এম.এ রফিক ; জামালপুর সদর উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ফলনের শেষ সময়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মৌচাষীরা । সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের মোহডাঙ্গা গ্রামে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসছেন বিভিন্ন জেলার মৌচাষিরা। এ বিষয়ে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এবার সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু আহরণও আশানুরূপ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৌচাষিরা। এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌ বাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব মৌ বাক্স থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার কেজি মধু আহরিত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। কেন্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা দিগন্ত জানান, সরিষা ফুল আসার আগে থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে মৌচাষিরা গ্রামে মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন। তারা সাথে নিয়ে এসেছে মৌবাক্স এসব বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় সাড়ে ২০০ কেজির মতো মধু পাওয়া যাচ্ছে। ওইসব বাক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে। মধু সংগ্রহের জন্য স্টিল ও কাঠ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বাক্স। যার ওপরের অংশটা মোড়ানো কালো রঙের পলিথিন ও চট দিয়ে। বক্সের ভেতরে কাঠের তৈরি আটটি ফ্রেমের সঙ্গে মোম দিয়ে বানানো এক ধরনের সিট বিশেষ কায়দায় লাগানো থাকে। পরে বাক্সগুলো সরিষা ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। পাশাপাশি বাক্সগুলোর ভেতরে দেওয়া হয় রানি মৌমাছি। যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি। রানির আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে প্রায় তিন হাজারের মতো পুরুষ মৌমাছি থাকে একেকটি বাক্সে। মৌমাছিতে টইটুম্বুর বাক্সগুলো সরিষা ক্ষেতের লাগোয়া স্থানে সারিবদ্ধভাবে রেখে দেওয়া হয়। এরপর সেই সব বাক্স থেকে সরিষা ক্ষেতের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চলে আসে বাক্সে প্রশিক্ষিত মৌমাছিরা। এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে প্রায় ২ হাজার কৃষককে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ, অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা ও উদ্বুদ্ধকরণের ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে। এছাড়া বাক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে এসব সরিষা ফুল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌ বাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব মৌ বাক্স থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার কেজি মধু আহরিত হয়েছে। প্রতি কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে।
তিনি জানান, সরিষা ফুল থেকে সংগ্রহ করা মধু গুণে ও মানে অত্যন্ত ভালো। সরিষা ফুলের মধুতে কোনো প্রকার ভেজাল থাকে না। একেবারে খাঁটি। আর এভাবে অনেকটা সহজ প্রক্রিয়ার মধু আহরণের মাধ্যমে বাড়তি আয় করতে পারেন সংশ্লিষ্টরা। উপ সহকারী কৃষি কর্মকতা মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির বিচরণ থাকায় ফুলের পরাগায়নে সহায়তা হয়, ফলে সরিষার ফলনও হয় বেশি। প্রতি বছরই ৩৫-৪৫ ভাগ জমিতে মৌবাক্স স্থাপন করা হয়। সরিষার বাজার ভালো থাকায় চাষিদের ও মৌ বাক্স স্থাপনকারীদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
জামালপুরে শেষ সময়ে সরিষার মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষীরা
