জামালপুরে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, একে অপরকে দুষছে বিএনপি-জামায়াত

জামালপুরে মোট ভোট কেন্দ্রের ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৩৪ শতাংশ। জামালপুরের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ঘিরে একে অপরকে দুষছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের ৭ উপজেলা, ৮ পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ৬২৩টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১২২টি, ঝুঁকিপূর্ণ ২১২টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ২৮৯টি। জেলাতে সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে সদর-৫ আসনে, মোট ১৬১টি। আর সবচেয়ে কম ভোটকেন্দ্র জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ী আসনে মাত্র ৮৮টি। ঝুঁকির দিক থেকেও এগিয়ে সদর আসন। এখানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৫টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫টি।

এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীরা। আর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও দলটির নেতাকর্মীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়ছে। এতে বৃদ্ধি পেয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে রাজনৈতিক নেতারা।

জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক গাউছুল আজম শাহীন বলেন, ‘আমরা মনে করি আওয়ামী লীগের হাতে যে অস্ত্র আছে এই অস্ত্র নিয়ে তারা মাঠে নামতে পারে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য তারা সবই করতে পারে।’

জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর-৫ আসনের প্রার্থী ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ‘আমরা সবসময় একটি কথা বলে থাকি। জামায়াতে ইসলাম একসময় গুপ্ত রাজনীতি করেছে। তাদের যদি গুপ্ত কোনো পরিকল্পনা থাকে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে শঙ্কিত বা শঙ্কা থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি।’

জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সরিষাবাড়ী-৪ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে বিএনপির পরাজয় যে নিশ্চিত এটা তারা নিজেরা উপলব্ধি করতে পারছে। কাজেই এই পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করার মতো ধৈর্য শক্তি তাদের মধ্যে নাই। তার কারণে অতীতে যারা একই কাজ করেছেন ফ্যাসিবাদী কায়দায়। ওই একই কাজ আমাদের বন্ধু প্রতিম সংগঠন করার চেষ্টা করছে একই কায়দায়। এটি খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। এদের জন্য কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ।’

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা দলগুলোর। আর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, ‘একটা জিনিস ভেরি লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। এবার যে অস্ত্রবাজি করা, কেন্দ্র দখল করা। এগুলো আমাদের ভুলে যেতে হবে। একদম সোজা হিসাব; এ ধরনের কেউ যদি চিন্তা ভাবনা করে। এটা তার বাজে চিন্তা এটা দূর স্বপ্ন। আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আছি।’

জামালপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. ইউসূপ আলী বলেন, ‘আমাদের যে কেন্দ্রগুলো আছে, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তাসহ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। সে কার্যক্রম ইতোমধ্যে আমরা শুরু করেছি। মাঠে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ব্যাটালিয়ন, আনসারসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত থাকবেন। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে জামালপুর সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে।’

জামালপুরে পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্রসহ কয়েকটি দলের ৩১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই প্রার্থীদের ভোট দিবেন ২১ লাখ ১২ হাজার ১৮৭ জন ভোটার।