বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে সফল বিএনপি, আর বিএনপি হচ্ছে ব্যর্থ আওয়ামী লীগ। বিএনপি যে রাস্তা দেখিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সেই পথেই সফলভাবে স্বৈরতন্ত্র চালিয়েছে। বিএনপি নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেই পড়েছে। এখন শুনছি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বাংকার ও টানেল করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বাংকার করে কোনো লাভ হবে না। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপ জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কথা বললেও সরকারপক্ষ নির্বাক জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে খাওয়ার মতো এই যে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের চক্রান্ত, তা ১১ দলীয় জোট ও দেশের জনগণ সফল হতে দেবে না। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
জাতিকে দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম
