প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য শীর্ষক সেমিনার

নিজস্ব সংবাদদাতা : জামালপুরে প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলস্রোতধারায় অন্তর্ভুক্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য’শীর্ষক অনুষ্ঠিত হয়।
গতকালমঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রোকোনুল ইসলাম।
সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবু ইলিয়াস মল্লিক।
সেমিনারে অন্যান্যের মাঝে আলেচনীয় অংশ নেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সানোয়ার হোসেন, জামালপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ স্বাগত সাহা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কামরুন্নাহার, গণমাধ্যমকর্মী মোঃ খোরশেদ আলম, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রিনা বেগম, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নাছিমা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন।
কর্মসূচির তাৎপর্য তুল ধরে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক বলেন, এটা অনস্বীকার্য যে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বহনে সরকারি সহায়তা প্রদানের ফলে প্রতিবন্ধী শিশু এবং তাদের পরিবার শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার আন্তর্জাতিক ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৪ ও ৫ পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সকল পর্যায়ে সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। সর্বোপরি, এই কর্মসূচির দরুণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা তার সক্ষমতা অনুযায়ী বিকশিত হবার সুযোগ লাভ করছে।
ধারণাপত্র থেকে চারটি ফলাফল ও তাৎপর্য জানা যায়।
১। শিক্ষা প্রবেশাধিকারে সহায়তা: অর্থনৈতিক কারণে বহু প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষাজীবনে প্রবেশ করতে পারে না বা মাঝপথে ছিটকে পড়ে। উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রাথমিক খরচ, যেমন বই-খাতা-কলম, ইউনিফর্ম, ও যাতায়াত ইত্যাদির ব্যয় নির্বাহ সহজ হয়, ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
২। সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধি: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের দরুণ প্রতিবন্ধী শিশুরা আত্মাবিশ্বাসী হচ্ছে এবং সমাজে তাদের নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ পেয়ে সমাজে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে, সমাজে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার হ্রাস পাচ্ছে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটছে।
৩। সামাজিকীকরণ: নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মেলামেশার দরুণ প্রতিবন্ধী সামাজিক দক্ষতা ও প্রজ্ঞা অর্জন করছে, যা পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসাবে বিকশিত হবার ভিত্তি।
৪। আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন: জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সনদ (টঘঈজচউ) এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এর (ঝউএ)-এর লক্ষ্যমাত্রা ৪.৫ এর আওতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্র“তি রক্ষায় সক্ষম হচ্ছে।