দেওয়ানগঞ্জে জিলবাংলা চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু

রুহুলআমিন : গতকাল শুক্রবার বিগত ৬৭ বছরে পুঞ্জিভূত ৭শ’কোটি টাকার ওপরে লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের জিলবাংলা চিনিকলটি ৬৮তম মাড়াই মৌসুম শুরু হয়েছে। ৮০ কার্য দিবসে ৭১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ৯০০ মে:টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ০০ শতাংশ।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩ টায় চিনি কলের ডোঙ্গায় আখ নিক্ষেপ করে ২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয় এর অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বে) রশিদুল হাসান।
চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো.কাওছার আলী সরকার বলেন, ৫ হাজার ১০ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার একর। ১০ একর জমিতে বেশী আখ চাষ করা হয়েছে। এবার আখের ফলন ভালো হয়েছে। আখে রোগ- বালাই ও পোকার আক্রমণও কম হয়েছে। চিনি কলটি এবার মাড়াই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে বলে আমরা আশা করছি।
১৯৫৮ সালে চিনিকলটি পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করে। চিনি কলটি’র মাড়াই ক্ষমতা ১০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু শুধু আখের অভাবে কোন কোন মাড়াই মৌসুমে চিনিকলটি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়, আবার কোনো কোনো মাড়াই মৌসুমে অধিক আখ মাড়াই করেও চিনি কলটি লোকসান দেয়। বিগত ৬৭টি মাড়াই মৌসুমের মধ্যে লাভের মুখ দেখেছে মাত্র ১৮টি মৌসুমে। আর লোকসান দিয়েছে ৪৯টি মৌসুমে। ত্রুটিপূর্ণ চিনি শিল্পনীতি, আখ কেনার সঙ্গে চিনি বিক্রয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় এবং ছোট ছোট রিফাইনারি চিনি শিল্পের গেরাকলের কারণে চিনিকলটি লোকশানের অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।
এদিকে চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারীরা সরকার ঘোষিত এই লাভ ক্ষতির হিসাব মানতে রাজি নয়। তারা বলেন, আজ থেকে ৬৭ বছর আগে চিনিকলটি স্থাপনে ব্যয় হয়েছিল আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা। অথচ জিলবাংলা চিনিকল এ পর্যন্ত সরকারকে শুধুমাত্র ১৯৭৯ সাল থেকে সড়ক উন্নয়ন খাতে চিনিকলটি ব্যয় করেছে ৯.৬৯ কোটি টাকা আর স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করেছে ৬৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানটি লোকসানি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।