মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ায় সরকারি কর্মীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নীতি চালু করা হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোতে এই নীতি কার্যকর হবে। স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা শিগগিরই জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। খবর এএফপির। মালয়েশিয়ায় জ্বালানিতে ভর্তুকি থাকায় সাধারণ নাগরিকরা প্রতি লিটার পেট্রোল মাত্র ১.৯৯ রিঙ্গিত দামে কিনতে পারেন। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং ইরানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির মাসিক কোটা ৩০০ লিটার থেকে কমিয়ে ২০০ লিটার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হবে। এদিকে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান জানিয়েছেন, পেট্রোনাস, সাপুরা এনার্জি ও এমআইএসসির তেলবাহী জাহাজগুলো প্রণালি পার হওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক বলেন, এসব জাহাজ ইরান আরোপিত সম্ভাব্য কোনো শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেবে। এর আগে মালয়েশিয়ার তেলবাহী জাহাজ ও নাবিকদের দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়ার জন্য এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান।
জ্বালানি সংকটে মালয়েশিয়ায় সরকারি কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ঘোষণা
