রাকিবুল হাসান রিফাত : ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন স্টেশন হচ্ছে জামালপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশন। ১৮৯৪ সালের ৩ নভেম্বর এই স্টেশনটি ঢাকা এবং নারায়নগঞ্জের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। প্রতিদিন দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট এবং জামালপুর সরিষাবাড়ী হয়ে -বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব লাইনের সংযোগস্থল,যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
জামালপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায় প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ হাজার যাত্রী এই স্টেশন থেকে জামালপুর -ঢাকা, জামালপুর-সরিষাবাড়ী হয়ে ভোয়াপুর ও জামালপুর- দেওয়ানগঞ্জে যাতায়াত করে। সূত্র আরো জানায়, ময়মনসিংহ থেকে বিদ্যাগঞ্জ,আঠারোবাড়ী, পিয়ারপুর,নরুন্দি, নান্দিনা হয়ে জামালপুর এবং জামালপুর হতে কেন্দুয়া, ভাটারা হয়ে সরিষাবাড়ী এবং জামালপুর হতে কম্বোপুর কোট স্টেশন, মেলান্দহ, ধুরমুঠ, ইসলামপুর,দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি অঞ্চলের যাত্রীদের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম লোকাল ট্রেন।
এসব এলাকার জনসাধারণ মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও নানা শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত এ ট্রেনে যাতায়াত করে বিভিন্ন প্রয়োজনে অল্প সময়ের স্বল্প খরচে প্রতিনিয়ত জেলা শহর জামালপুরে আসেন। সম্প্রতি সময়ে লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে আছে যাত্রীরা। রেল কর্তৃপক্ষ লোকাল ট্রেন ৩৫৪/৩৫৫ চালু রাখার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেনটি প্রতিদিন চলার কথা থাকলেও প্রায়ই তা চলাচল করে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নিত্য দিনের যাত্রী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ’রা। বিকল্প হিসেবে অনেকেই বেশি ভাড়া দিয়ে বাস বা সিএনজি চালিত অটোরিকশা ব্যবহার করছেন। বাসে যাতায়াতের কারণে জ্যামের মধ্যে পড়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনেও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে এতে করে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
নরুন্দীগামী শিক্ষার্থী রাহাত হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ট্রেনে যাতায়াতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। হঠাৎ করে লোকাল ট্রেন না থাকায় সড়ক পথে চলাচল তাদের জন্য কষ্টকর ও ব্যয় সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।
শ্রীপুরগামী যাত্রী বাদশা মিয়া বলেন, তার গ্রামের বাড়ি কেন্দুয়ায় হলেও সেখানে লোকাল ট্রেন না থাকায় এবং আন্তঃনগর ট্রেনগুলো কেন্দুয়ায় যাত্রা বিরতি না দেওয়ায় তাকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় জামালপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশনে এসে ট্রেন যাত্রা করতে হয়।
এদিকে স্টেশনের মুদি দোকানি ও ছোট বড় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্টেশনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম জানান, লোকাল ট্রেন বন্ধ বা অনিয়মিত থাকায় স্টেশনে যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত লোকাল ট্রেনের নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জামালপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) মো. আখতার হোসেন সেখ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনের ইঞ্জিন সংকটের কারণে জামালপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশন থেকে চলাচলকারী ধলেশ্বরী ট্রেন ও লোকাল ট্রেন ৩৫৫/৩৫৬সহ বেশ কয়েকটি ট্রেন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইঞ্জিনের অভাবে কিছু লোকাল ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখতে হয়েছে। নতুন ইঞ্জিন সংযোজন করা হলে বন্ধ থাকা লোকাল ট্রেনগুলোর নিয়মিত যাতায়াত পুনরায় স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এদিকে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ও সেবার মান নিশ্চিত করতে স্টেশন কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে বলেও জানান তিনি। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ ও রেলওয়ের ঘোষণার প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জামালপুরে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকটের কারণে ধলেশ্বরী ও লোকাল ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন সাময়িকভাবে বন্ধ ॥ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
