পহেলা বৈশাখ উদযাপন মূলত কৃষকের সংস্কৃতি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই বাংলা নববর্ষের প্রকৃত চেতনা প্রকাশ পায়। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-তে চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩২ উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে লোকশিল্প প্রদর্শনী, বৈশাখী মেলা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। মন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ আসলে কৃষকের সংস্কৃতি। এদেশের মানুষ একসময় নিজের মাটিতেই স্বাবলম্বী ছিল। নানা ঐতিহাসিক কারণে আমরা পিছিয়ে গেলেও সঠিক নেতৃত্বে আবারও সেই গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব। উদ্বোধনী দিনে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবনে লোকশিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। পরে উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে ৫০ জন শিল্পীর অংশগ্রহণে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠসহ বিভিন্ন পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্যও পরিবেশিত হয়। দিনশেষে মঞ্চস্থ হয় যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নূরুল ইসলাম মনি। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। জানা গেছে, ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। পহেলা বৈশাখের দিন বিকাল থেকে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। থাকবে শোভাযাত্রা, শতকণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনা, কবিগান, গাজীর গান, গম্ভীরা, বাউল গান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা এবং তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীতানুষ্ঠান। শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসব সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
পহেলা বৈশাখ আসলে কৃষকের সংস্কৃতি: সংস্কৃতিমন্ত্রী
